ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

গার্ড অব অনারে মুস্তাফা মনোয়ারকে জাতির শ্রদ্ধা, বনানীতে হচ্ছে দাফন

গার্ড অব অনারে মুস্তাফা মনোয়ারকে জাতির শ্রদ্ধা, বনানীতে হচ্ছে দাফন
×

অনিন্দ্য মামুন

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ১৫:৩৫ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ | ১৫:৩৬

যে শিল্পী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের লাল সূর্যের নকশাকে রূপ দিয়েছিলেন, শেষ বিদায়েও যেন সেই লাল সূর্যই তাকে আপন করে নিল। জীবনের দীর্ঘ সৃজনযাত্রা শেষে মঙ্গলবার (৩০ জুন) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনারের মধ্য দিয়ে বরেণ্য শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারকে জানানো হলো জাতির শেষ শ্রদ্ধা।

সকাল ১১টার দিকে তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হলে সেখানে নেমে আসে এক আবেগঘন পরিবেশ। ফুল হাতে একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনও তাদের প্রিয় মানুষটির প্রতি শেষ সম্মান জানায়।

শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ ও রামেন্দু মজুমদার, চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম, হাশেম খান ও শংকর সাওজাল, অভিনেতা তারিক আনাম খান, কেরামত মাওলা, খায়রুল আলম সবুজ, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, খায়রুল আনাম শাকিল, শহীদুজ্জামান সেলিম, নিমা রহমান, আজাদ আবুল কালাম, লাইসা আহমদ লিসা, কল্পনা আনাম, ত্রপা মজুমদার, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউদ্দীন (রেজাউদ্দিন স্টালিন), বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজমসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের অসংখ্য বিশিষ্টজন।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। চিত্রকলা, পাপেট্রি, ভিজ্যুয়াল আর্ট, টেলিভিশন এবং শিশুতোষ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড-প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন অনন্য স্বাক্ষর। বিশেষ করে শিশুদের জন্য নির্মিত সৃজনশীল অনুষ্ঠান ও শিল্পচর্চার মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন কয়েক প্রজন্মের শৈশবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তার শিল্পকর্ম শুধু নন্দনতত্ত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাঙালির সংস্কৃতি এবং সৃজনশীলতার বিকাশেও তিনি রেখেছেন স্থায়ী অবদান। সেই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। পরে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তাকে প্রদান করে সুলতান স্বর্ণপদক।

এদিন সকাল ১০টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে, যেখানে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান। দুপুর ২টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় আরেকটি জানাজা। সবশেষে বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির এই প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব।

আরও পড়ুন

×