বিষমডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ
যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত শেষ, প্রতিবেদনের অপেক্ষা
৪০ জনের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ
সংগৃহীত
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ২০:৫৪
সিরাজগঞ্জের তাড়াশের বিষমডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত শেষ করেছে উপজেলা প্রশাসন। সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী তদন্তে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের বক্তব্য নেয়। এখন প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের নির্দেশে গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেনগুপ্তা। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন–উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সিরাজুম মনিরা জুঁই, তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা খাদিজা নাসরিন, তাড়াশ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য জিল্লুর রহমান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বিশ্বাস।
গত মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তদন্ত কমিটি প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলে। পাশাপাশি তাদের লিখিত বক্তব্যও গ্রহণ করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান শর্মিষ্ঠা সেনগুপ্তা বলেন, তদন্তে শিক্ষার্থীদের মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তবে অধিক তদন্তের স্বার্থে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২২ জুন। ওই দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, তাড়াশ থানা এবং জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের বিশেষ নারী তদন্ত টিমের সমন্বয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ২৩ জুন অভিযুক্ত শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। এরপরই উপজেলা প্রশাসন সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ৩০ জুন তদন্ত কার্যক্রম শেষ করা হয়।
জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে তাড়াশ উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের আদিবাসী অধ্যুষিত বিষমডাঙ্গা গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১২ সালে এটি স্কুল অ্যান্ড কলেজে উন্নীত হয়। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়ন করছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল।
সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের চারজন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করে আসছেন। অভিযোগ প্রকাশ করলে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে কয়েকজন ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে অভিযোগ করলে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলে, ‘আমরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে চাই। অভিযোগ জানানোর পর ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চাই।’
অভিযুক্ত শিক্ষকদের একজন বরাবরের মতোই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উস্কে দিয়ে এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে। তদন্তে সত্য বেরিয়ে আসবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুসরাত জাহান বলেন, নারীশিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
