স্মৃতিতে অম্লান স্যামসন এইচ চৌধুরী
স্যামসন এইচ চৌধুরী, (১৯২৬-২০১২)
এবিএম ফজলুর রহমান
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২১ | ১২:০০ | আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২১ | ১৫:৩২
বাবা ছিলেন চিকিৎসক। সে সুবাদেই ওষুধ তৈরির প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রচুর। লেখাপড়া শেষ করে কিছুদিন সরকারি চাকরি করেছেন। পরে বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ফার্মেসি খুললেন। ওষুধ বিক্রি করতে করতেই হঠাৎ একদিন মাথায় চিন্তা এলো ওষুধ তৈরির। যে কথা সে-ই কাজ। মাত্র ২০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ওষুধ তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। দেড় বছরে পুঁজি বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ হাজার টাকা। আর চার বছর পর মুনাফা করতে শুরু করেন। এই সফল ও স্বপ্নের গল্প স্কয়ার গ্রুপের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরীর। সততা, নিষ্ঠা, শ্রম, মেধা, শৃঙ্খলা ও সময়জ্ঞান একজন মানুষকে কত ওপরে নিয়ে যেতে পারে, তার উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত তিনি। যিনি আস্থা ও মনোবলকে পুঁজি করে শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছেছিলেন।
বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী স্যামসন এইচ চৌধুরী ১৯২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার কাশিয়ানী থানার আড়ূকাকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। স্যামসন চৌধুরী ভারতে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৫২ সালে পাবনা জেলার আতাইকুলায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি প্রাচীন ঢাকার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি, মাইডাসের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পাবলিক লিস্টেড কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন, চেয়ারম্যান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড, ঢাকা ক্লাবের আজীবন সদস্য, এফবিসিসিআইর পরিচালক, এক্সিকিউটিভ মেম্বার বাংলাদেশ ফ্রেঞ্চ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইসিসিআই), উপদেষ্টা ও সভাপতি বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি, প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ হারবাল প্রোডাক্টস প্রস্তুতকারক সমিতি, চেয়ারম্যান মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, চেয়ারম্যান ও ট্রাস্টি-টিআইবি, চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহবাজপুর টি এস্টেট লিমিটেড এবং পাবনা প্রেস ক্লাবের জীবন সদস্য ছিলেন। তিনি ২০১৬ সালে মর্যাদাপূর্ণ একুশে পদকে ভূষিত হন।
এ ছাড়া স্যামসন চৌধুরী ১৯৯৮ সালে আমেরিকান চেম্বার কর্তৃক বিজনেস এক্সিকিউটিভ অব দ্য ইয়ার, ২০০০-০১ সালে ডেইলি স্টার এবং ডিএইচএল কর্তৃক বেস্ট এন্টারপ্রেনার অব দ্য কান্ট্রি, ২০০৩ সালে মার্কেন্টাইল ব্যাংক অ্যাওয়ার্ড, ২০০৫ সালে ব্যাংকার্স ফোরাম অ্যাওয়ার্ড, ২০০৬ সালে আইসিএবি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড, ২০০৭ ও ২০০৮ সালে পরপর দুই বছর দেশের সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৫ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক সেরা করদাতা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পান। ২০০৯ ও ২০১০ সালে সিআইপি মনোনীত হন। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি সিঙ্গাপুরে তিনি পরলোকগমন করেন। তাকে পাবনা শহরের বৈকুণ্ঠপুরের বাসভবন এস্ট্রাসে সমাহিত করা হয়।
স্যামসন এইচ চৌধুরীর স্ত্রী অনিতা চৌধুরী। তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে স্যামুয়েল এস চৌধুরী (স্বপন চৌধুরী) বর্তমানে স্কয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান, মেজো ছেলে তপন চৌধুরী স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং স্কয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ছোট ছেলে অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু মাছরাঙা টেলিভিশন, স্কয়ার টয়লেট্রিজ, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। একমাত্র মেয়ে রত্না পাত্র স্কয়ার গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান। তারা সবাই স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত।
স্যামসন এইচ চৌধুরী শীর্ষ শিখরে পৌঁছলেও ভুলে যাননি অতীত। পাবনাকে খুব ভালোবাসতেন তিনি। পাবনার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রয়েছে তার অনেক অবদান। তিনি পরলোকে চলে গেলেও এসব প্রতিষ্ঠান তাকে স্মরণ করবে চিরকাল। করোনার কারণে এ বছর তেমন কর্মসূচি রাখা না হলেও দেশবরেণ্য এই শিল্পপতির মৃত্যু দিবসে তার পরিবারের পক্ষ থেকে পাবনার এস্ট্রাস খামারবাড়িতে প্রার্থনা সভা এবং পাবনা প্রেস ক্লাব স্মরণসভার আয়োজন করেছে।
সাংবাদিক
- বিষয় :
- স্যামসন এইচ চৌধুরী
- এবিএম ফজলুর রহমান
