ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা দম্পতির বিরুদ্ধে জমি ও ফ্ল্যাট আত্মসাতের অভিযোগ

সরকারি কর্মকর্তা দম্পতির বিরুদ্ধে জমি ও ফ্ল্যাট আত্মসাতের অভিযোগ
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ২২:২৭

উচ্চপদস্থ দুই সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জমি ও ফ্ল্যাট আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, মিথ্যা মামলায় হয়রানিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী এ এস এম জুলফিকার হায়দার। 

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর–রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত দুজন হলেন– চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য অতিরিক্ত সচিব মো. শামীমুজ্জামান (ফিরোজ) ও তাঁর স্ত্রী নৌ–পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জেসমিন বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রেদোয়ান প্যাকেজিং ইন্ড্রাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুলফিকার হায়দার। তিনি দাবি করেন, ২০০৭ সালে পুলিশ আনন্দ হাউজিং প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮ লাখ টাকা পে-অর্ডার এবং ২ লাখ টাকা নগদ হিসেবে তিনি জেসমিন বেগমের কাছে দেন। পরে ‘চাকরি রক্ষা’র কারণ দেখিয়ে তারা সেগুনবাগিচার একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা সাময়িকভাবে ব্যবসায়ীর নামে নেওয়ার অনুরোধ করেন। মানবিক কারণে তাতে রাজি হন জুলফিকার। তবে পরবর্তীতে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে কোনো টাকা ছাড়াই ওই ফ্ল্যাট তারা দখলে নেয়।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, প্রায় ১৮ বছর ধরে প্লট ও ফ্ল্যাট ফেরত চাইলে বিভিন্ন সময় মামলা, গ্রেপ্তার এবং ভয় দেখিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রধান উপদেষ্টা, দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। এরপরও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, আসামি না হওয়ার পরও প্রভাব খাটিয়ে তাকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে কয়েকটি মামলার বাদী হলফনামার মাধ্যমে তাকে ‘আসামি নয়’ বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া ঢাকার দুটি হত্যা মামলায়ও তাকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তার।

জুলফিকার হায়দার বলেন, অভিযোগের পর থেকে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং বাসা, অফিস ও কারখানায় অপরিচিত লোকজন পাঠিয়ে তার অবস্থান জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শামীমুজ্জামান ও জেসমিন বেগমের নামে–বেনামে বিপুল সম্পদ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এই ব্যবসায়ী। তিনি দুজনের সম্পদের একটি তালিকা দিয়ে সেগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত ডিআইজি জেসমিন বেগমের মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। আর অতিরিক্ত সচিব মো. শামীমুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। 

আরও পড়ুন

×