ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ইন্ডাস্ট্রির অনেকের বাসা ভাড়া দেওয়াই মুশকিল হয়ে যাবে: সাইমন

ইন্ডাস্ট্রির অনেকের বাসা ভাড়া দেওয়াই মুশকিল হয়ে যাবে: সাইমন
×

সাইমন সাদিক

বুলবুল ফাহিম

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৪ | ২০:৩৮

চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক। নির্মাতা জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘জ্বি হুজুর’ চলচ্চিত্রের অভিনয়ের মাধ্যমে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। এরপর একই নির্মাতার ‘পোড়া মন’ ছবিতে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন। ধীরে ধীরে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা শক্ত করেছেন এই নায়ক। বর্তমানে ঝুলিতে আছে হাফ ডজনেরও বেশি ছবি। সিনেমা ও দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন সাইমন।

কতদিন হল শুটিং করেন না?
প্রায় দুই মাস শুটিং করতে পারিনি। দেশের যে অবস্থা তাতে বোঝার উপায় নেই কবে শুটিং শুরু হবে। বলতে গেলে, আমি বিপাকে আছি। কারণ, আমার তো অন্য কোনো পেশা নেই। সিনেমা দিয়েই চলতে হয়। শুটিং বন্ধ থাকলে জীবন চলবে কীকরে?

কতগুলো সিনেমার শুটিং বাকি আছে?
হাতে বেশ কয়েকটি সিনেমা আছে। দুই-তিনটি সিনেমার শুটিং মাঝ পথে। এছাড়া গত মাসে দুটি সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল কিন্তু দেশের পরিস্থিতির কারণে সেগুলো হল না। প্রযোজকদের ফোন দিলে পাওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে বাজে অবস্থা।

পারিবারিকভাবে আপনারা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সরকার পরিবর্তনের পর কি কোনো সমস্যা হয়েছে?
না না। এমন কিছুই হয়নি। কারণ, আমরা তো কারও ক্ষতি করিনি। যতটা পেরেছি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। আমার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদরে। সেখানে আমরা কোনো ভেদাভেদ তৈরি করিনি। বলা চলে, আমরা কোনো দলে বিভক্ত নই। সুতরাং সমস্যাও হওয়ার কথা না। যারা গনগণের মধ্যে দেওয়াল তুলেছিল তারাই ঝামেলায় পড়েছে।

বন্য পরিস্থিতিতে আগের চেয়ে এবছর তারকাদের কার্যক্রম বেশি লক্ষণীয়। আপনিও ছিলেন। এই বিষয়টি কীভাবে দেখেন?
সব সময়ই স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রমের সঙ্গে আমি ছিলাম। নিজের হয়ত অতটা সামর্থ্য নেই কিন্তু ভাই, বন্ধু ও পরিচিতজনদের সহযোগিতা নিয়ে যতটা সম্ভব কাজ করেছি। আমরা একই অঙ্গনে কাজ করি, সবাই এক হয়ে যেভাবে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। এটা আমাদের শিল্পীদের জন্য গর্বের বিষয়। আমি চাই, এই ধারাটা অব্যাহত থাকুক।

কয়েকজন শিল্পীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিষয়টি কীভাবে দেখেন?
মামলার বিষয় নিয়ে কিছু বলার নেই। তবে আমি শুরু থেকেই বলে এসেছি শিল্পীদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করতে। আজকে দেখেন, কেউ কারও জন্য কথা বলতে পারছেন না। করণ, শিল্পীদের মধ্যে ঐক্য নেই। এটা যেমন দৃষ্টিকটু তেমনি অশনি সংকেত। আমাদের একতা ভীষণ প্রয়োজন।

এফডিসিতে শুটিং নেই, সিনেমা হল বন্ধ। সবাই যেন একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে কী বলবেন?
সবাই কাজ করছিল, এখনো করছি। আমি সব সময়ই বলি, আমার এক মাত্র পেশা হল অভিনয়। শিল্পী হিসেবেই আমার পরিচিতি। এমনিতেই আমাদের ইন্ডাস্ট্রি সারা বছর টানাপোড়েন অবস্থার মধ্যে চলে। তার মধ্যে অনেকদিন শুটিং নেই। যাদের ব্যাংক ব্যালেন্স নেই, এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিন পর তাদের বাসা ভাড়া দেওয়াই মুশকিল হয়ে যাবে। ইন্ডাস্ট্রিতে হাজার হাজার শিল্পী-কলাকুশলী আছেন যারা অন্য পেশার সঙ্গে জড়াননি, তাদেরও একই অবস্থা। সামনে কবে যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেটারও নিশ্চয়তা নেই। যা হবার হয়েছে। এখন স্থিতিশীল পরিবেশ দরকার। বর্তমানে রাস্তা বন্ধ করে মানুষকে কষ্ট দিয়ে অহেতুক কিছু দাবি করা হচ্ছে। আমি এটার সঙ্গে একমত নই। দরকার হলে তারা লিখিত আকারে দাবি উত্থাপন করুক। যাতে মানুষের দুর্ভোগ না হয়। আন্দোলন থেকে বের হয়ে এসে কাজের পরিবেশ ফিরে আসুক। এটাই চাই।

আরও পড়ুন

×