এফবিসিসিআইর প্রতিক্রিয়া
বাজেট বড় হলেও বাস্তবায়নযোগ্য
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৭:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার বড় হলেও তা বাস্তবায়নযোগ্য বলে মনে করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। তবে বিশাল বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দূরদর্শিতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এফবিসিসিআই এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
এফবিসিসিআই বলেছে, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে যাত্রার জন্য বাজেটের আকার অবাস্তব নয়। তবে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাকে সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে এফবিসিসিআই। সংগঠনটি মনে করে, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সংস্কার আনা জরুরি।
এফবিসিসিআইর মতে, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার অতিরিক্ত ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। স্থানীয় ব্যাংকের পরিবর্তে যতটা সম্ভব সুলভ সুদে বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়নের দিকে নজর দেওয়া উচিত।
বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সহজ করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়েছে এফবিসিসিআই। শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে আগাম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন– চাল, ডাল, তেল ও মসলা আমদানিতে কর কমানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। স্টার্টআপ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কর অব্যাহতি এবং বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাবকেও স্বাগত জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ ও দক্ষ জনশক্তি গড়ার লক্ষ্যে ল্যাপটপ, ডেস্কটপসহ কম্পিউটার সামগ্রী আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাবকে সরকারের একটি ‘অনন্য প্রয়াস’ হিসেবে অভিহিত করেছে এফবিসিসিআই। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎসাহিত করতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ করহার এবং ইলেকট্রিক যানবাহন আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাবকে প্রশংসনীয় বলেছে সংগঠনটি।
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় করমুক্ত আয়ের সীমা তিন লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হলেও বর্তমান মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় আরও বাড়ানো এবং সর্বোচ্চ করহার ৩৫ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই। রডসহ নির্মাণসামগ্রীর ওপর ভ্যাট বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে নির্মাণশিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে এফসিসিআই।
- বিষয় :
- বাজেট
