ভাষার মাস
'অপহৃত ' বাংলা ভাষার 'অপভ্রংশ' ভাবনা
আনিস আহমেদ
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ১২:০০
জানি অনেকেই হয়তো বলবেন যে কবি-সাহিত্যিকরা তো ভাষার নিয়ম তেমনভাবে রক্ষা করেন না। জীবনানন্দ তো রীতিমতো তার একটি কবিতার নামই করলেন, 'আশ্চর্য বিস্ময়'; কিন্তু আমরা যারা সাধারণ মানুষ তাদের পক্ষে এই নিয়ম লঙ্ঘন আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে। জীবনানন্দের 'আশ্চর্য বিস্ময়' নামকরণের পেছনে যে শাব্দিক ব্যঞ্জনা রয়েছে তাতো কেবল কবিকেই শোভা পায়, তাই বলে আমরা যদি বলি, যেমনটি অনেকেই আজকাল বলেন, 'করোনাকালীন সময়' তাতে ব্যঞ্জনা নয়, গঞ্জনা পাবার আশঙ্কা থেকে যায়। ভাষাকে নদীর সঙ্গে তুলনা করেও বলতে পারি যে বহতা নদীকে যদি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হয়, তা হলে সেই নদী দুকূল প্লাবিত করে ফেলতে পারে। ভাষাও যদি নিয়মের নিগড় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে পড়ে, তা হলে প্রত্যেক মানুষের ভাষা হয়ে উঠবে ভিন্ন এবং কয়েক শতকের মধ্যেই পরস্পর দুর্বোধ্য। সে জন্যেই বোধ করি ভাষাতত্ত্বের এই দুই প্রান্তবর্তী মতবাদের মধ্যে সমন্বয়সাধন করে, ভাষার উন্নতিকে নিশ্চিত করা যায়।
বাংলা ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্প্রতি যে ত্রুটি-বিচ্যুতি আমরা লক্ষ করি, তার সবটাই অজ্ঞতাপ্রসূত নয়, বরং ইংরেজি থেকে অনুবাদের কারণেও কিছু কিছু দৃষ্টিগ্রাহ্য ভুল ব্যবহার লক্ষ করা যাচ্ছে। যারা এ ধরনের শব্দ বা বাক্য বিন্যাস ব্যবহার করছেন, তাদের আপাতদৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় যুক্তি হচ্ছে ভাষার সরলীকরণ। প্রকৃতপক্ষে এক ধরনের ভিন ভাষার প্রভাব থেকেই এসব পরিবর্তন লক্ষ করি। ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে যাকে ভাষাতাত্ত্বিকরা মাদার টাং ইন্টারফেরেন্স বলে থাকেন এবং সেই মাতৃভাষার কারণে ইংরেজি ভাষা ব্যবহারে যেমন ছাত্রছাত্রীরা ভুল করে থাকেন, বাংলা ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বলা যায় একধরনের ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ইন্টারফেরেন্স বা বিদেশি ভাষার প্রভাব আমরা ইদানীং লক্ষ করি।
যেমন ধরুন, ঢাকা ও কলকাতার সংবাদপত্রের শিরোনামে এবং ইদানীং সংবাদের ভেতরেও আমরা দেখি সংখ্যাবাচক শব্দের প্রয়োগে যে সহজ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে তা যে কেবল ব্যাকরণসম্মত নয়, তা-ই নয়, তা শ্রুতিগ্রাহ্যও নয়। যেমন ধরুন, চার ডাকাত খুন, পাঁচ পুলিশ আহত। বাংলা ভাষায় সংখ্যাবাচক বিশেষণ ব্যবহারের একেবারে মূল নিয়মটিই এই সরলায়নে বিনষ্ট হচ্ছে। ইংরেজিতে সংখ্যাবাচক বিশেষণের পর আর কিছু লেখার দরকার নেই, সংশ্নিষ্ট বিশেষ্য ছাড়া। কিন্তু বাংলায় এই সংখ্যাবাচক বিশেষণের পর, পরিমাপের একক ব্যবহার করতে হয়, অথবা টা, টি, গুলো, গুলি এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করতে হয়। বাংলা ভাষায় জন শব্দটির দুটি অর্থ। একটি অর্থে জন হচ্ছে মানুষ আর অন্য অর্থে আবার এই জন হচ্ছে মানুষ পরিমাপের একক। সে জন্যেই তিনজন, চারজন ব্যবহূত হয় এবং সেই কারণেই চারজন লোক কথাটি ভুল নয়, কারণ এখানে 'জন'-এর অর্থ লোক নয়, এটি লোক পরিমাপের/গণনার একক। সংখ্যাবাচক বিশেষণের সঙ্গে অতএব পরিমাপের একক ব্যবহার না করলে, সেটি শুদ্ধ বলে ধরে নেওয়া যায় না। আজকাল অবশ্য বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সংবাদপত্রে এ নিয়মটির ব্যত্যয় ঘটছে। ভাষাকে সরল করার উদ্দেশ্যে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে, নাকি এই প্রভাব ও অনূদিত সংস্কৃতির অংশ সেটি বোঝার প্রয়োজন রয়েছে।
এই সংখ্যা সম্পর্কিত আরও একটি ভ্রান্ত প্রয়োগ আমরা ইদানীং লক্ষ করছি, তারিখ লেখার সময়ে। আগে যেভাবে তেসরা, দোসরা, ৫ই, ২৭ শে এ ধরনের ব্যবহার ছিল প্রচলিত এবং বিশুদ্ধও বটে এখন তার বদলে দেখি ২ জানুয়ারি, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ। সংবাদপত্রে ছাপার সময়ে স্থান সংকুলানের জন্যে ছাপার অক্ষরে সংখ্যা নির্ণয়ক শব্দে এ ধরনের প্রয়োগ ভুল নয়, বিশেষত স্থান সংকুলানের জন্য সংক্ষিপ্ত আকারে সংবাদপত্রের শিরোনামে এ রকম লেখা যেতে পারে কিন্তু বেতার-টেলিভিশনের সংবাদ পাঠক-পাঠিকারা যখন পাঠ করেন সংক্ষিপ্তভাবে তখন সেটি সিদ্ধ প্রয়োগ নয় আদৌ। সন্দেহ নেই যে এই রূপান্তর ঘটেছে ইংরেজিতে তারিখ লেখার সনাতন নিয়মের বিবর্তনের মাধ্যমে কিন্তু বাংলায় তারিখ লেখার নিয়মের এই অতি সরলীকরণের কারণে সংখ্যার পাশে শব্দ প্রয়োগের যে নিয়ম ছিল, তাকে লঙ্ঘন করা হচ্ছে সজ্ঞানেই। বাংলাদেশের কিছু বেসরকারি বেতার, টেলিভিশনে এ ধরনের প্রয়োগ খুব বেশি শ্রুতিকটু হয়ে উঠছে।
অনূদিত সংস্কৃতির প্রভাব আমরা লক্ষ করি বাংলা ভাষার আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে। বেশ কয়েক বছর ধরে টেলিফোন করা অর্থে ফোন দেওয়া কথাটি প্রচলিত হয়ে উঠছে দ্রুত। গোড়াতে এই ফোন দেওয়ার কথা আমার এক বন্ধু এক সময়ে বলায়, তাকে ঠাট্টা করে বলেছিলাম যে তার আগামী জন্মদিনে তাকে দোকান থেকে একটি ফোন কিনে দেব। আমার এই ঠাট্টার বিষয়টি বুঝতে তার সময় লেগেছিল কিন্তু এখন এ নিয়ে ঠাট্টা করলে লোকজন আমার ভাষাজ্ঞান সম্বন্ধে প্রশ্ন তুলতে পারে, কারণ ফোন দেওয়া কথাটি এখন অতি ব্যবহারে এক ধরনের বিশুদ্ধতা লাভ করছে। এই বাক্যাংশটি ইংরেজি-'গিভ মি এ কল' এই ফ্রেজ থেকে যে এসেছে সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। ভাগ্যিস এর আক্ষরিক অনুবাদ, আমাকে ডাক দিও (ফোন করা অর্থে) এখনও কাউকে ব্যবহার করতে দেখিনি। লক্ষ করার বিষয় যে ইংরেজিতেও 'গিভ মি এ ফোন' এ ফ্রেজটি আমাকে ফোন করো অর্থে কেউ ব্যবহার করে না। ইংরেজি ওই বাক্যের অর্থ, আমাকে একটি ফোন দাও। ফোন এখানে ক্রিয়া নয় একটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহূত এবং পণ্যটি দেওয়ার কথাই বলা হয়েছে। আমরা সেদিকে লক্ষ না রেখেই ইংরেজি গিভ মি এ কল-এর সহজ বাংলা করে ফেলেছি, আমাকে ফোন দাও/দিও। আমরা ভুলেই গেছি যে আমাদের ভাষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী ক্রিয়াপদকে আমরা অবহেলা করছি এই ভাবে।
ইংরেজি ভাষার মতো বাংলা ভাষা প্রচুর ক্রিয়া পদে সমৃদ্ধ নয় কিন্তু বাংলা ভাষার মস্ত বড় সুবিধাটা হচ্ছে, 'করা' ক্রিয়াপদটি যা, যে কোনো বিশেষণকে সহজেই বিশেষ্যে পরিণত করতে পারে, যেমন- গান করা, রান্না করা, সেলাই করা, চাকরি করা, পড়াশোনা করা- এ রকম প্রচুর দৃষ্টান্ত দেওয়া যায়, যেখানে এই ক্রিয়াপদটি ভাষাকে করেছে সহজ। অতএব ফোন দেওয়া ইদানীং এই বহুল ব্যবহূত বাক্যাংশটি সম্পূর্ণ ভুল। এর পাশাপাশি করা ক্রিয়াপদটির একটি ভ্রান্ত ব্যবহারও সম্প্রতি লক্ষ করেছি পশ্চিমবঙ্গের একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি গানের প্রতিযোগিতায়। প্রতিযোগীরা যেখানে ফোন করে তাদের ভোট দেওয়ার কথা বলছেন, সেখানে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রচলিত ও শুদ্ধ ব্যবহার 'আমাকে ভোট দিন'-এর পরিবর্তে, আমাকে ভোট করুন বলছেন। প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি ছিল ফোন করে, ভোট দিন। কিন্তু সংক্ষেপে এখন বলা হচ্ছে ভোট করুন। এই বাক্যাংশটি কোন উর্বর মস্তিস্কের ফল, সেটি বলা মুশকিল কিন্তু মনে করা হচ্ছে যে সনাতন পদ্ধতিতে ব্যালটে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে ফোনে ভোট প্রদানের পার্থক্যকে নির্দিষ্ট করে বোঝানোর জন্যেই বোধ হয় এই 'ভোট করুন' বাক্যাংশটি প্রয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু ফোন করার কাজ এবং ফোন করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ভোট দেওয়ার কাজটি যে পৃথক দুটি কাজ সে কথা এই বাক্যাংশ যারা প্রয়োগ করছেন, তারা বেমালুম বিস্মৃত হচ্ছেন।
এই সব অপপ্রয়োগের পাশাপাশি, বাংলা ভাষার প্রমিত উচ্চারণের ক্ষেত্রেও একটা বড় রকমের ব্যত্যয় লক্ষ করা যাচ্ছে বাংলাদেশের, বিশেষত ঢাকাকেন্দ্রিক শাহরিক সমাজে। রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বাস এবং বাংলাদেশ মূলত এক ভাষিক রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও এর আঞ্চলিক ভাষাবৈচিত্র্য ব্যাপক ও বহুমুখী। তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত, ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই অতি সামান্য আয়তনেও আঞ্চলিক ভাষার বৈচিত্র্য হচ্ছে অসামান্য। এই বৈচিত্র্য আমাদের ভাষাকে সামগ্রিকভাবে সমৃদ্ধ করেছে এবং এই বৈচিত্র্যকে আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে কিন্তু এই আঞ্চলিক ভাষার বিশৃঙ্খল মিশ্রণ, আমাদের প্রতিদিনকার প্রমিত বাংলা উচ্চারণে যে প্রায় এক ধরনের দুঃসহনীয় মিশ্র ধ্বনি সৃষ্টি করেছে সেটি লক্ষ করার বিষয়। একদিকে বাংলার সঙ্গে ইংরেজির, অন্যদিকে আঞ্চলিক ভাষার এই মেরুবর্তী মিশ্রণ ভাষার স্বাভাবিক বিকাশকে ব্যাহত করছে। বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকে শহুরে কেতাদুরস্ত ছেলেমেয়েদের সংলাপ বিস্ময়করভাবে একটি পৃথক রূপ নিচ্ছে। 
বাংলাদেশের কোনো কোনো নাট্যকার মনে করছেন যে ঢাকাকেন্দ্রিক একটি নতুন বাংলা কথ্য ভাষা তৈরি হচ্ছে এবং একে স্বাগত জানানো উচিত। প্রশ্ন হচ্ছে এই নতুন কথ্য ভাষা কতখানি স্বতঃস্ম্ফূর্ত ও স্বাভাবিক এবং কতখানি আরোপিত ও কৃত্রিম করা গেছে। যেসব তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়ের বাবা-মা প্রমিত বাংলা উচ্চারণে অভ্যস্ত তারাও এক ধরনের মিশ্র আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করছে, অজ্ঞতাবশত নয় ততটা, যতটা শৌখিনতার বশবর্তী হয়ে।
ইংরেজিতে যাকে বলে পিয়ার প্রেশার। সহপাঠী বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে সম্ভবত এক ধরনের ভাষিক সাজুয্য প্রকাশের তাড়নায় ভাষায় আসছে এ ধরনের মিশ্রণ, যা আমরা করি নাটকের মতো একটি শিল্পমাধ্যমেও। নাটক যে কেবল জীবনের প্রতিবিম্ব হতে পারে তাই নয়, এ ধরনের অত্যন্ত শক্তিশালী প্রচার মাধ্যমের একটা বড় দায়িত্ব হচ্ছে ভাষা ও সাহিত্যের মধ্যে শৃঙ্খলা রক্ষা করা। ভাষা নদীর জলপ্রবাহের মতোই স্বতঃস্ম্ফূর্ত গতিতে এগিয়ে যাবে এই যুক্তিতে ভাষার শৃঙ্খলাকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা নেই এ রকম মন্তব্য যারা করেন, তারা ভুলে যান যে নদীর বিশৃঙ্খল বিস্তৃতিকেও রুদ্ধ করতে হয় মানুষ ও প্রকৃতির কল্যাণেই। ভাষার বিকাশ আমাদের অবশ্যই কাম্য এবং আঞ্চলিক ভাষা কিংবা বিদেশি ভাষার প্রয়োগ আমাদের ভাষাকে সমৃদ্ধ ও গতিশীল করতে পারে নিঃসন্দেহে।
প্রশ্নটা হচ্ছে অনুপ অবিমিশ্র বাংলা প্রয়োগ করতে গিয়ে যেমন টেলিফোনের পরিবর্তে দূরালাপনী কিংবা ইন্টারনেটের বাংলা অন্তর্জাল শব্দটি ব্যবহারের প্রয়োজন নেই, তেমনি বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাক্য কাঠামো এবং শব্দবন্ধের সব কিছু ভেঙে ফেলার যে প্রবণতা করা যাচ্ছে সেটি ভাষার সুশীল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা হতে পারে। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলও তাদের সাহিত্যে ব্যাকরণের বেড়াজাল ডিঙিয়েছেন সৃজনশীল প্রতিভার শক্তিতে। কবি শামসুর রাহমান কিংবা সৈয়দ শামসুল হকের মতো সব্যসাচী লেখকেরাও প্রচুর আঞ্চলিক শব্দের ব্যবহার করেছেন তাদের কাব্যে। কিন্তু এসবই করেছেন বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধির জন্যে। শামসুর রাহমানের 'বেবাক' শব্দের যুৎসই ব্যবহার কিংবা সৈয়দ শামসুল হকের, 'মানুষ আসতাছে বানের লাহান', আমাদের সাহিত্যকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। আমরা করেছি আমাদের নিতান্ত আটপৌড়ে আঞ্চলিক শব্দগুলো কতখানি শক্তিশালী হতে পারে, সাহিত্যের ভাব প্রকাশের জন্যে। কিন্তু অপ্রয়োজনে এ রকম আঞ্চলিক বা ভুল ইংরেজি শব্দের প্রাত্যহিক প্রয়োগ ভাষার মূল কাঠামোকে দুর্বল করে তোলে এবং মাঝে মাঝে আশঙ্কা হয় যে, এ ধরনের মিশ্র শব্দ প্রয়োগে অভ্যস্ত তারুণ্য শক্তি হয়তো কালক্রমে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত, জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান- এমনকি হুমায়ূন আহমেদের লেখা পড়তেও আগ্রহী হবে না। বঙ্কিম কিংবা মীর মশাররফ হোসেনের কথা না হয় বাদই দিলাম।
এই অনভ্যাস, এই অপপ্রয়োগ, এই ভুল অনুশীলন আমাদের নিজেদেরই তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে যাবে, আমাদের থেকেই অনেক দূরে। আমাদের ভাষিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে রাখার জন্যে আরবি কিংবা রোমান হরফে বাংলা লেখার যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকে, আমরা তা প্রতিহত করেছিলাম, রাজনৈতিক সংগ্রামের মাধ্যমে যেমন তেমনি, বুদ্ধিবৃত্তিক সচেতনতার মাধ্যমও। আজ আমাদের নিজেদের তারুণ্য শক্তি ভাষা প্রয়োগের ক্ষেত্রে যে নতুন ধারার সৃষ্টি করেছে, নিজের অজান্তেই সেটি কি আমাদের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে, "আজি হ'তে শতবর্ষ পরে"? তাই আমাদের ভাবনা, বাংলা ভাষা কি থাকবে বাংলা ভাষাতেই? নাকি ভাষা অপহৃত হয়ে গিয়ে এর সমস্ত অপভ্রংশ নিয়েই তৈরি হবে এক নতুন ভাষা!
আনিস আহমেদ :লেখক ও সাংবাদিক
- বিষয় :
- ভাষার মাস
- আনিস আহমেদ
