ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৭০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার মূলপর্বে বাংলাদেশের সিনেমা

৭০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার মূলপর্বে বাংলাদেশের সিনেমা
×

‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার দৃশ্য।

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:০৬ | আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:০৭

বাংলাদেশের সিনেমার গল্প এবার যেন আরও একটু দূর পাড়ি দিল। ভেনিস ও  টরন্টোর চলচ্চিত্র উৎসরেব মূল প্রতিযোগিতায় বিভাগে রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ স্থান পাওয়ার পর এবার হাজির হচ্ছে লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী চলচ্চিত্র উৎসবে। 

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র আয়োজন ৭০তম বিএফআই লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হবে ৭ থেকে ১৮ অক্টোবর। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটি জানিয়েছে, এবারের আসরে ‘বেস্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছে ১০টি সিনেমা। সেই ১০টির একটি বাংলাদেশের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় এর আগে কোনো বাংলাদেশি সিনেমা জায়গা করে নিতে পারেনি। সেই শূন্যতা ভেঙে এবার ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাল রুবাইয়াত হোসেনের সিনেমাটি।

এর আগে বিশ্বের প্রাচীনতম চলচ্চিত্র উৎসবগুলোর অন্যতম ভেনিসে নির্বাচিত হয়েছিল ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। এরপর জায়গা করে নেয় কানাডার মর্যাদাপূর্ণ টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও। এক উৎসব থেকে আরেক উৎসবে যাত্রা যেন সিনেমাটির গল্পের মতোই— অজানা কোনো রহস্যের টানে ক্রমেই এগিয়ে চলা।

লন্ডনের সেরা ছবির পুরস্কারের দৌড়ে বাংলাদেশের সিনেমাটির সঙ্গে রয়েছে জাপানের হিরোকাজু কোরে-এদার ‘লুক ব্যাক’, ইউক্রেনের সের্গেই লোজনিতসার ‘ইম্পেরিয়াম’, যুক্তরাজ্যের ক্যারল মরলির ‘৭ মাইলস আউট’, হাঙ্গেরির লিলি হরভাটের ‘মাই নোটস অন মার্স’, আর্জেন্টিনার বেঞ্জামিন নাইশতাটের ‘গ্ল্যাক্সো’, আইরিশ নির্মাতা জুটি ক্রিস্টিন মলয় ও জো ললারের ‘অ্যাক্ট ৩’, ইতালির জিওভান্নি তরতোরিচির ‘কেটিসে’, পোল্যান্ডের মালগোর্জাতা সুমোভস্কা ও মাইকেল এঙ্গলার্টের ‘দ্য ইডিয়টস’ এবং ডেনমার্কের মে এল-তুখির ‘উইমেন আননোন’।

যা আছে এই সিনেমায়

‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ শুধু হরর সিনেমা নয়; এটি ভয়, স্মৃতি, মনস্তত্ত্ব আর রহস্যের এক অদ্ভুত মিশেল। গল্পের কেন্দ্র ঢাকার পুরোনো মেফেয়ার বিউটি পার্লার। লোকমুখে শোনা যায়, একসময় এই পার্লারে এক কনে রহস্যজনকভাবে মারা গিয়েছিলেন। সেই মৃত্যুর গল্প কি শুধুই গল্প, নাকি তার ছায়া এখনো ঘুরে বেড়ায় পার্লারের দেয়ালে?

বিয়ের প্রস্তুতির জন্য সেখানে আসে এক তরুণী। কিন্তু সাজসজ্জার পরিচিত আয়নার আড়ালে ধীরে ধীরে খুলতে থাকে অন্য এক জগৎ। একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনার মুখোমুখি হতে থাকে সে। বাস্তব আর অলৌকিকের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তরুণীর যাত্রা ক্রমেই হয়ে ওঠে ভয়ংকর ও রহস্যময়। অতীতের অন্ধকার, বর্তমানের আতঙ্ক আর মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা ভয়-সব মিলিয়ে তৈরি হয় সিনেমাটির আবহ।

কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইনীন করিম। ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হচ্ছে তাঁর। তাঁর সঙ্গে আছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী তিন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। আরও অভিনয় করেছেন শতাব্দী ওয়াদুদ, সাবেরী আলম ও মোহাম্মদ বারী।

দেশের গল্পকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে পৌঁছে দিতে সিনেমাটির প্রযোজনাতেও রয়েছে বহুজাতিক অংশীদারত্ব। রুবাইয়াত হোসেনের সঙ্গে যৌথভাবে প্রযোজনা করেছেন ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া ডি’আর্টেমারে, জার্মানির আন্না ক্যাচকো, পর্তুগালের পেড্রো বোর্গস ও নরওয়ের ইনগার্ড লিল হটন।

একটি পুরোনো পার্লারের অন্ধকার গল্প এবার পাড়ি দিয়েছে ভেনিস থেকে টরন্টো, সেখান থেকে লন্ডনে। পর্দার ভেতর যে কনের রহস্য, তার চেয়েও বড় হয়ে উঠছে সিনেমাটির আন্তর্জাতিক যাত্রার গল্প। বাংলাদেশের সিনেমা যে এখন কেবল নিজের ভূগোলে আটকে নেই, ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ যেন সেই কথাটিই বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে।
 

আরও পড়ুন

×