ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রত্যাশা

প্রত্যাশা
×

ফাইল ছবি

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৩ | ১৮:০০

বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতিরূপে মোঃ সাহাবুদ্দিন এমন সময় শপথ গ্রহণ করিয়াছেন, যখন রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে এই পদে আসীন ব্যক্তির ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ বলিয়া প্রতিভাত হইবে। সমকাল অনলাইনের সংবাদ অনুসারে, সোমবার বেলা ১১টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাঁহাকে রাষ্ট্রপতিরূপে শপথ পাঠ করান। আমরা নূতন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। মোঃ সাহাবুদ্দিনের এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হইল রাষ্ট্রপতিরূপে মোঃ আবদুল হামিদের মেয়াদকাল, যিনি ২০১৩ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিরূপে ৪১ দিনসহ একাদিক্রমে দুই মেয়াদে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিরূপে মোট ১০ বৎসর ৪১ দিন দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই প্রথম রাষ্ট্রপতি, যিনি ধর্তব্য কোনো বিতর্কের জন্ম না দিয়া এত দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন এবং স্বাভাবিক পন্থায় উত্তরসূরির নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করিয়াছেন। তৃণমূল হইতে বিভিন্ন সোপান অতিক্রম করিয়া রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানে আসন গ্রহণকারী ত্যাগী এই রাজনীতিকের প্রতিও আমাদের শুভকামনা রহিল। রাষ্ট্রপতির দায়িত্বকালে বিশেষত রাজনীতিকে রাজনীতিকদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সংঘাত-সহিংসতার পরিবর্তে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের পক্ষে তিনি বরাবরই সোচ্চার ছিলেন। অবসর-উত্তর জীবনেও তাঁহার এই ভূমিকা অব্যাহত থাকিবে বলিয়া আমাদের বিশ্বাস।

বিদায়ী রাষ্ট্রপতির ন্যায় নূতন রাষ্ট্রপতিও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধারূপে এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রাখিয়াছেন। তিনি জীবনের প্রারম্ভে তৃণমূলের রাজনীতিতে সময় অতিবাহিত করিয়াছেন। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়া ১৯৮২ সালে তিনি জজিয়তিতে প্রবেশ করেন এবং ২৫ বৎসর সনিষ্ঠ দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ পদ হইতে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁহার পেশাজীবনের এহেন নিষ্ঠা দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও অব্যাহত ছিল। বস্তুত পূর্বসূরির ন্যায় নূতন রাষ্ট্রপতিরও গ্রহণযোগ্যতার কোনো সংকট নাই, যাহা আমাদের জাতীয় সম্পদ। কারণ এহেন ভাবমূর্তিসম্পন্ন অভিভাবককে এই রাষ্ট্র এমন সময়ে পাইয়াছে যখন দুঃখজনকভাবে আমাদের জাতীয় জীবনে নানা প্রকার বিভাজন সৃষ্টিকারী রাজনীতির বাড়বাড়ন্ত পরিলক্ষিত হইতেছে। উপরন্তু আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করিয়া দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে অব্যাহত মতভেদ দেশে এক ধরনের রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করিয়াছে। অচিরেই উহার সুরাহা না হইলে শুধু দেশই ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্যে নিপতিত হইবে না; বিগত সময়ে বহু শ্রম-ঘামের মধ্য দিয়া অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতিসমূহও নস্যাৎ হইতে পারে।

আমরা দেখিতেছি, বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত বিশেষত গত দুই সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা লইয়া দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশ্ন উত্থাপনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি ও উহার মিত্র দলগুলি দলীয় সরকারের অধীনে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করিবার সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়াছে। অপরদিকে শাসক দল আওয়ামী লীগ সংবিধান অনুসারে উহার অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। অধিকন্তু উভয় দলের নেতৃবৃন্দ কয়েক মাস যাবৎ এই বিষয়ে পরস্পর বাগ্‌যুদ্ধে লিপ্ত রহিয়াছেন এবং বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সুরাহার লক্ষ্যে আলোচনায় বসিতে অনীহা প্রদর্শন করিয়া চলিয়াছেন। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, রাজনীতির এই অচলাবস্থা অব্যাহত থাকিলে দেশে পুনরায় ২০১৪-১৫ সালের অনুরূপ সহিংস পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটিতে পারে, যাহার ধাক্কা সহ্য করা জাতীয় অর্থনীতির পক্ষে আদৌ সম্ভব নহে।

আমরা মনে করি, রাষ্ট্রপতিরূপে মোঃ সাহাবুদ্দিন এই ক্ষেত্রে জাতিকে আশার আলো দেখাইতে পারেন। সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন থাকিয়াই আমরা বলিতে পারি, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রাখিয়া তিনি রাজনীতির যুযুধান এই দুই পক্ষের সহিত আলোচনার সূত্রপাত করিতে পারেন, যাহা এক পর্যায়ে দুই দলের মধ্যে সরাসরি সংলাপের বাতাবরণ সৃষ্টি করিতে পারে। আশার বিষয়, নূতন রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে একাধিকবার গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাঁহার পক্ষে সম্ভব সকল ভূমিকা গ্রহণের কথা জানাইয়াছেন। আমরা এইবার উহার বাস্তবায়ন দেখিতে প্রত্যাশী।

আরও পড়ুন

×