কঠিন শর্তে আইএমএফের কোনো ঋণ নেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী
বিএসইসি আয়োজিত বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:১৪ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:২১
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কঠিন শর্ত মেনে কোনো ঋণ নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, বিদেশি সংস্থার শর্তযুক্ত ঋণের ওপর নির্ভর করে দেশ চালানোর প্রচলিত সংস্কৃতি থেকে তাঁর সরকার বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। রোববার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আয়োজিত বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আগের সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজের বদলে আইএমএফের কাছে চার থেকে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের আলোচনা চলছে। গত জুলাই মাসে আইএমএফের একটি মিশন এ বিষয়ে ঢাকায় আসে। মিশনটি ওয়াশিংটন ফিরে জানায়, সর্বশেষ ঋণ প্রস্তাব নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন সংস্কার শর্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে চূড়ান্ত হয়নি।
রোববারের অনুষ্ঠানে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফের কঠিন শর্তযুক্ত ঋণের ওপর নির্ভর না করে তাদের আগের কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। নতুন কর্মসূচি কঠিন শর্তযুক্ত হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি এভাবে মন্তব্য করেন, ‘বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ বা এডিবি টাকা দেবে আর আমরা দেশ চালাবো- এই ধারায় আমরা পরিবর্তন আনছি।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন বিলিয়ন ডলার। দাতাদের দেওয়া সীমিত অর্থ দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের প্রয়োজন বিলিয়ন ডলার, যা আমরা আন্তর্জাতিক ক্যাপিটাল মার্কেট থেকে সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করছি। আন্তর্জাতিক এবং নিজস্ব পুঁজিবাজারকে কাজে লাগিয়ে নতুন আর্থিক কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে।’
সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতকেও অর্থায়ন পরিকল্পনা বদলানোর তাগিদ দেন আমীর খসরু। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের উচ্চ সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া উচিত নয়। ব্যবসার মূলধনী খরচ কমাতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারমুখী হতে হবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, যমুনা সেতুর মতো বড় অবকাঠামোয় সিকিউরিটাইজেশনের দিকে যাচ্ছে সরকার। বিমান কেনা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে সরকার কেন জনগণের করের টাকা দেবে। ব্যবসায়ীদের পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।
পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘উদ্ধার অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে পুঁজিবাজারের সঠিক নীতি সহায়তা না থাকায় সবাই উচ্চ সুদের ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে ব্যাংকিং খাতে স্বল্পমেয়াদি আমানত দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা দূর করে ব্যবসায়িক খরচ কমাতে পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে ফিরে আসতে হবে।
তিনি জানান, ওয়াল স্ট্রিটসহ বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ নিয়ে নতুন করে আস্থা ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংগ্রহের অংশ হিসেবে নিউইয়র্কে ‘ডলার বন্ড’, হংকংয়ে বাংলাদেশ ডেডিকেটেড ফান্ড, পান্ডা ও সামুরাই বন্ড এবং স্থানীয় কারেন্সি বন্ড প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুঁজিবাজারে সুশাসন ও স্বচ্ছতা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, বিএসইসি, আইডিআরএ (ইনস্যুরেন্স অথরিটি) এবং ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলকে একসাথে নিয়ে একটি সমন্বিত ও স্বনিয়ন্ত্রিত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গণি এবং বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিনসহ অর্থ খাত ও পুঁজিবাজারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
- বিষয় :
- অর্থমন্ত্রী