ওজোনস্তরের ক্ষতি
×
আফতাব চৌধুরী
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২১ | ১২:০০
বায়ুমণ্ডলে ওজোনস্তরের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় তিন দশক আগে। আমরা অনেকেই জানি, সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি যাতে সরাসরি পৃথিবীপৃষ্ঠে না আসে সে কাজটি করে থাকে বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তর। দেখা গেছে, ব্রোমাইট ও ক্লোরিনযুক্ত রাসায়নিক পদার্থের প্রসারণের ফলে বায়ুমণ্ডলের সমতা নষ্ট হচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে গহ্বরের। বিশেষত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্টাইরোফোম, স্প্রে শিল্প ইত্যাদিতে ব্যবহূত ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (সিএফসি) এবং আগুন নেভানোর জন্য হ্যালন নামক রাসায়নিকের ব্যবহার অত্যধিক বেড়ে যাওয়ার ফলে ওজোনস্তরে ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে। সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মির বেশিটাই শুষে নেয় ওজোনস্তর। কিন্তু সেখানে যদি গহ্বর সৃষ্টি হয় তাহলে ওই রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছবে এবং জীবজগতে প্রাণ সংশয় দেখা দেবে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, বাতাসে যদি ১ শতাংশ ওজোন কমে যায় তাহলে ২০৭৫ সালের আগে যারা জন্ম নেবে এমন ৩০ লাখ থেকে দেড় কোটি মানুষের চামড়ায় ক্যান্সার দেখা দেবে। ৫ লাখ থেকে ২৮ লাখ মানুষের চোখে নতুন করে ছানি পড়বে। এই ওজোনস্তরঘটিত সমস্যা বর্তমানে বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে।
সভ্যতার সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে শিল্পের বর্জ্য। বিপজ্জনক রাসায়নিক বর্জ্য সৃষ্টি হয় জৈব রাসায়নিক শিল্পে। ১৯৩০ সালে যেখানে এর পরিমাণ ছিল ১০ লাখ টন; ১৯৯০ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৫০ কোটি টন। ১৯৯২ সালে ২৩০ কোটি গ্যালন শিল্পজাত বর্জ্য পদার্থ সাগরে ফেলা হয়। এই বর্জ্য পদার্থের মধ্যে অতিমাত্রায় ক্ষতিকারক হলো পারমাণবিক বর্জ্য। এ নিয়ে মানুষ কী করবে, জানেন না বিজ্ঞানীরা। পারমাণবিক চুল্লির জ্বালানি হলো ইউরেনিয়াম। এই পদার্থটি যখন খনি থেকে তোলা হয় তখন তা রেডন নামে এক তেজস্ট্ক্রিয় গ্যাস বিকিরণ করে, যা শ্রমিকের ফুসফুসে ঢুকে ক্যান্সার সৃষ্টি করে।
জনসংখ্যার চাপ বৃদ্ধি, যথেষ্টভাবে বসতবাড়ি, পাহাড়ি রাস্তায় যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি সবকিছু মিলে বিপন্ন করে তুলছে পাহাড়ি অঞ্চলকে। কম-বেশি সব দেশেই পাহাড়ে পর্যটকের ভিড় তার পরিবেশকে বিপন্ন করছে। নানাভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য।
ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে ১৯৯২ সালে যে সম্মেলন হয়েছিল পরিবেশ নিয়ে, তাতে আবহাওয়া নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং সর্বশেষ জাপানের কিয়োটো সম্মেলনে চুক্তি হয় ২০১২ সালের মধ্যে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কমিয়ে ফেলার। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। বায়ুদূষণের জন্য বিজ্ঞানীরা কার্বন-ডাই-অক্সাইড, সালফার-ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন প্রভৃতিকে দায়ী করেন। বিভিন্ন খনিজ জ্বালানি যেমন কয়লা, পেট্রোল, ডিজেল, প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ালে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত একশ বছরে বাতাসে ২৫ শতাংশ কার্বন-ডাই-অক্সাইড বেড়েছে। তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় প্রচুর সালফার-ডাই-অক্সাইড বাতাসে মেশে। সালফার-ডাই-অক্সাইড বাতাসে থাকা অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিশে সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিড উৎপন্ন করে। এ দুই প্রকার অ্যাসিড বৃষ্টির সঙ্গে মাটিতে নেমে আসে। অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে মাটির উর্বরা শক্তি হ্রাস পায়, উদ্ভিদের বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পানির উৎসগুলো দূষিত হয়ে পড়ে। বায়ুদূষণের ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বায়ুদূষণের পরিমাণ না কমালে ২০৪০ সাল নাগাদ পৃথিবীর উষ্ণতা ৫০ সেন্টিগ্রেড বেড়ে যাবে। তাতে মেরু অঞ্চলে বরফ গলবে, হিমবাহগুলো গলতে শুরু করবে, পানিস্তর ২-৩ ফুট বেড়ে যাবে। ফলে সমুদ্র উপকূলের শহরগুলো ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেবে। পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখার চেষ্টা শুধু মুষ্টিমেয় বৈজ্ঞানিক বা পরিবেশ সচেতন ব্যক্তির দায় নয়। সচেতন সবারই সার্বিক স্বার্থ ও প্রয়োজনে এক্ষেত্রে কমবেশি দায় রয়েছে। যেভাবে চলছে এভাবে চললে ভয়াবহ পরিণতি যে আমাদের ভোগ করতে হবে, তা অনিবার্য। ধনী দেশগুলোর ইদানীং একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে- পরিবেশ দূষণের যাবতীয় দায় তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর ঘাড়ে চাপিয়ে নিজেদের ক্লিন রাখার চেষ্টা। অথচ আমরা দেখেছি, বিশ্বের যাবতীয় দূষণের জন্য প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সিংহভাগ দায়ী উন্নত দেশগুলো। আমরা যারা তৃতীয় বিশ্বের মানুষ দূষণ নিয়ে চেঁচামেচি করি, তা শুধু অক্ষমের বিলাপ ছাড়া আর কিছু নয়।
সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী
সভ্যতার সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে শিল্পের বর্জ্য। বিপজ্জনক রাসায়নিক বর্জ্য সৃষ্টি হয় জৈব রাসায়নিক শিল্পে। ১৯৩০ সালে যেখানে এর পরিমাণ ছিল ১০ লাখ টন; ১৯৯০ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৫০ কোটি টন। ১৯৯২ সালে ২৩০ কোটি গ্যালন শিল্পজাত বর্জ্য পদার্থ সাগরে ফেলা হয়। এই বর্জ্য পদার্থের মধ্যে অতিমাত্রায় ক্ষতিকারক হলো পারমাণবিক বর্জ্য। এ নিয়ে মানুষ কী করবে, জানেন না বিজ্ঞানীরা। পারমাণবিক চুল্লির জ্বালানি হলো ইউরেনিয়াম। এই পদার্থটি যখন খনি থেকে তোলা হয় তখন তা রেডন নামে এক তেজস্ট্ক্রিয় গ্যাস বিকিরণ করে, যা শ্রমিকের ফুসফুসে ঢুকে ক্যান্সার সৃষ্টি করে।
জনসংখ্যার চাপ বৃদ্ধি, যথেষ্টভাবে বসতবাড়ি, পাহাড়ি রাস্তায় যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি সবকিছু মিলে বিপন্ন করে তুলছে পাহাড়ি অঞ্চলকে। কম-বেশি সব দেশেই পাহাড়ে পর্যটকের ভিড় তার পরিবেশকে বিপন্ন করছে। নানাভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য।
ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে ১৯৯২ সালে যে সম্মেলন হয়েছিল পরিবেশ নিয়ে, তাতে আবহাওয়া নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং সর্বশেষ জাপানের কিয়োটো সম্মেলনে চুক্তি হয় ২০১২ সালের মধ্যে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কমিয়ে ফেলার। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। বায়ুদূষণের জন্য বিজ্ঞানীরা কার্বন-ডাই-অক্সাইড, সালফার-ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন প্রভৃতিকে দায়ী করেন। বিভিন্ন খনিজ জ্বালানি যেমন কয়লা, পেট্রোল, ডিজেল, প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ালে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত একশ বছরে বাতাসে ২৫ শতাংশ কার্বন-ডাই-অক্সাইড বেড়েছে। তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় প্রচুর সালফার-ডাই-অক্সাইড বাতাসে মেশে। সালফার-ডাই-অক্সাইড বাতাসে থাকা অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিশে সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিড উৎপন্ন করে। এ দুই প্রকার অ্যাসিড বৃষ্টির সঙ্গে মাটিতে নেমে আসে। অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে মাটির উর্বরা শক্তি হ্রাস পায়, উদ্ভিদের বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পানির উৎসগুলো দূষিত হয়ে পড়ে। বায়ুদূষণের ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বায়ুদূষণের পরিমাণ না কমালে ২০৪০ সাল নাগাদ পৃথিবীর উষ্ণতা ৫০ সেন্টিগ্রেড বেড়ে যাবে। তাতে মেরু অঞ্চলে বরফ গলবে, হিমবাহগুলো গলতে শুরু করবে, পানিস্তর ২-৩ ফুট বেড়ে যাবে। ফলে সমুদ্র উপকূলের শহরগুলো ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেবে। পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখার চেষ্টা শুধু মুষ্টিমেয় বৈজ্ঞানিক বা পরিবেশ সচেতন ব্যক্তির দায় নয়। সচেতন সবারই সার্বিক স্বার্থ ও প্রয়োজনে এক্ষেত্রে কমবেশি দায় রয়েছে। যেভাবে চলছে এভাবে চললে ভয়াবহ পরিণতি যে আমাদের ভোগ করতে হবে, তা অনিবার্য। ধনী দেশগুলোর ইদানীং একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে- পরিবেশ দূষণের যাবতীয় দায় তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর ঘাড়ে চাপিয়ে নিজেদের ক্লিন রাখার চেষ্টা। অথচ আমরা দেখেছি, বিশ্বের যাবতীয় দূষণের জন্য প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সিংহভাগ দায়ী উন্নত দেশগুলো। আমরা যারা তৃতীয় বিশ্বের মানুষ দূষণ নিয়ে চেঁচামেচি করি, তা শুধু অক্ষমের বিলাপ ছাড়া আর কিছু নয়।
সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী
- বিষয় :
- ওজোনস্তরের ক্ষতি
- আফতাব চৌধুরী
