বুড়িগঙ্গায় লঞ্চ 'দুর্ঘটনা'
নৌপথ নিরাপদ হবে কবে!
×
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০ | ১২:০০
রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের কাছে বুড়িগঙ্গায় মর্মান্তিক লঞ্চডুবির ঘটনা করোনাদুর্যোগের মধ্যেই আরেক দুর্যোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে যে মাতম আমরা দেখেছি, সে শোকের সঙ্গে আমরাও একাত্মতা পোষণ করছি। লাশের সারি আর স্বজনের আর্তচিৎকারের বেদনা আমরাও সমানভাবে অনুভব করছি। মঙ্গলবার দুপুরে ডুবে যাওয়া মর্নিং বার্ড লঞ্চের উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি টানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিএ)। এই লঞ্চডুবিতে মোট ৩৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। বস্তুত নোঙর করার আগেই লঞ্চটিকে যেভাবে সদরঘাটের কাছে এমভি ময়ূর-২ লঞ্চ ধাক্কা দেয় তাতে একে নিছক দুর্ঘটনা বলা যায় না। 'সিসিটিভির ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড'- নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সঙ্গে আমরাও বহুলাংশে একমত।
লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার পর উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিস ছাড়াও নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ, নৌপুলিশসহ অনেক সংস্থা কাজ করে। ডুবুরিরা যেভাবে একের পর এক লাশ উদ্ধার করে আনেন, তাতে তারা ধন্যবাদ প্রাপ্য। কিন্তু উদ্ধারকারী জাহাজ 'প্রত্যয়' লঞ্চ উদ্ধারে আসতে গিয়ে যেভাবে 'ধাক্কা' দিয়ে পোস্তগোলায় বুড়িগঙ্গা সেতুতে ফাটল ধরায়, সেটি দুঃখজনক। উদ্ধারকারী জাহাজটির সেতু অতিক্রম করতে না পারা এবং পানির উচ্চতা হিসাব করে চলতে না পারার বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএ দেখবে কি? প্রত্যয়ের সজোরে ধাক্কায় গুরুত্বপূর্ণ ওই সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর ওপর দিয়ে যান চলাচলও বিঘ্নিত হয়। ডোবার ১২ ঘণ্টা পরও লঞ্চটির ভেতর থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ডুবে যাওয়া জাহাজটি যেহেতু খুব বড় ছিল না তাই উদ্ধারকারী জাহাজ দিয়ে একে দ্রুত উঠাতে পারলে হয়তো আরও কিছু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো। এ ক্ষেত্রে উদ্ধার কার্যক্রমে বিকল্প জাহাজের ব্যবস্থা কেন করা যায়নি- এ প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে।
যেখানে দেশের মানুষের প্রায় পঁয়ত্রিশ ভাগ যাতায়াতই নৌপথে সম্পন্ন হচ্ছে, তারপরও এ পথে ঝুঁকি থাকেই। দুর্ভাগ্যবশত মাঝে মাঝেই এ পথে দুর্ঘটনা ঘটে। নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই, অদক্ষ চালক, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে সতর্ক হলে তার অধিকাংশই এড়ানো সম্ভব বলে আমরা মনে করি। আমরা দেখেছি, প্রায়ই ছোটখাটো অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। লঞ্চের সঙ্গে লঞ্চের এবং লঞ্চের সঙ্গে ছোট নৌকার সংঘর্ষে অনেকেরই প্রাণহানি ঘটে। কিন্তু এরকম ছোট ছোট দুর্ঘটনা কর্তৃপক্ষ আমলে নেয় না বললেই চলে। ছোট লঞ্চকে বড় লঞ্চ ধাক্কা মেরে ডুবিয়ে দেওয়ার মতো স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ এখানে নেই। লঞ্চচালকদের অবশ্যই দায়িত্বশীল ও যোগ্য হওয়া জরুরি। অভিযোগ উঠেছে, বুড়িগঙ্গায় এমএল মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়ার সময় ঘাতক 'ময়ূর-২' লঞ্চের মূল মাস্টার ছিলেন না। লঞ্চটির চালকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি লঞ্চটি চালাননি। যাদের লঞ্চ চালানোর কথা নয় তারা সেটি চালাচ্ছিল। বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।
প্রতিটি ঘটনার মতো এ ঘটনায়ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর কর্তাব্যক্তিসহ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি সাত দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। আমরা চাই কমিটি সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ কারণ বের করবে। একই সঙ্গে নৌপথ সুরক্ষিত করতে তারা প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবেন এবং মন্ত্রণালয় সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। লঞ্চডুবির ঘটনায় ইতোমধ্যে ময়ূর-২ লঞ্চ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নৌপুলিশ মামলা করেছে। আমাদের প্রত্যাশা, বেপরোয়াভাবে লঞ্চ চালিয়ে মানুষ হত্যা ও ধাক্কা দিয়ে লঞ্চ দুর্ঘটনার জন্য যে নির্দিষ্ট দণ্ডবিধি রয়েছে সে অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লঞ্চডুবির ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, বিশেষ করে যাদের প্রাণহানি ঘটেছে তাদের পরিবারবর্গের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। ইতোমধ্যে মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী। আমরা জানি, স্বজন হারানোর বেদনার তুলনায় এ অর্থ নস্যি। তারপরও একেবারে অসহায় পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে অন্যান্য ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে আসুক। আহত যাদের চিকিৎসা প্রয়োজন তাদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। লঞ্চডুবির ঘটনায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। শোকার্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমরাও সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা মনে করি, জাতীয় স্বার্থেই নৌপথে সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশাসন, মালিক, চালকসহ সংশ্নিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং যথাযথ সতর্কতাই নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করতে পারে।
লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার পর উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিস ছাড়াও নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ, নৌপুলিশসহ অনেক সংস্থা কাজ করে। ডুবুরিরা যেভাবে একের পর এক লাশ উদ্ধার করে আনেন, তাতে তারা ধন্যবাদ প্রাপ্য। কিন্তু উদ্ধারকারী জাহাজ 'প্রত্যয়' লঞ্চ উদ্ধারে আসতে গিয়ে যেভাবে 'ধাক্কা' দিয়ে পোস্তগোলায় বুড়িগঙ্গা সেতুতে ফাটল ধরায়, সেটি দুঃখজনক। উদ্ধারকারী জাহাজটির সেতু অতিক্রম করতে না পারা এবং পানির উচ্চতা হিসাব করে চলতে না পারার বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএ দেখবে কি? প্রত্যয়ের সজোরে ধাক্কায় গুরুত্বপূর্ণ ওই সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর ওপর দিয়ে যান চলাচলও বিঘ্নিত হয়। ডোবার ১২ ঘণ্টা পরও লঞ্চটির ভেতর থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ডুবে যাওয়া জাহাজটি যেহেতু খুব বড় ছিল না তাই উদ্ধারকারী জাহাজ দিয়ে একে দ্রুত উঠাতে পারলে হয়তো আরও কিছু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো। এ ক্ষেত্রে উদ্ধার কার্যক্রমে বিকল্প জাহাজের ব্যবস্থা কেন করা যায়নি- এ প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে।
যেখানে দেশের মানুষের প্রায় পঁয়ত্রিশ ভাগ যাতায়াতই নৌপথে সম্পন্ন হচ্ছে, তারপরও এ পথে ঝুঁকি থাকেই। দুর্ভাগ্যবশত মাঝে মাঝেই এ পথে দুর্ঘটনা ঘটে। নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই, অদক্ষ চালক, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে সতর্ক হলে তার অধিকাংশই এড়ানো সম্ভব বলে আমরা মনে করি। আমরা দেখেছি, প্রায়ই ছোটখাটো অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। লঞ্চের সঙ্গে লঞ্চের এবং লঞ্চের সঙ্গে ছোট নৌকার সংঘর্ষে অনেকেরই প্রাণহানি ঘটে। কিন্তু এরকম ছোট ছোট দুর্ঘটনা কর্তৃপক্ষ আমলে নেয় না বললেই চলে। ছোট লঞ্চকে বড় লঞ্চ ধাক্কা মেরে ডুবিয়ে দেওয়ার মতো স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ এখানে নেই। লঞ্চচালকদের অবশ্যই দায়িত্বশীল ও যোগ্য হওয়া জরুরি। অভিযোগ উঠেছে, বুড়িগঙ্গায় এমএল মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়ার সময় ঘাতক 'ময়ূর-২' লঞ্চের মূল মাস্টার ছিলেন না। লঞ্চটির চালকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি লঞ্চটি চালাননি। যাদের লঞ্চ চালানোর কথা নয় তারা সেটি চালাচ্ছিল। বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।
প্রতিটি ঘটনার মতো এ ঘটনায়ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর কর্তাব্যক্তিসহ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি সাত দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। আমরা চাই কমিটি সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ কারণ বের করবে। একই সঙ্গে নৌপথ সুরক্ষিত করতে তারা প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবেন এবং মন্ত্রণালয় সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। লঞ্চডুবির ঘটনায় ইতোমধ্যে ময়ূর-২ লঞ্চ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নৌপুলিশ মামলা করেছে। আমাদের প্রত্যাশা, বেপরোয়াভাবে লঞ্চ চালিয়ে মানুষ হত্যা ও ধাক্কা দিয়ে লঞ্চ দুর্ঘটনার জন্য যে নির্দিষ্ট দণ্ডবিধি রয়েছে সে অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লঞ্চডুবির ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, বিশেষ করে যাদের প্রাণহানি ঘটেছে তাদের পরিবারবর্গের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। ইতোমধ্যে মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী। আমরা জানি, স্বজন হারানোর বেদনার তুলনায় এ অর্থ নস্যি। তারপরও একেবারে অসহায় পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে অন্যান্য ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে আসুক। আহত যাদের চিকিৎসা প্রয়োজন তাদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। লঞ্চডুবির ঘটনায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। শোকার্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমরাও সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা মনে করি, জাতীয় স্বার্থেই নৌপথে সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশাসন, মালিক, চালকসহ সংশ্নিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং যথাযথ সতর্কতাই নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করতে পারে।
- বিষয় :
- বুড়িগঙ্গায় লঞ্চ 'দুর্ঘটনা'