ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

বিনিয়োগ বাধা কমাতে অস্থায়ী লাইসেন্স দেওয়ার কথা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

বিনিয়োগ বাধা কমাতে অস্থায়ী লাইসেন্স দেওয়ার কথা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ১৯:১০ | আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ | ১৯:১৪

দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য অস্থায়ী (প্রভিশনাল) লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

রোববার সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)-এর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের যাতে একটি দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরতে না হয়, সে জন্য কেন্দ্রীয় অনলাইনভিত্তিক ‘ওয়ান-স্টপ উইন্ডো’ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, কোনো শিল্পকারখানা বা ভৌত স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়া অবকাঠামোগত বাস্তবতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সব ক্ষেত্রে ১৫ দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। কারণ এসব স্থাপনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং পরিবেশগত বিষয়সহ বিভিন্ন দিক যাচাই করতে হয়। ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনের মাধ্যমে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করবে। তবে বিনিয়োগ কার্যক্রম যাতে অনুমোদন-জটের কারণে বিলম্বিত না হয়, সে জন্য সরকার অস্থায়ী বা প্রভিশনাল লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা প্রাথমিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে পারবেন বলে তিনি জানান।

অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময়সীমা কমিয়ে আনার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে একটি রূপরেখা নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে খাতভিত্তিক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণের কাজ চলছে। কারণ বিভিন্ন খাতের জন্য অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ধরন ভিন্ন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া টেক্সটাইল কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়া থেকে স্বাভাবিকভাবেই আলাদা।

কারখানা পরিদর্শন ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরিদর্শন কার্যক্রম সমন্বয় করা হবে। বিডা পরিদর্শনের সময়সূচি নির্ধারণ করবে, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একত্র করবে এবং একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় একবারেই পরিদর্শন সম্পন্ন করা হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের বারবার বিভিন্ন সংস্থার কাছে যেতে হবে না।

বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে আরও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার দিকে এগোতে চায়। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট দেখিয়ে দিয়েছে যে ডিজেল ও পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল এবং সংকটকালে সরবরাহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের পরিবহন খাতকে ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যেতে সরকার আগ্রহী। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভায়ও ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তবে বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত নয়। তাই বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার আপাতত প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির আমদানি ও ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেবে।

সভায় জেবিসিসিআই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্প স্থাপন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার সহজীকরণ এবং টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে বিনিয়োগকারীরা অনলাইনে একটি প্ল্যাটফর্মে ক্লিক করেই প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন। সময়, ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। 

সভায় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিরও প্রশংসা করেন জেবিসিসিআই নেতারা। তাদের মতে, এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করবে।

আরও পড়ুন

×