ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

বাজার সংকট পুঁজি করে মুনাফা

বাজার সংকট পুঁজি করে মুনাফা
×

আফতাব চৌধুরী

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২০ | ১২:৫৪

করোনাভাইরাস সংক্রমণে বিশ্ব পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। আমাদের শঙ্কা-উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও কম নয়। ইতোমধ্যে কয়েকজনের প্রাণহানি হয়েছে। চিকিৎসাধীন ও সঙ্গনিরোধ ব্যবস্থায় রয়েছেন অনেকে। সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব পদক্ষেপ নিয়েছে। সামাজিক উদ্যোগও কম নয়। সবাই যখন সম্মিলিতভাবে এই সংক্রমণ প্রতিরোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন বাজারে হীনস্বার্থবাদী-অসাধু ব্যবসায়ীরা শুরু করেছে অপতৎপরতা। ভোক্তার পকেট কাটতে তারা চালিয়ে যাচ্ছে অপচেষ্টা। চালসহ প্রায় সব রকমের নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বাজারে অভিযান অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও তাদের অপকর্ম থেকে নিবৃত্ত করা যাচ্ছে না। এদের এমন অপতৎপরতা নতুন নয়। যে কোনো সংকটকে পুঁজি করে এরা ফায়দা লুটতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
ক্রেতা বা গ্রাহক সচেতন হলে বেশি দামে পণ্য বিক্রি কিংবা নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব নয়। অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপনের জোরে পণ্য বিক্রি করে ভোক্তা ঠকানোও সম্ভব নয়। সাধারণত ভোক্তাকে সচেতন করতে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো নানাভাবে কাজ করে চলেছে। কাজেই এখন স্লোগান হতে হবে- 'জাগো ভোক্তা জাগো'। ভোক্তার অধিকার কিংবা ক্রেতাস্বার্থের বিষয়টি যখন সামনে আসে, তখন ন্যায্যমূল্য ও মানসম্পন্ন পণ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
ভোক্তারা দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তি। ভোক্তাদের সুরক্ষা, পছন্দ করার অধিকার, তথ্য জানার অধিকার, কথা বলার অধিকার, ক্ষতিপূরণ চাওয়ার অধিকার ইত্যাদি মৌলিক অধিকার হিসেবে জাতিসংঘের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ১৯৮৫ সালে। বাংলাদেশে ভোক্তা সুরক্ষা আইনের মূল লক্ষ্য- সাধারণ ভোক্তার নিত্যপ্রয়োজনীয় তথা দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়, সেবা, ভাড়া করার স্বার্থকে সুরক্ষা দেওয়া। বাংলাদেশে ভোক্তা সুরক্ষা আইনে বাজারের পণ্য বা সেবা-সংক্রান্ত তথ্য পুরোপুরি জানার অধিকার রয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার, ক্ষতিপূরণ আদায় করার ব্যবস্থা রয়েছে এই আইনে।
ভোক্তা সুরক্ষা আদালতে বিচার প্রার্থীকে যে কাজগুলো করতে হয় তা হলো, বিক্রেতার কাছ থেকে রসিদ বা ক্যাশ মেমো চেয়ে নেওয়া। ছোট ছোট কেনাবেচার ব্যাপারে যেখানে রসিদ সরবরাহ সাধারণত চলে না, যেমন পানীয়ের বিষয়ে ভোক্তাকে নূ্যনতম দু'জন সাক্ষী প্রদান করতে হবে। ভোক্তাদের মধ্যে অনেকেই খামখেয়ালি করে পণ্যটি মেয়াদ উত্তীর্ণ কিনা তা লক্ষ্য করে দেখেন না। পণ্য উৎপাদন কোম্পানিগুলো পণ্যের গায়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত তথ্যাদি গ্রাহককে জানাতে বাধ্য আইন অনুসারে। কিন্তু অধিকাংশ উৎপাদক কোম্পানিই পণ্যের গায়ে নিয়মাবলি এমনভাবে ছোট ছোট হরফে ছাপিয়ে আইন রক্ষা করে বটে বা ভোক্তাদের পক্ষে পাঠোদ্ধার করা দুস্কর হয়ে ওঠে। এ নিয়ে ভোক্তাদের সরব হতে হবে এবং সরকারকে যথাযথভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। জনসচেতনতার অভাবেই অসাধু ব্যবসায়ীরা যা ইচ্ছা তাই করার সুযোগ পাচ্ছে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণকে পুঁজি করে বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীরা যে অপতৎপরতা শুরু করেছে, এর বিহিত করতে হলে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিং করার জনদাবি দীর্ঘদিনের। কোনো ঘটনা ঘটলে বা বিশেষ কোনো কারণে কিংবা কখনও কখনও বাজারে অভিযান চালিয়ে যে জেল-জরিমানা করা হয়, তাতে অসাধুদের সম্বিৎ ফিরছে না। ফের তারা একই অপকর্ম করছে। নকল-ভেজালের দৌরাত্ম্যের পাশাপাশি চলছে মূল্য সন্ত্রাস। মধ্যস্বত্বভোগীদের উৎপাতের বিষয়টিও পুরোনো। সমন্বিত বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যাপারেও এ পর্যন্ত কথাবার্তা কম হয়নি; কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। নিকট অতীতে পেঁয়াজ নিয়ে যে তুঘলকি কাণ্ড ঘটে গেল, এর কোনো দৃষ্টান্তযোগ্য প্রতিকার হয়নি। এমতাবস্থায় অসাধুরা বারবার সুযোগ খুঁজবেই। সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তরফে সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয়েছে, চাল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। সরবরাহেও নেই সংকট। কিন্তু তারপরও নানা অজুহাতে অসাধুরা ভোক্তার পকেট কাটছে। এর স্থায়ী প্রতিকার হোক।
পরিবেশকর্মী

আরও পড়ুন

×