ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

একুশের সঙ্গে মিশে আছে দেশ ও মাতৃভাষা: মিতা হক

একুশের সঙ্গে মিশে আছে দেশ ও মাতৃভাষা: মিতা হক
×

মিতা হক

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৩:৪৫

ভাষা আন্দোলনের এই মাসে বায়ান্নর ইতিহাসকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম তুলে ধরার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য দেওয়া হয় একুশে পদক। এ বছর ২০ জনকে দেওয়া হচ্ছে এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। তাদের মধ্যে শিল্পকলা ও সংগীতে মিতা হক। ই স্বীকৃতি এবং দীর্ঘ পথচলার নানা অভিজ্ঞতা, বর্তমান ব্যস্ততা অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। 

আজ একুশে পদক পাচ্ছেন, আপনাকে অভিনন্দন। রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতি পাওয়া নিয়ে আপনার অনুভূতি জানতে চাই ...

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি যে কারও জন্যই আনন্দের। আমার ভালো লাগা বেড়ে যায় এ কারণে যে, এই স্বীকৃতির সঙ্গে একুশ শব্দটা যুক্ত আছে। এই একুশের সঙ্গে মিশে আছে দেশ ও মাতৃভাষা। ঐতিহাসিক একটি অধ্যায় নিয়ে এই পদকের নামকরণ। তাই এই পদকপ্রাপ্তি নানাভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

একুশে পদক প্রাপ্তিতে শিল্পী ও সংগঠক হিসেবে আরও দায়িত্ব বেড়ে গেল কি?

এমন অর্জনে দায়িত্ব বেড়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। শুধু এই স্বীকৃতির জন্য নয়, নিজেও সবসময় চাই মানুষ ও সমাজের জন্য কিছু করতে। কিন্তু বাধা হয়ে আছে শারীরিক সমস্যা। শরীরিক সমস্যা একটু কম মনে হলেই দেশ ও মানুষের জন্য কিছু না কিছু করার চেষ্টা করব।

কখনও মনে হয়েছে, এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অনেক আগেই পাওয়া উচিত ছিল?

আমি কখনোই এ নিয়ে ভাবিনি। তবে যারা আমাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। যদিও কাছের কিছু মানুষ বলেছেন, আরও আগে আমাকে একুশে পদক দেওয়া উচিত ছিল। যারা এমন কথা বলেছেন, তারা আসলে আমাকে ভালোবাসেন, আমার কাজ তাদের হয়তো নানা মন আন্দোলিত করেছে। যেজন্য এটা তাদের মনে হয়েছে। কিন্তু আমি স্বীকৃতি দেরিতে পেলাম, না আগে পেয়ে গেলাম- এটা কখনও বড় করে দেখিনি।

অনেকদিন কোনো অ্যালবাম বা নতুন গান প্রকাশ করেননি। এ নিয়ে কিছু ভাবছেন?

শ্রোতারা জানেন কিনা জানি না, আমি অনেক দিন ধরে বেশ অসুস্থ। নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে। তাই নতুন কোনো গান রেকর্ডিং করার মতো শক্তি, সাহস কোনোটাই নেই। রেকর্ডিং করতে গেলে যে শারীরিক ধকল সইতে হবে, সেটা মনে হয় না এখন পারব।

তাহলে গান থেকে এখন দূরে সরে আছেন?

গান থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার ইচ্ছা কোনো কালেই ছিল না। গান রেকর্ড করতে না পারলেও গান শেখানোটা ধরে রেখেছি। নিজের যা শিক্ষা তা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার শিক্ষার্থীরা গান গেয়ে আগামী সংগীতপ্রেমীদের তৃষ্ণা মেটাবে- এটাই আমার চাওয়া।

সংগঠক হিসেবে আপনার এখনকার ভাবনা কী?

বিশ্বজুড়ে এখন যে রাজনৈতিক অস্থিরতা, হিংসা-প্রতিহিংসা, ক্ষুধা-দারিদ্র্য, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ যেসব মর্মান্তিক দৃশ্য চোখে পড়ছে, তা আমাকে ভীষণ কষ্ট দেয়। মনে করিয়ে দেয় মানুষ হিসেবে আমারও কিছু করা উচিত। একজন সংগঠক হিসেবে তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আর অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যেতে চাই।

আরও পড়ুন

×