‘ভারত-বাংলাদেশ ট্রেন চালু এখন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়’
ছবি- সমকাল
শুভজিৎ পুততুন্ড, কলকাতা
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ২২:০২ | আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ | ২২:২৭
বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা আবার চালু করেছে ভারত। ফলে ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলোয় দেখা যাচ্ছে ভিসা প্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভিড়। দুই দেশের মধ্যে যাত্রী আনাগোনার সম্ভাবনা বাড়লেও এখনও ট্রেন চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বন্ধ থাকা মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস চলাচল শুরু করা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় রেল। তবে নির্দেশ পাওয়া মাত্রই তারা ট্রেন চালাতে প্রস্তুত।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন দেশটির পূর্ব রেলের বিভাগীয় রেল ব্যবস্থাপক রাজিব সাক্সেনা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে কথাবার্তা চলছে। এটি মূলত দুই দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। যখনই পরিস্থিতি ঠিকঠাক মনে হবে এবং আমাদের কাছে নির্দেশ আসবে, আমরা তখনই ট্রেন চালু করব।’
২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিরাপত্তার কারণে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই সময় ভারতের ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বাংলাদেশেই আটকে পড়েছিল। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় ট্রেনের কোচগুলো যাত্রী পরিষেবার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় সেগুলোকে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
হঠাৎ ট্রেন চালুর নির্দেশ এলে রেল কতটা প্রস্তুত- এমন প্রশ্নের জবাবে রাজিব সাক্সেনা বলেন, ‘আমাদের কাছে পর্যাপ্ত কোচের মজুদ আছে। বিশেষ ট্রেনের মতো বেশ কয়েকটি কোচ একসঙ্গে করে দ্রুতই নতুন ট্রেন তৈরি করে ফেলা যাবে। এটি কোনো সমস্যা নয়। তবে আমাদের কাছে এখনও কোনো সরকারি নির্দেশনা আসেনি। ভারত ও বাংলাদেশ সরকার যখনই সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা ট্রেন চালিয়ে দেব। আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে।’
স্থলপথ ও আকাশপথের পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশের যাতায়াতের অন্যতম সহজ ও জনপ্রিয় মাধ্যম ছিল এই রেল যোগাযোগ। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে তিনটি ট্রেনই বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কলকাতা থেকে ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, কলকাতা থেকে খুলনার মধ্যে চলাচলকারী বন্ধন এক্সপ্রেস ১৭ জুলাই এবং নিউ জলপাইগুড়ি ও ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী মিতালী এক্সপ্রেস ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে।
