ভিন্নমত
বিলাসী মেগা প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়
×
খায়রুল কবীর খোকন
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২১ | ১২:০০
বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতার জায়গা কোনটি? এই প্রশ্নের জবাব খুব কঠিন নয়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও দিতে পারবে। আমলাগোষ্ঠী-পুলিশের ওপর নির্ভরতা এবং রাষ্ট্র-প্রশাসনে আমলাতন্ত্রের আধিপত্য, দুর্নীতি ও অদক্ষতা; এর মানে সার্বিক সুশাসনের নিদারুণ সংকট।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একটা প্রবাদতুল্য বাক্য আছে- 'যে রাষ্ট্রের জনমানুষ যে ধরনের সরকার চায়, তারা ঠিক সেই ধরনেরই সরকার পায়।' কথাটির মধ্যে একটি রাষ্ট্র-দর্শন আছে, যার মর্মকথা হচ্ছে- একটি রাষ্ট্রের নাগরিকরা যদি চায় প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার, তাহলে সেই চাওয়া অনুযায়ী লড়াইটাও চালাতে হবে। আর যদি রাষ্ট্রের নাগরিকরা ঘুমিয়ে থাকে, জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকারের জন্য লড়াইটা না করতে চায়, তাহলে বিভিন্ন চক্র বেরিয়ে আসবে ক্ষমতা দখল করতে। গণতন্ত্র সব দেশেই গণমানুষকে লড়াই করে অর্জন করতে হয়েছে, এমনিতে কায়েম হয়ে যায়নি।
আমাদের দেশে বিলাসী সব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে বন্ধুরাষ্ট্রের 'উন্নয়ন সহযোগিতা'র নামে আর দেশি-বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং রাজনীতিক-আমলাদের রাষ্ট্রীয় অর্থ লোপাট ও পাচারের উদ্দেশ্যে। সতেরো কোটি মানুষের এই দেশে, পাঁচ কোটি বেকারের সমাজে, প্রায় পাঁচ কোটি অতি দরিদ্র মানুষের এই রাষ্ট্রে প্রকল্প অগ্রগণ্যতা বিচার করার ক্ষেত্রে কোনো সুবিবেচনাই এক নম্বরে আসেনি।
এখন এটি সুস্পষ্ট, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজে তাড়াহুড়া করার কোনো দরকার ছিল না, এটা আরও দশ বছর পরে বাস্তবায়ন করলেও এমন কোনো ক্ষতি হতো না। কারণ, দেখা গেছে বিগত দশ বছরে এই কর্মকাণ্ড চলার সময়েই প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে প্রায় চারশ শতাংশ। মানে যে প্রকল্পটি সর্বোচ্চ আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল তা এখন বত্রিশ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে চলেছে।
পদ্মা সেতু প্রকল্পটি এই সময় বাস্তবায়ন না করে পর্যাপ্ত সংখ্যক ফেরি-জাহাজ বৃদ্ধি করা, মাওয়া এবং অন্য পারে নতুন দশটি ফেরিঘাট বর্ধিতকরণ, আর ফেরি-জাহাজ চলাচলের পথে নিয়মিত ড্রেজিং করে নাব্যতা বৃদ্ধিকরণ ইত্যাদি কাজে বছরে মোটামুটিভাবে অতিরিক্ত তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলে তাতেই পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দ্রুতগতির চলাচল সুবিধার একটা বড় অংশ অর্জন করা যেত। বছর দশেক সময় নিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিজস্ব অর্থ জোগাড় করে বিশ্বের সেরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর একটিকে দিয়ে এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে সেতুর নির্মাণকাজ হতো অনেক উঁচুমানের টেকসই।
পদ্মা সেতুর এই বিপুল বিনিয়োগ জোগাড়ে এতটা হুড়োহুড়ি না করে তার একটা অংশ পদ্মার এপার-ওপার শিল্পাঞ্চল গড়ে তাতে বিনিয়োগ করা গেলে অধিক লাভ অর্জন করা সম্ভব হতো। তাতে অনেক অর্থ সাশ্রয় হতো। আর চীনা ঠিকাদার না নিয়ে কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ এ ধরনের উন্নত রাষ্ট্রের উঁচুমানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগানো সম্ভব হতো। পরিণামে সেতুটির নির্মাণ ব্যয় আরও যৌক্তিক পর্যায়ের এবং 'গ্যারান্টেড জীবনকাল শতবছর' নিশ্চিত করার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত হতো।
আরেকটি মেগা প্রকল্প চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর নিচে দিয়ে টানেল-ব্রিজ নির্মাণ। এই কাজ নিয়েও একই অভিযোগ- এটি শতভাগ অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প। এই অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে অর্থ ব্যয় না করে অন্য কোনো জায়গায় শিল্পকারখানা নির্মাণের চেষ্টা করলে সেটাই হতো সাশ্রয়ী। এ রকম অনেক বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যা এই দেশের অবকাঠামো নির্মাণের কর্মকাণ্ডে এখনও অপ্রয়োজনীয় এবং অপচয়মূলক।
হাওর অঞ্চলে এ রকম অপ্রয়োজনীয় কত প্রকল্প বাস্তবায়ন করে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হয়েছে বেড়িবাঁধের নামে, আন্তঃজেলা সংযোগ সড়কের নামে। তাতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে তার মূল্যমানের সুবিধা জনমানুষ পেয়েছে কিনা সেটা কি অধ্যয়ন করে দেখা হয়েছে? আদৌ হয়নি। বিশেষ কৌশলে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করে বিশেষ ব্যক্তিদের পকেট ভারী করার জন্য এমন অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
হাওরে দরকার মাছের আবাদ ব্যাপকভাবে বাড়ানোর লক্ষ্যে ফসলের জমিতে রাসায়নিক পেস্টিসাইড ব্যবহার শতভাগ বন্ধ করে দেওয়া। প্রতি বছর মৎস্য পোনা উৎপাদন খামারে প্রচুর পরিমাণে মাছের রেণু পোনা উৎপাদন করে সেসব অবমুক্তকরণ এবং সেই লক্ষ্যে মা-মাছের খামারের মাধ্যমে প্রচুর রেণু পোনা উৎপাদনের বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড চালানোর বিশেষ প্রকল্প নেওয়া। আর হাওরের পানি যাতে পরিবেশসম্মত থাকে অন্যসব দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা।
হাওরের মতোই দেশের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন রোধে কিংবা রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট নির্মাণে অনেক অপ্রয়োজনীয় এবং অসফল প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। সেসবের পেছনে রাষ্ট্রীয় অর্থের দেদার অপচয় সাধারণ জনেরও চোখে পড়ে, বিশেষজ্ঞ হতে হয় না। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় এবং বিলাসী প্রকল্প নেওয়া কমছেই না। সেসব নিয়ে পত্রপত্রিকায়, টেলিভিশনে কম আলোচনা হয় না। কিন্তু প্রশাসনের উপযুক্ত ব্যক্তিদের নজরে আসে না।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা দূর করতে গত চার দশকে কত প্রকল্পে কত টাকা যে অপচয় হয়েছে, এর হিসাব কে রাখে! সেসব নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি, কিন্তু প্রকৃত বিশেষজ্ঞদের কথা শোনা হয়নি।
উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নেওয়ার আগে আমাদের জাতীয় প্রয়োজনের প্রকৃত অগ্রগণ্যতা যাচাই-বাছাই হওয়া দরকার সৎ বিশেষজ্ঞদের নিরপেক্ষ প্যানেল দিয়ে। কেবল অসাধু ও অদক্ষ আমলা এবং তথাকথিত বন্ধুরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রকল্প বাছাই করলে চলবে না।
দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, আমাদের দেশের নিরপেক্ষ থিঙ্ক ট্যাঙ্ক যে দু-একটি আছে, বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যাপারে তাদের বিশ্নেষণ ও সুপরামর্শ আমলাগোষ্ঠী ও ক্ষমতাবান রাজনীতিকরা শুনতেই নারাজ। আর উল্টোদিকের চিত্র- বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রকল্পগুলোর 'অগ্রগণ্যতা' নিয়ে উঁচু মাপের গবেষণা করতেও দেখা যায় না (দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া)। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন অপরিহার্য।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব; সাবেক সংসদ সদস্য সাবেক ডাকসু সাধারণ সম্পাদক
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একটা প্রবাদতুল্য বাক্য আছে- 'যে রাষ্ট্রের জনমানুষ যে ধরনের সরকার চায়, তারা ঠিক সেই ধরনেরই সরকার পায়।' কথাটির মধ্যে একটি রাষ্ট্র-দর্শন আছে, যার মর্মকথা হচ্ছে- একটি রাষ্ট্রের নাগরিকরা যদি চায় প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার, তাহলে সেই চাওয়া অনুযায়ী লড়াইটাও চালাতে হবে। আর যদি রাষ্ট্রের নাগরিকরা ঘুমিয়ে থাকে, জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকারের জন্য লড়াইটা না করতে চায়, তাহলে বিভিন্ন চক্র বেরিয়ে আসবে ক্ষমতা দখল করতে। গণতন্ত্র সব দেশেই গণমানুষকে লড়াই করে অর্জন করতে হয়েছে, এমনিতে কায়েম হয়ে যায়নি।
আমাদের দেশে বিলাসী সব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে বন্ধুরাষ্ট্রের 'উন্নয়ন সহযোগিতা'র নামে আর দেশি-বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং রাজনীতিক-আমলাদের রাষ্ট্রীয় অর্থ লোপাট ও পাচারের উদ্দেশ্যে। সতেরো কোটি মানুষের এই দেশে, পাঁচ কোটি বেকারের সমাজে, প্রায় পাঁচ কোটি অতি দরিদ্র মানুষের এই রাষ্ট্রে প্রকল্প অগ্রগণ্যতা বিচার করার ক্ষেত্রে কোনো সুবিবেচনাই এক নম্বরে আসেনি।
এখন এটি সুস্পষ্ট, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজে তাড়াহুড়া করার কোনো দরকার ছিল না, এটা আরও দশ বছর পরে বাস্তবায়ন করলেও এমন কোনো ক্ষতি হতো না। কারণ, দেখা গেছে বিগত দশ বছরে এই কর্মকাণ্ড চলার সময়েই প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে প্রায় চারশ শতাংশ। মানে যে প্রকল্পটি সর্বোচ্চ আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল তা এখন বত্রিশ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে চলেছে।
পদ্মা সেতু প্রকল্পটি এই সময় বাস্তবায়ন না করে পর্যাপ্ত সংখ্যক ফেরি-জাহাজ বৃদ্ধি করা, মাওয়া এবং অন্য পারে নতুন দশটি ফেরিঘাট বর্ধিতকরণ, আর ফেরি-জাহাজ চলাচলের পথে নিয়মিত ড্রেজিং করে নাব্যতা বৃদ্ধিকরণ ইত্যাদি কাজে বছরে মোটামুটিভাবে অতিরিক্ত তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলে তাতেই পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দ্রুতগতির চলাচল সুবিধার একটা বড় অংশ অর্জন করা যেত। বছর দশেক সময় নিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিজস্ব অর্থ জোগাড় করে বিশ্বের সেরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর একটিকে দিয়ে এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে সেতুর নির্মাণকাজ হতো অনেক উঁচুমানের টেকসই।
পদ্মা সেতুর এই বিপুল বিনিয়োগ জোগাড়ে এতটা হুড়োহুড়ি না করে তার একটা অংশ পদ্মার এপার-ওপার শিল্পাঞ্চল গড়ে তাতে বিনিয়োগ করা গেলে অধিক লাভ অর্জন করা সম্ভব হতো। তাতে অনেক অর্থ সাশ্রয় হতো। আর চীনা ঠিকাদার না নিয়ে কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ এ ধরনের উন্নত রাষ্ট্রের উঁচুমানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগানো সম্ভব হতো। পরিণামে সেতুটির নির্মাণ ব্যয় আরও যৌক্তিক পর্যায়ের এবং 'গ্যারান্টেড জীবনকাল শতবছর' নিশ্চিত করার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত হতো।
আরেকটি মেগা প্রকল্প চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর নিচে দিয়ে টানেল-ব্রিজ নির্মাণ। এই কাজ নিয়েও একই অভিযোগ- এটি শতভাগ অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প। এই অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে অর্থ ব্যয় না করে অন্য কোনো জায়গায় শিল্পকারখানা নির্মাণের চেষ্টা করলে সেটাই হতো সাশ্রয়ী। এ রকম অনেক বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যা এই দেশের অবকাঠামো নির্মাণের কর্মকাণ্ডে এখনও অপ্রয়োজনীয় এবং অপচয়মূলক।
হাওর অঞ্চলে এ রকম অপ্রয়োজনীয় কত প্রকল্প বাস্তবায়ন করে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হয়েছে বেড়িবাঁধের নামে, আন্তঃজেলা সংযোগ সড়কের নামে। তাতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে তার মূল্যমানের সুবিধা জনমানুষ পেয়েছে কিনা সেটা কি অধ্যয়ন করে দেখা হয়েছে? আদৌ হয়নি। বিশেষ কৌশলে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করে বিশেষ ব্যক্তিদের পকেট ভারী করার জন্য এমন অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
হাওরে দরকার মাছের আবাদ ব্যাপকভাবে বাড়ানোর লক্ষ্যে ফসলের জমিতে রাসায়নিক পেস্টিসাইড ব্যবহার শতভাগ বন্ধ করে দেওয়া। প্রতি বছর মৎস্য পোনা উৎপাদন খামারে প্রচুর পরিমাণে মাছের রেণু পোনা উৎপাদন করে সেসব অবমুক্তকরণ এবং সেই লক্ষ্যে মা-মাছের খামারের মাধ্যমে প্রচুর রেণু পোনা উৎপাদনের বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড চালানোর বিশেষ প্রকল্প নেওয়া। আর হাওরের পানি যাতে পরিবেশসম্মত থাকে অন্যসব দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা।
হাওরের মতোই দেশের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন রোধে কিংবা রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট নির্মাণে অনেক অপ্রয়োজনীয় এবং অসফল প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। সেসবের পেছনে রাষ্ট্রীয় অর্থের দেদার অপচয় সাধারণ জনেরও চোখে পড়ে, বিশেষজ্ঞ হতে হয় না। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় এবং বিলাসী প্রকল্প নেওয়া কমছেই না। সেসব নিয়ে পত্রপত্রিকায়, টেলিভিশনে কম আলোচনা হয় না। কিন্তু প্রশাসনের উপযুক্ত ব্যক্তিদের নজরে আসে না।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা দূর করতে গত চার দশকে কত প্রকল্পে কত টাকা যে অপচয় হয়েছে, এর হিসাব কে রাখে! সেসব নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি, কিন্তু প্রকৃত বিশেষজ্ঞদের কথা শোনা হয়নি।
উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নেওয়ার আগে আমাদের জাতীয় প্রয়োজনের প্রকৃত অগ্রগণ্যতা যাচাই-বাছাই হওয়া দরকার সৎ বিশেষজ্ঞদের নিরপেক্ষ প্যানেল দিয়ে। কেবল অসাধু ও অদক্ষ আমলা এবং তথাকথিত বন্ধুরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রকল্প বাছাই করলে চলবে না।
দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, আমাদের দেশের নিরপেক্ষ থিঙ্ক ট্যাঙ্ক যে দু-একটি আছে, বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যাপারে তাদের বিশ্নেষণ ও সুপরামর্শ আমলাগোষ্ঠী ও ক্ষমতাবান রাজনীতিকরা শুনতেই নারাজ। আর উল্টোদিকের চিত্র- বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রকল্পগুলোর 'অগ্রগণ্যতা' নিয়ে উঁচু মাপের গবেষণা করতেও দেখা যায় না (দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া)। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন অপরিহার্য।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব; সাবেক সংসদ সদস্য সাবেক ডাকসু সাধারণ সম্পাদক
- বিষয় :
- ভিন্নমত
- খায়রুল কবীর খোকন
