ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিক্রিয়া 

এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা বৃদ্ধি রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য বড় সাফল্য 

এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা বৃদ্ধি রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য বড় সাফল্য 
×
×

মাহমুদ হাসান খান

মাহমুদ হাসান খান

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:১০

জাতিসংঘের  সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুতির সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এটাকে আমরা রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য একটা বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছি। এই সাফল্য আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। সরকারের পক্ষ থেকে বেশ জোরালো পদক্ষেপ ছিল। উত্তরণ পেছাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে জাতিসংঘের মহাসচিবের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি লিখেছেন। 

বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে আমরাও সরকারকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছিলাম। উত্তরণ পেছানো না  হলে কি অসুবিধা হতে পারে–সেগুলো সরকারের নীতিনির্ধারি পর্যায়ে অবহিত করে আসছিলাম নিয়মিত। সেটা আমরা গত অর্ন্তবর্তী সরকারের সময় থেকেই শুরু করেছিলাম। অন্যান্য অংশীজনও এ বিষয়ে সহায়তা করেছে। সেকারণে এই অর্জনকে আমি সম্মিলিত প্রয়াস বলছি। এখন  এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে আগামী তিন বছরের মধ্যে সফল এবং টেকসই  উত্তরণ নিশ্চিত করতে হবে। এবারও সরকার এবং বেসরকারি খাত ও  সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশিজনদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সফল ও টেকসই উত্তরণের জন্য কিছু উদ্যোগ চলমান আছে। এগুলোকে ত্বরান্বিত করতে হবে। 

সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া মসৃণ উত্তরণ কৌশল (এসটিএস) নেওয়া হয়েছে। এতে এলডিসি তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণকালীন এবং উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রণীত জাতীয় কৌশলগত রূপরেখা–সেটাকে শতভাগ কাজে লাগাতে হবে। এই কৌশল শতভাগ কার্যকর না গেলে আন্তর্জাতিক যেসব বিশেষ সুবিধা যেমন, পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে  শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা বা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নমনীয় সুদে ঋণসহায়তা পাওয়া এসব সুযোগ ক্রমে সংকুচিত হবে। 

তিন বছরের মধ্যে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে মসৃণ করা, সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারগুলো সুসংহত করা না গেলে সামনে বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। তবে আমি মনে করি, সে রকম কিছু হবে না। এসটিএসের কার্যক্রমে সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাত থেকে বিজিএমইএ গুরুত্বপূর্ণ অংশিদার হিসেবে কাজ করছে। বাণিজ্য মন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতি মাসে বৈঠকে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনা  হয়, সমালোচনাও হয়। আশা করি ৩ বছরের প্রস্তুতিকালে মসৃণ ও টেকসই উত্তরণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হবে বাংলাদেশ। 

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন

আরও পড়ুন

×