ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেথ-হেলেনদের ছাপিয়ে টিফের লাল গালিচায় নজর কাড়লেন মার্ক কার্নি

সেথ-হেলেনদের ছাপিয়ে টিফের লাল গালিচায় নজর কাড়লেন মার্ক কার্নি
×

সেথ-হেলেনদের ছাপিয়ে টিফে নজর কাড়লেন মার্ক কার্নি।

অনিন্দ্য মামুন, টরন্টো (কানাডা) থেকে

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৫:১৮ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৫:১৯

টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (টিফ) মানেই বিশ্বখ্যাত তারকাদের ঝলমলে উপস্থিতি। লালগালিচায় একে একে হাজির হন হলিউড ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত মুখ। তবে এবারের টিফ ট্রিবিউট অ্যাওয়ার্ডসের লালগালিচায় তারকাদেরও ছাপিয়ে গেলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

সোমবার রাতে টরন্টোর ফেয়ারমন্ট রয়্যাল ইয়র্ক হোটেলের বাইরে লালগালিচায় স্ত্রী ডায়ানা ফক্স কার্নিকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে দেখেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন বাইরে অপেক্ষমাণ দর্শকরা। করতালি, চিৎকার, উল্লাস আর গাড়ির হর্নে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।

এবারের টিফ ট্রিবিউট অ্যাওয়ার্ডসের সম্মানিত অতিথিদের তালিকায় ছিলেন চলচ্চিত্রের একাধিক বিশ্বখ্যাত তারকা—সেথ রোজেন, হেলেন মিরেন, পেনেলোপে ক্রুজ, মিশেল ইয়ো ও ইসাবেল হুপর্ট। তবে তাঁদের কাউকেই ঘিরে কার্নির মতো এতটা উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। উষ্ণ অভ্যর্থনার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন সেথ রোজেন।

এমনকি অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন তারকাও কার্নির ভক্ত হিসেবে নিজেদের প্রকাশ করেছেন। ‘গ্রাউন্ডব্রেকার অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়া অভিনেত্রী হেলেন মিরেন বলেন, কার্নির সঙ্গে দেখা করতে পারলে সেটি তাঁর জন্য বড় সম্মানের হবে। টিফের উদ্বোধনী সিনেমা ‘বিইং হিউম্যান’-এর পরিচালক সিয়ান হেডারও প্রধানমন্ত্রীকে সামনে থেকে দেখার ব্যাপারে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে ‘নরম্যান জিউইসন ক্যারিয়ার অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়া সেথ রোজেন বরাবরের মতোই রসিকতার সুরে কার্নির টিফে উপস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, এই মুহূর্তে টিফে আসা যেন প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ না হয়-তবে প্রধানমন্ত্রীকে কীভাবে নিজের সময়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে, সে বিষয়ে তিনি পরামর্শ দিতে চান না।

কার্নিও যেন সেই কথাই মাথায় রেখেছিলেন। অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর বেশিক্ষণ অনুষ্ঠানে থাকেননি তিনি। কানাডিয়ান প্রেসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কিছুক্ষণ পরই তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

এর পেছনে অবশ্য যথেষ্ট কারণও রয়েছে। টিফের পরদিনই টরন্টোতে শুরু হয়েছে কানাডা ইনভেস্টমেন্ট সামিট। কানাডায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বড় এই উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। প্রায় একশ’ বৈশ্বিক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে নিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনের অতিথি তালিকার বড় অংশই গোপন রাখা হয়েছে।

তবে টিফের লালগালিচায় কার্নি যে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন, পরদিনের চিত্র হয়তো তেমন নাও হতে পারে। বিনিয়োগ সম্মেলনকে ঘিরে টরন্টোতে বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে একদিন তারকাদের করতালি আর উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে পরদিন সামলাতে হতে পারে প্রতিবাদের উত্তাপ।

 

আরও পড়ুন

×