প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বদলে যাচ্ছে ২৩ চা বাগানের চিত্র
ছবি: সমকাল
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ২২:৪৪
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার হাজারো প্রতিশ্রুতি শুনলেও বাস্তবে তার সুফল না পাওয়ার আক্ষেপ ছিল চা শ্রমিকদের। তারা এখন বলছেন, সেই অপ্রত্যাশিত সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটেছে। এবার সেই চেনা ধারণা পাল্টে দিয়ে সত্যিই পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে চা বাগানগুলোতে।
মাধবপুর ও চুনারুঘাটের একাধিক চা বাগান শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হবিগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল এবং তার ছেলে শিল্পপতি সৈয়দ শাফকাত আহমেদের সরাসরি উদ্যোগে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে চা শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমির অধিকারপ্রাপ্তি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম জোরেশোরে চলমান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সংসদ নির্বাচনের আগে মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার ২৩টি চা বাগান পরিদর্শন করে শ্রমিকদের বাস্তব সমস্যা সরেজমিন দেখেছিলেন সংসদ সদস্য সৈয়দ ফয়সল ও তাঁর ছেলে। সে সময় তারা চা শ্রমিকদের কাছ থেকেই জানতে চেয়েছিলেন– কোন সংকটগুলো দূর করা গেলে তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে এমপি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদের একাধিক অধিবেশনেও চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকারসহ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা জোরালোভাবে তুলে ধরেন সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল।
উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সুরমা টি গার্ডেন আইডিয়াল হাই স্কুল, সুরমা চা বাগান ১০ নম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাহঝিল প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং তেলিয়াপাড়া সেন্ট জোসেফ বিদ্যালয়ে বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়। সে অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল ও সিলিং ফ্যান বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিতে নেওয়া হয়েছে ছোট-বড় নানা পদক্ষেপ। এতে বাগানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত ও আরামদায়ক হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল ও সৈয়দ শাফকাত আহমেদের বিশেষ প্রচেষ্টায় চন্ডীছড়া চা বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলো জেলার মধ্যে প্রথমবারের মতো ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয় এসব বাগানে থাকা উপাসনালয়ের সংস্কার ও উন্নয়ন, রাস্তা সংস্কার, আয়ের নতুন উৎস সৃষ্টিতে ছাগল বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান। ভবিষ্যতে চা শ্রমিকদের জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, ‘চা শ্রমিকদের উন্নয়ন আমাদের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে করা হচ্ছে। আমরা চাই তাদের সন্তানরা শিক্ষিত হয়ে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হোক। দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে চা বাগানের এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় আনতে হবে। তাই সরকারি সুযোগ-সুবিধা তাদের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এসব উদ্যোগ বাগানের মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোর পাশাপাশি ভূমির অধিকার নিশ্চিত হলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
- বিষয় :
- মাধবপুর
