বিশ্ব রোভার প্রতিযোগিতায় ইউআইইউ তৃতীয়, এশিয়ায় প্রথম
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ১৬:৩০
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) মার্স রোভার টিম আন্তর্জাতিক রোবোটিক্স অঙ্গনে নতুন ইতিহাস গড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জ (ইউআরসি) ২০২৬-এ দলটি বিশ্বে তৃতীয় এবং এশিয়ার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। একই সঙ্গে টানা পঞ্চমবারের মতো এশিয়ার সেরা রোভার দল হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তারা।
প্রতিযোগিতাটি গত ২৭ থেকে ৩০ মে যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের হ্যাঙ্কসভিলে অবস্থিত মার্স ডেজার্ট রিসার্চ স্টেশনে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ইউআইইউ মার্স রোভার টিম ৪০৪.৪৪ পয়েন্ট অর্জন করে তৃতীয় স্থান লাভ করে। এছাড়া দলটি ‘বেস্ট অটোনোমাস সিস্টেম’ স্বীকৃতিও অর্জন করে।
এই সাফল্য উদযাপন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে শনিবার ইউআইইউ ক্যাম্পাসে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল মোকাদ্দেম, ইউআইইউ ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চের নির্বাহী পরিচালক ও প্রফেসর এমেরিটাস ড. এম রিজওয়ান খান, স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন প্রফেসর ড. হাসান সারওয়ার, রেজিস্ট্রার ডা. মো. জুলফিকার রহমান এবং টিমের মেন্টর মো. আবিদ হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন, চরম পরিবেশে পরিচালনা সক্ষমতা এবং যন্ত্রপাতি সার্ভিসিং—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করে ইউআইইউ দল। বিশ্বের ১১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় দলের মধ্য থেকে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া শেষে মাত্র ৩৮টি দল চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।
প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথম এশীয় দল হিসেবে অন-সাইট ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জের পোডিয়ামে জায়গা করে নিয়ে নতুন নজির স্থাপন করেছে ইউআইইউ। এ অর্জন বাংলাদেশের রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ গবেষণার সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।
ইউআইইউ মার্স রোভার টিমের নেতৃত্বে ছিলেন শাইফ আল শাদ। দলটির পরামর্শক ছিলেন প্রফেসর ড. হাসান সারওয়ার ও ড. সুমন আহমেদ এবং মেন্টর ছিলেন প্রভাষক মো. আবিদ হোসাইন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায়, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার সমন্বয়েই এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তাদের মতে, এই অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে।
- বিষয় :
- যুক্তরাষ্ট্র
- এশিয়া
