পথ ওই প্রতিরোধেই
×
মযহারুল ইসলাম বাবলা
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩:৫৩
বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত সরকারের ফ্যাসিবাদী ভূমিকা বা তৎপরতা নতুন কিছু নয়। ইতিহাসের নানা বাঁকে বাঁকে ঘটে যাওয়া নির্মম-নৃশংস অজস্র ঘটনার প্রমাণ রয়েছে তথাকথিত বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাধীন সরকারের শাসনামলে। বিশ্বের সবচেয়ে নজিরবিহীন ঘৃণিত ঘটনার জন্ম দিয়েছিল নাৎসি হিটলার, মুসোলিনী।
আমাদের নিকট প্রতিবেশী বৃহৎ ভারতের জাতীয় সংসদে সংখ্যাধিক্যের কর্তৃত্ববাদী সরকার একের পর এক জনবিরোধী, সংখ্যালঘুবিরোধী কালাকানুন আরোপ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নজিরবিহীন নিষ্ঠুরতার নজির সৃষ্টি করেছে। জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করে রাজ্যটিকে দ্বিখণ্ডিত করে সেনাশাসন জারি করেছে। কাশ্মীরে আরোপ করা হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ)। এই আইনে সরকার তাদের মর্জিমাফিক দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে কোন অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে সংবাদ দশ দিন পর্যন্ত পুলিশ জানাতে বাধ্য নয়। আটক ব্যক্তিকে টানা এক বছর বিনা বিচারে কারাগারে রাখতে পারবে। গত বছরের ৫ আগস্ট ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে বিভাজন ও সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের সময় অবরুদ্ধ কাশ্মীরে এই আইন জারি করা হয়েছিল। সম্প্রতি ওই একই আইনে ভারতের রাজধানী দিল্লি পর্যন্ত আওতাভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯৮০ সালের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের তিন নম্বর ধারার তিন নম্বর উপধারায় যে ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে, দিল্লির উপরাজ্যপাল অনিল বাইজাল তা প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিন মাসের জন্য ওই ক্ষমতা দিল্লি পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা যায়, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী আন্দোলন ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভ দমনে সরকার এই আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই নির্দেশ নতুন কিছু নয়। প্রতি তিন মাস অন্তর এই নির্দেশ জারি করা হয়। গত বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই ক্ষমতা দিল্লি পুলিশকে দেওয়া হয়েছিল, যদিও ওই আইন প্রয়োগ করা হয়নি। ওই আইনের ক্ষমতাবলে পুলিশ কমিশনার অথবা জেলা প্রশাসক যে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও আটক রাখতে পারেন। ১৯ জানুয়ারি থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাস দিল্লিতে জাতীয় নিরাপত্তা আইন বলবৎ থাকার কথা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এনআরসি ও সিএএ নিয়ে মোদি সরকার এখন ঘরে-বাইরে বিপদের মধ্যেই আছে। একদিকে বিরোধী দলের চাপ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাস করা ওই ঘৃণিত আইনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে। নিরঙ্কুশ ক্ষমতাবান বিজেপি সরকার এ নিয়ে মহাবিপদের মধ্যেই রয়েছে। তারা না পারছে এনআরসি এবং সিএএ বাতিল করতে, না পারছে বাস্তবায়ন করতে। অন্যদিকে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত সরকারের ইচ্ছা পূরণে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনপিআর) তৈরির ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ দেয়নি। সুপ্রিম কোর্ট জানান, কেন্দ্রের মতামত না জেনে তাদের পক্ষে স্থগিতাদেশ দেওয়া সম্ভব নয়। এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সর্বমোট ১৪৪টি আবেদন পড়েছে। সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে ১৪৪টি আবেদন সম্পর্কে জবাবদিহি করতে চার সপ্তাহের সময় দিয়েছেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে আর কোনো আবেদন আদালতে গ্রহণ করা হবে না বলেও সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছেন। ভারতব্যাপী সর্বসাধারণের বিক্ষোভ দমনে সরকার রাষ্ট্রের পেটুয়া বাহিনী লেলিয়েও আশানুরূপ সাফল্য পাচ্ছে না। আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিপরীতে বিজেপির দ্রুত ব্যাপক উত্থানের অনুরূপ পতনের আভাসও কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে।
আসামে ওই আইনটি পাসের পর বাংলাদেশের জন্য শঙ্কা-উদ্বেগের সৃষ্টি হলেও আমাদের সরকার সেটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেই ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু ব্যাপারটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও ওই আইন বাস্তবায়নে বাংলাদেশের জন্য সর্বাধিক বিপদ ডেকে আনবে। সিংহভাগ বিতাড়িত বাঙালিদের বাংলাদেশে পাঠানোর প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছিল বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীসহ বিজেপির সাবেক সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কাজেই এই বিষয়টিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় ভাবার কোনোই অবকাশ নেই। এতে সর্বাধিক খেসারত দিতে হবে বাংলাদেশকেই। উল্লিখিত ঘটনার ক্ষেত্রেও সবল ভারতের প্রতি দুর্বল বাংলাদেশের অবস্থানের বিষয়টি অস্পষ্ট থাকেনি। আগেই বলেছি, সবলের কর্তৃত্বে দুর্বলের ত্রাহি অবস্থার কথা। নয়তো এনআরসি, সিএএ নিয়ে বাংলাদেশকেই সর্বপ্রথম ঘৃণিত ওই আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা যেত। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি সবল-দুর্বলের পার্থক্যে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের তৎকালীন সরকার ও জনগণের অপরিসীম অবদানের কথা নিশ্চয় আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। ওই সময়ে ভারতে ক্ষমতাসীন ছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আমাদের স্বাধীনতার জন্য দেশ-বিদেশে ছুটে বেড়িয়েছেন, আমাদের পক্ষে বিভিন্ন রাষ্ট্রের এবং জনগণের সমর্থন আদায়ের তাগিদে। ভারতে এখনকার হিন্দুত্ববাদী সরকার ও তাদের মিত্ররা তখন ইন্দিরা গান্ধীকে কটাক্ষ করে বলেছিল, 'ওর বাবা নেহরু এক পাকিস্তান সৃষ্টি করেছে আর মেয়ে এখন দুই পাকিস্তান সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।' আমাদের মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু মহাসভা, আরএসএসসহ বিজেপি ঘরানার হিন্দুত্ববাদীরা সহযোগিতা তো পরের কথা বরং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষে বিরোধিতাই করেছিল।
শুরুতেই বলেছি, আজকের বিশ্বব্যবস্থায় সবলের দৌরাত্ম্যে দুর্বলের ত্রাহি অবস্থা বিরাজমান। আমাদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রশ্নেও ভারত এ দেশের সহায়তার বিপরীতে রোহিঙ্গা গণহত্যাকারী মিয়ানমার সরকারের পক্ষাবলম্বন করে আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে নিজেদের স্বার্থরক্ষার তাগিদে। বিশ্বব্যবস্থার ভারসাম্যহীনতার সুযোগে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোর একক আধিপত্যে বিশ্বের দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর ওপর অবিরাম আগ্রাসন জারি রয়েছে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মাশুল গুনতে হচ্ছে দুর্বল রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের জনগণকে। দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যতীত এই সময় বিকল্প কোনো পথ নেই। তেমনি দেশে দেশে তথাকথিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নির্বাচনে নিরঙ্কুশ নির্বাচিত সরকারগুলোর ফ্যাসিবাদী-স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বৃত্ত থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় সংঘবদ্ধ গণআন্দোলনের।
নির্বাহী সম্পাদক, নতুন দিগন্ত
আমাদের নিকট প্রতিবেশী বৃহৎ ভারতের জাতীয় সংসদে সংখ্যাধিক্যের কর্তৃত্ববাদী সরকার একের পর এক জনবিরোধী, সংখ্যালঘুবিরোধী কালাকানুন আরোপ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নজিরবিহীন নিষ্ঠুরতার নজির সৃষ্টি করেছে। জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করে রাজ্যটিকে দ্বিখণ্ডিত করে সেনাশাসন জারি করেছে। কাশ্মীরে আরোপ করা হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ)। এই আইনে সরকার তাদের মর্জিমাফিক দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে কোন অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে সংবাদ দশ দিন পর্যন্ত পুলিশ জানাতে বাধ্য নয়। আটক ব্যক্তিকে টানা এক বছর বিনা বিচারে কারাগারে রাখতে পারবে। গত বছরের ৫ আগস্ট ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে বিভাজন ও সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের সময় অবরুদ্ধ কাশ্মীরে এই আইন জারি করা হয়েছিল। সম্প্রতি ওই একই আইনে ভারতের রাজধানী দিল্লি পর্যন্ত আওতাভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯৮০ সালের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের তিন নম্বর ধারার তিন নম্বর উপধারায় যে ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে, দিল্লির উপরাজ্যপাল অনিল বাইজাল তা প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিন মাসের জন্য ওই ক্ষমতা দিল্লি পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা যায়, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী আন্দোলন ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভ দমনে সরকার এই আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই নির্দেশ নতুন কিছু নয়। প্রতি তিন মাস অন্তর এই নির্দেশ জারি করা হয়। গত বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই ক্ষমতা দিল্লি পুলিশকে দেওয়া হয়েছিল, যদিও ওই আইন প্রয়োগ করা হয়নি। ওই আইনের ক্ষমতাবলে পুলিশ কমিশনার অথবা জেলা প্রশাসক যে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও আটক রাখতে পারেন। ১৯ জানুয়ারি থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাস দিল্লিতে জাতীয় নিরাপত্তা আইন বলবৎ থাকার কথা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এনআরসি ও সিএএ নিয়ে মোদি সরকার এখন ঘরে-বাইরে বিপদের মধ্যেই আছে। একদিকে বিরোধী দলের চাপ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাস করা ওই ঘৃণিত আইনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে। নিরঙ্কুশ ক্ষমতাবান বিজেপি সরকার এ নিয়ে মহাবিপদের মধ্যেই রয়েছে। তারা না পারছে এনআরসি এবং সিএএ বাতিল করতে, না পারছে বাস্তবায়ন করতে। অন্যদিকে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত সরকারের ইচ্ছা পূরণে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনপিআর) তৈরির ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ দেয়নি। সুপ্রিম কোর্ট জানান, কেন্দ্রের মতামত না জেনে তাদের পক্ষে স্থগিতাদেশ দেওয়া সম্ভব নয়। এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সর্বমোট ১৪৪টি আবেদন পড়েছে। সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে ১৪৪টি আবেদন সম্পর্কে জবাবদিহি করতে চার সপ্তাহের সময় দিয়েছেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে আর কোনো আবেদন আদালতে গ্রহণ করা হবে না বলেও সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছেন। ভারতব্যাপী সর্বসাধারণের বিক্ষোভ দমনে সরকার রাষ্ট্রের পেটুয়া বাহিনী লেলিয়েও আশানুরূপ সাফল্য পাচ্ছে না। আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিপরীতে বিজেপির দ্রুত ব্যাপক উত্থানের অনুরূপ পতনের আভাসও কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে।
আসামে ওই আইনটি পাসের পর বাংলাদেশের জন্য শঙ্কা-উদ্বেগের সৃষ্টি হলেও আমাদের সরকার সেটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেই ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু ব্যাপারটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও ওই আইন বাস্তবায়নে বাংলাদেশের জন্য সর্বাধিক বিপদ ডেকে আনবে। সিংহভাগ বিতাড়িত বাঙালিদের বাংলাদেশে পাঠানোর প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছিল বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীসহ বিজেপির সাবেক সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কাজেই এই বিষয়টিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় ভাবার কোনোই অবকাশ নেই। এতে সর্বাধিক খেসারত দিতে হবে বাংলাদেশকেই। উল্লিখিত ঘটনার ক্ষেত্রেও সবল ভারতের প্রতি দুর্বল বাংলাদেশের অবস্থানের বিষয়টি অস্পষ্ট থাকেনি। আগেই বলেছি, সবলের কর্তৃত্বে দুর্বলের ত্রাহি অবস্থার কথা। নয়তো এনআরসি, সিএএ নিয়ে বাংলাদেশকেই সর্বপ্রথম ঘৃণিত ওই আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা যেত। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি সবল-দুর্বলের পার্থক্যে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের তৎকালীন সরকার ও জনগণের অপরিসীম অবদানের কথা নিশ্চয় আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। ওই সময়ে ভারতে ক্ষমতাসীন ছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আমাদের স্বাধীনতার জন্য দেশ-বিদেশে ছুটে বেড়িয়েছেন, আমাদের পক্ষে বিভিন্ন রাষ্ট্রের এবং জনগণের সমর্থন আদায়ের তাগিদে। ভারতে এখনকার হিন্দুত্ববাদী সরকার ও তাদের মিত্ররা তখন ইন্দিরা গান্ধীকে কটাক্ষ করে বলেছিল, 'ওর বাবা নেহরু এক পাকিস্তান সৃষ্টি করেছে আর মেয়ে এখন দুই পাকিস্তান সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।' আমাদের মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু মহাসভা, আরএসএসসহ বিজেপি ঘরানার হিন্দুত্ববাদীরা সহযোগিতা তো পরের কথা বরং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষে বিরোধিতাই করেছিল।
শুরুতেই বলেছি, আজকের বিশ্বব্যবস্থায় সবলের দৌরাত্ম্যে দুর্বলের ত্রাহি অবস্থা বিরাজমান। আমাদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রশ্নেও ভারত এ দেশের সহায়তার বিপরীতে রোহিঙ্গা গণহত্যাকারী মিয়ানমার সরকারের পক্ষাবলম্বন করে আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে নিজেদের স্বার্থরক্ষার তাগিদে। বিশ্বব্যবস্থার ভারসাম্যহীনতার সুযোগে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোর একক আধিপত্যে বিশ্বের দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর ওপর অবিরাম আগ্রাসন জারি রয়েছে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মাশুল গুনতে হচ্ছে দুর্বল রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের জনগণকে। দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যতীত এই সময় বিকল্প কোনো পথ নেই। তেমনি দেশে দেশে তথাকথিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নির্বাচনে নিরঙ্কুশ নির্বাচিত সরকারগুলোর ফ্যাসিবাদী-স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বৃত্ত থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় সংঘবদ্ধ গণআন্দোলনের।
নির্বাহী সম্পাদক, নতুন দিগন্ত
- বিষয় :
- সমাজ
