‘চলনসই’ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের
অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। ফাইল ছবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ২১:৫৮
নিখুঁত গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য অপেক্ষা না করে আপাতত একটি ‘চলনসই’ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহি এবং মতপ্রকাশের ন্যূনতম স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে দেশের মানুষের সৃজনশীলতা ও উদ্যোগই বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেবে।
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সামনে গণতন্ত্র পুনর্গঠনের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
একই সভায় অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংকট শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি সামাজিক কাঠামোরও সংকট। স্বাধীনতার পরও কাঙ্ক্ষিত সামাজিক পরিবর্তনের পরিবর্তে পুরোনো ব্যবস্থার পুনরুৎপাদনই বেশি হয়েছে।
এর আগে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল, হোস্টেল ও প্রশাসনিক ভবন থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শোভাযাত্রাসহ স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে সমবেত হন। পরে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
সকাল ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মাঠে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন হলের পতাকা উত্তোলন এবং কেক কাটার মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত, দেশাত্মবোধক গান ও দিবসের থিম সং পরিবেশন করেন। বিদেশি শিক্ষার্থীরাও সংগীত পরিবেশন করে আয়োজনে অংশ নেন।
পরে টিএসসি মিলনায়তনে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিপাদ্যে কেন্দ্রীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগেও পৃথক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
কেন্দ্রীয় আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস মূলত গণতন্ত্র, জ্ঞানচর্চা এবং সামাজিক অগ্রগতির ইতিহাস। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িকতা, সমতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চায়।
তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, নারী শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি গঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনন্য। তবে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণা, জ্ঞানসৃষ্টি, মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে হবে। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ ও জ্ঞানচর্চার সমন্বয়ের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনেও জাতির পথপ্রদর্শক হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।
টিএসসির আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের ইতিহাস, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতি গঠনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ধারাবাহিকভাবে উন্নত হচ্ছে। গবেষণা, উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও শিক্ষার্থী কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।এভাবে সাজালে শিরোনামের সঙ্গে মিল রেখে সংবাদটির লিডে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের বক্তব্য এসেছে, আবার আপনার দেওয়া মূল তথ্যের কোনো অংশও বাদ পড়েনি।
- বিষয় :
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
