পূর্ণকালীন উপাচার্য পাব কবে
×
জাকিয়া সুলতানা মুক্তা
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২০ | ১২:৫৫
১৯৭৩-এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী তৎকালীন চারটি পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিপূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিয়ে বাংলাদেশের অবিসংবাদিত মহান নেতা বঙ্গবন্ধু যে উচ্চশিক্ষা নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছিলেন, তা আর পরবর্তী সময়ে রক্ষিত হয়নি। ফলে আজকে মুজিববর্ষের প্রাক্কালে শিক্ষাবান্ধব বঙ্গবন্ধুর জন্মধন্য গোপালগঞ্জের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত এবং তারই নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ৫৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত (১৯৯৯) এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম থেকেই নানা বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছে। সব রাজনৈতিক বাধা অতিক্রম করে এটি তার একাডেমিক কার্যক্রম চালু করতে পেরেছিল ২০১১ সাল থেকে। মাত্র চারটি অনুষদে সর্বমোট পাঁচটি বিভাগে ৩২ জন করে মোট ১৬০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়। ২০১০ সালে পূর্ণাঙ্গভাবে যাত্রা শুরু করা থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য প্রফেসর ড. খায়রুল আলম খান অব্যাহতি নেওয়া পর্যন্ত (২০১৪), অর্থাৎ চার বছরে বিভাগ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল নয়টি আর শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে ১২শ'তে। পরবর্তী উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরুদ্দিন ২০১৫ থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫ একরের দায়িত্বে আসার পর থেকে ২০১৯-এ অব্যাহতি পাওয়া অবধি, পরের সাড়ে চার বছরে ১৪টি বিভাগ আর ১৪শ' শিক্ষার্থী থেকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪টি বিভাগ আর সাড়ে ১১ হাজার কেবল নিয়মিত শিক্ষার্থী পর্যন্ত। অর্থাৎ এত অল্প সময়ে ২০টি নতুন বিভাগ আর প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী বৃদ্ধির ইতিহাস এ দেশের আর কোনো নতুন-পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাগ্যে জোটেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে নামমাত্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ বিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর জন্য এখানে তেমন ভালো কোনো ল্যাব নেই। ল্যাবগুলোতে লাখ লাখ টাকার সরঞ্জাম পড়ে আছে; কিন্তু যথাযথ প্রক্রিয়া ও মান নিশ্চিত না করায় সেসব অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো কাজে লাগছে না। প্রবীণ প্রজ্ঞাবান শিক্ষানুরাগী শিক্ষকদের উলেল্গখযোগ্য কোনো উপস্থিতি এখানে নেই, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল একজন অধ্যাপক। বাকি সবাই হয় সম্প্রতি সহকারী অধ্যাপক হয়েছেন; নতুবা এখনও প্রভাষক। সুতরাং নিত্যনতুন গবেষণা করানোর জন্য উপযুক্ত শিক্ষক-গবেষক যেমন এখানে নেই, গবেষণার পরিবেশও বিদ্যমান নেই। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে পর্যাপ্ত ভালো মানের ল্যাবের কোনো সংস্থান নেই, সেখানে কোনো কোনো বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুইশ' ছাড়িয়ে। অপরাপর অন্য অনুষদগুলোর আরও ভয়ানক অবস্থা। শ্রেণিকক্ষের ভালো ব্যবস্থা নেই, ব্যবসা অনুষদের বিভাগগুলোর প্রজেক্ট চালানোর কাঠামোগত সমর্থন নেই, সামাজিক ও মানবিকী অনুষদের বিভাগগুলোর তো মোটা দাগে কোনো পাত্তাই নেই। শিক্ষকদের বসার জায়গা নেই, পড়াশোনার সুযোগ নেই। গোপালগঞ্জ খুব ছোট শহর, এখানে উন্নয়নের ছোঁয়া ও পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা এখনও উলেল্গখ করার মতো নয়। অপরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির এই চাপ বিশ্ববিদ্যালয় তো বটেই, পুরো গোপালগঞ্জবাসীর পক্ষেও সামলানো কঠিন। যে শহরে পাখপাখালির ডাকে ঘুম ভাঙত, এ বছর দুই-তিন দিন আগেও, আজ সেখানে সংকীর্ণ প্রধানতম রাস্তা থেকে শুরু করে গলির রাস্তায়ও গাড়ির হর্নের শব্দে কান পাতা দায়। পরিবেশদূষণ, মানবিক বিপর্যয় তুমুল আকার ধারণ করেছে। শিক্ষার্থীরা একটু ভালোভাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই আর পড়ার সুযোগ পাওয়ার জন্য হা-পিত্যেশ করে মরছে। এত অল্প জায়গায় এত এত বিভাগ আর শিক্ষার্থীর আনাগোনায় মুখর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার একসঙ্গে সুষ্ঠুভাবে স্থান সংকুলানের কোনো অবস্থা নেই। এতটাই মানবেতর অবস্থা এখানে।
গত উপাচার্য যে খণ্ডিতকরণ ও শাসনের নীতি চালু করেছিলেন, সেই নীতিতে চলা ও বিরোধিতাকারী উভয় পক্ষই পারস্পরিক বোঝাপড়ার জায়গায় একে অপরের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেননি। তাদের পারস্পরিক দোষারোপের চর্চা ও বিচ্ছিন্নবাদী মনোভাবের দরুন বর্তমান প্রশাসন যারপরনাই বিপর্যস্ত। সবাই এখন বর্তমান প্রশাসন আর প্রশাসন-সংশ্লিষ্টদের একহাত দেখে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় আছেন। কেউ পুরোনো সুবিধা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ক্ষোভে আর কেউ নতুন করে সুবিধা না পাওয়ার রাগে। এর ফাঁকে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা শিক্ষার্থী ও শিক্ষাব্যবস্থার। যদিও তারা যথেষ্ট বিশৃঙ্খল ভূমিকায় অবতীর্ণ। এই কয়েক মাসে এখানে তারা বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন প্রায় নিত্যই। যদিও তাদের বঞ্চনার জন্য বর্তমান প্রশাসন দায়ী নয় বা চলতি দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের এখতিয়ারও নেই তাদের সমস্যাগুলোর যথাযথ সমাধান করা; তবুও তারা তা মানতে নারাজ। উলেল্গখ্য, এত এত বিভাগ খোলা হয়েছে গত প্রশাসনের সময়ে, তখন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করেনি। এমনকি অনুমোদনবিহীন একটা বিভাগ প্রায় দুই বছর এখানে নির্বিঘ্নে চলেছে, সে ব্যাপারেও তারা কোনো খোঁজখবর সেভাবে রাখেনি। কিন্তু এখন তারাই আবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে সেই অনুমোদনহীন ইতিহাস বিভাগকে আর চালু রাখবে না বলে। ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই সপ্তাহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করে রেখেছিল, কয়েক দিন বিরতি নিয়ে আবার তারা এখন আমরণ অনশনে এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউজিসি ঘেরাও করার। অন্যদিকে বর্তমান ইটিই বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে একাধিকবার তাদের বিভাগের নাম পরিবর্তন করা সত্ত্বেও এই ক্রান্তিকালে তারা পুনরায় বিভাগের নাম পরিবর্তনের দাবি তুলে অনশনে ছিল বেশ অনেকদিন। যার সুরাহা এখনও হয়নি, বরং পাল্টাপাল্টি সমাবেশ হয়েছে। এ ছাড়াও গত প্রশাসন মাস্টাররোলে বহুজনকে চাকরি দেওয়ার নাম করে দিনের পর দিন কর্মচারী হিসেবে কাজ করিয়েছে। তাদের এই অসহায় অবস্থার সমাধানকল্পে কোনো স্বীকৃতি বা চাকরি পাওয়ার কোনো আশ্বাস দেওয়ার নাম নেই। তারাও অনেক দিন ধরে আন্দোলনে। স্লোগানে স্লোগানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-গবেষণা পরিবেশের তথৈবচ অবস্থা। এমনকি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দিলে এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সুযোগ নিয়ে কর্মবিরতির ধান্দা করে এবং তাদের অনেকের প্রভাব বিস্তার করা ও প্রশাসনকে চাপে রাখতে ভীতি ছড়ানোর ভূমিকা নিয়েও বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা বিদ্যমান।
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মাঝে মারামারির সর্বশেষ উদাহরণ এক বিভাগের দাবিকৃত ছয় ইঞ্চি জায়গা অন্য বিভাগ দখল করে নিয়েছে; আর এ নিয়ে মারামারিতে ২০ জন আহত। প্রত্যহ শিক্ষকদের নিত্যনতুন আশঙ্কা আর দুশ্চিন্তা নিয়ে ঘুম ভাঙছে। মোট কথা, সব মিলিয়ে এখানকার পরিস্থিতি এমন এক ঘোলাটে অবস্থা নিয়েছে যে, একজন স্থায়ী উপাচার্য ছাড়া এই সংকটের কোনো সমাধান নেই। বিশ্ববিদ্যালয়টি বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অস্থিতিশীল হয়ে বিস্টেম্ফারিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে; এর সমাধানে অচিরেই প্রজ্ঞাবান দক্ষ কারও এখানে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া বড্ড জরুরি। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির দিকে সদয় দৃষ্টি দেওয়ার জন্য নীতিনির্ধারকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি।
সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ
বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে নামমাত্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ বিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর জন্য এখানে তেমন ভালো কোনো ল্যাব নেই। ল্যাবগুলোতে লাখ লাখ টাকার সরঞ্জাম পড়ে আছে; কিন্তু যথাযথ প্রক্রিয়া ও মান নিশ্চিত না করায় সেসব অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো কাজে লাগছে না। প্রবীণ প্রজ্ঞাবান শিক্ষানুরাগী শিক্ষকদের উলেল্গখযোগ্য কোনো উপস্থিতি এখানে নেই, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল একজন অধ্যাপক। বাকি সবাই হয় সম্প্রতি সহকারী অধ্যাপক হয়েছেন; নতুবা এখনও প্রভাষক। সুতরাং নিত্যনতুন গবেষণা করানোর জন্য উপযুক্ত শিক্ষক-গবেষক যেমন এখানে নেই, গবেষণার পরিবেশও বিদ্যমান নেই। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে পর্যাপ্ত ভালো মানের ল্যাবের কোনো সংস্থান নেই, সেখানে কোনো কোনো বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুইশ' ছাড়িয়ে। অপরাপর অন্য অনুষদগুলোর আরও ভয়ানক অবস্থা। শ্রেণিকক্ষের ভালো ব্যবস্থা নেই, ব্যবসা অনুষদের বিভাগগুলোর প্রজেক্ট চালানোর কাঠামোগত সমর্থন নেই, সামাজিক ও মানবিকী অনুষদের বিভাগগুলোর তো মোটা দাগে কোনো পাত্তাই নেই। শিক্ষকদের বসার জায়গা নেই, পড়াশোনার সুযোগ নেই। গোপালগঞ্জ খুব ছোট শহর, এখানে উন্নয়নের ছোঁয়া ও পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা এখনও উলেল্গখ করার মতো নয়। অপরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির এই চাপ বিশ্ববিদ্যালয় তো বটেই, পুরো গোপালগঞ্জবাসীর পক্ষেও সামলানো কঠিন। যে শহরে পাখপাখালির ডাকে ঘুম ভাঙত, এ বছর দুই-তিন দিন আগেও, আজ সেখানে সংকীর্ণ প্রধানতম রাস্তা থেকে শুরু করে গলির রাস্তায়ও গাড়ির হর্নের শব্দে কান পাতা দায়। পরিবেশদূষণ, মানবিক বিপর্যয় তুমুল আকার ধারণ করেছে। শিক্ষার্থীরা একটু ভালোভাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই আর পড়ার সুযোগ পাওয়ার জন্য হা-পিত্যেশ করে মরছে। এত অল্প জায়গায় এত এত বিভাগ আর শিক্ষার্থীর আনাগোনায় মুখর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার একসঙ্গে সুষ্ঠুভাবে স্থান সংকুলানের কোনো অবস্থা নেই। এতটাই মানবেতর অবস্থা এখানে।
গত উপাচার্য যে খণ্ডিতকরণ ও শাসনের নীতি চালু করেছিলেন, সেই নীতিতে চলা ও বিরোধিতাকারী উভয় পক্ষই পারস্পরিক বোঝাপড়ার জায়গায় একে অপরের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেননি। তাদের পারস্পরিক দোষারোপের চর্চা ও বিচ্ছিন্নবাদী মনোভাবের দরুন বর্তমান প্রশাসন যারপরনাই বিপর্যস্ত। সবাই এখন বর্তমান প্রশাসন আর প্রশাসন-সংশ্লিষ্টদের একহাত দেখে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় আছেন। কেউ পুরোনো সুবিধা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ক্ষোভে আর কেউ নতুন করে সুবিধা না পাওয়ার রাগে। এর ফাঁকে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা শিক্ষার্থী ও শিক্ষাব্যবস্থার। যদিও তারা যথেষ্ট বিশৃঙ্খল ভূমিকায় অবতীর্ণ। এই কয়েক মাসে এখানে তারা বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন প্রায় নিত্যই। যদিও তাদের বঞ্চনার জন্য বর্তমান প্রশাসন দায়ী নয় বা চলতি দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের এখতিয়ারও নেই তাদের সমস্যাগুলোর যথাযথ সমাধান করা; তবুও তারা তা মানতে নারাজ। উলেল্গখ্য, এত এত বিভাগ খোলা হয়েছে গত প্রশাসনের সময়ে, তখন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করেনি। এমনকি অনুমোদনবিহীন একটা বিভাগ প্রায় দুই বছর এখানে নির্বিঘ্নে চলেছে, সে ব্যাপারেও তারা কোনো খোঁজখবর সেভাবে রাখেনি। কিন্তু এখন তারাই আবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে সেই অনুমোদনহীন ইতিহাস বিভাগকে আর চালু রাখবে না বলে। ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই সপ্তাহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করে রেখেছিল, কয়েক দিন বিরতি নিয়ে আবার তারা এখন আমরণ অনশনে এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউজিসি ঘেরাও করার। অন্যদিকে বর্তমান ইটিই বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে একাধিকবার তাদের বিভাগের নাম পরিবর্তন করা সত্ত্বেও এই ক্রান্তিকালে তারা পুনরায় বিভাগের নাম পরিবর্তনের দাবি তুলে অনশনে ছিল বেশ অনেকদিন। যার সুরাহা এখনও হয়নি, বরং পাল্টাপাল্টি সমাবেশ হয়েছে। এ ছাড়াও গত প্রশাসন মাস্টাররোলে বহুজনকে চাকরি দেওয়ার নাম করে দিনের পর দিন কর্মচারী হিসেবে কাজ করিয়েছে। তাদের এই অসহায় অবস্থার সমাধানকল্পে কোনো স্বীকৃতি বা চাকরি পাওয়ার কোনো আশ্বাস দেওয়ার নাম নেই। তারাও অনেক দিন ধরে আন্দোলনে। স্লোগানে স্লোগানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-গবেষণা পরিবেশের তথৈবচ অবস্থা। এমনকি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দিলে এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সুযোগ নিয়ে কর্মবিরতির ধান্দা করে এবং তাদের অনেকের প্রভাব বিস্তার করা ও প্রশাসনকে চাপে রাখতে ভীতি ছড়ানোর ভূমিকা নিয়েও বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা বিদ্যমান।
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মাঝে মারামারির সর্বশেষ উদাহরণ এক বিভাগের দাবিকৃত ছয় ইঞ্চি জায়গা অন্য বিভাগ দখল করে নিয়েছে; আর এ নিয়ে মারামারিতে ২০ জন আহত। প্রত্যহ শিক্ষকদের নিত্যনতুন আশঙ্কা আর দুশ্চিন্তা নিয়ে ঘুম ভাঙছে। মোট কথা, সব মিলিয়ে এখানকার পরিস্থিতি এমন এক ঘোলাটে অবস্থা নিয়েছে যে, একজন স্থায়ী উপাচার্য ছাড়া এই সংকটের কোনো সমাধান নেই। বিশ্ববিদ্যালয়টি বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অস্থিতিশীল হয়ে বিস্টেম্ফারিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে; এর সমাধানে অচিরেই প্রজ্ঞাবান দক্ষ কারও এখানে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া বড্ড জরুরি। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির দিকে সদয় দৃষ্টি দেওয়ার জন্য নীতিনির্ধারকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি।
সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ
- বিষয় :
- বঙ্গবন্ধু
