ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অভিনয়ের চেয়ে নির্মাণের বিষয়টি কঠিন: কুসুম শিকদার

অভিনয়ের চেয়ে নির্মাণের বিষয়টি কঠিন: কুসুম শিকদার
×

কুসুম শিকদার। ছবি: সংগৃহীত

মীর সামী

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ১৮:৪৭ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ১৮:৫০

কুসুম সিকদার। অভিনেত্রী। পাঁচ বছর পর নিজের পরিচালনায় ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর নির্মিত সিনেমাটির নাম ‘শরতের জবা’। সন্তানের মতোই সিনেমাটি একটু একটু করে বড় করছেন। ইতোমধ্যে সিনেমাটি সেন্সর সনদ পেয়েছে। কথা হলো তাঁর সঙ্গে

প্রথমবারের মতো সিনেমা পরিচালনা করলেন। কেমন লাগছে?

প্রথম সব কিছুর আলাদা একটা আনন্দ রয়েছে। সিনেমাটিকে শূন্য থেকে সন্তানের মতো বড় করছি। প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে কলাকুশলী, সবার শিডিউল, কাজের তালিকা–নিজেকেই করতে হয়েছে। সিনেমার গল্প, চিত্রনাট্য, সংলাপ এমনকি সম্পাদনা, কালার গ্রেডিং, সাউন্ড ডিজাইন সবই নিজে করেছি। অন্যরা সহযোগিতা করছেন, কিন্তু মূল কাজটা নিজেকেই বুঝে নিতে হয়েছে। এই কাজগুলো যেমন আনন্দের, তেমনই কষ্টের। এত টাকা লগ্নি করে সিনেমাটি বানানো। সেই সিনেমার দৈর্ঘ্য যখন কমাতে হয়, তখন খুবই কষ্ট লাগে। এতটা যত্ন করে সিনেমাটি নির্মাণ করা, সেখানে কোনো দৃশ্য ফেলে দেওয়া, পরিচালক হিসেবে নিজের কাছেই স্যাক্রিফাইস করেছি। চাইলেই তিন মাসের মধ্যে ছবির কাজ শেষ করতে পারতাম। কিন্তু আমি চেয়েছি সর্বোচ্চ চেষ্টা ও যত্নে কাজটি করতে। আমি শুধু চাই, আমার দর্শকেরা নতুন কুসুমকে দেখুক। ‘শরতের জবা’ আমার কাছে একটা জার্নি। এখনও প্রতিনিয়ত সিনেমাটি নিয়েই কাজ করে যেতে হচ্ছে। সিনেমা হলের জন্য আলাদা করে প্রস্তুত করছি। এখন কতটা করতে পেরেছি, তা জানা যাবে, সিনেমাটির মুক্তির পর। আমার ইচ্ছা, আগামী মাসের মাঝামাঝিতে সিনেমাটি মুক্তির। 

আপনি প্রথমে একজন অভিনয়শিল্পী, এবার নির্মাতা হলেন। কী মনে হয়, পরিচালনা না অভিনয় কঠিন?

তুলনামূলক অভিনয়ের চেয়ে নির্মাণের বিষয়টি একটু কঠিন। আর এটাই স্বাভাবিক, একজন অভিনয়শিল্পী যখন কোনো একটি কাজে অংশ নেন, তখন তিনি শুধু তাঁর অভিনয় নিয়েই ভাবেন। কিন্তু একজন নির্মাতাকে  অভিনয়শিল্পীর অভিনয় থেকে শুরু করে নির্মাণের প্রতিটি ধাপ খুব যত্ন নিয়ে ধৈর্য ধরে শেষ করতে হয়। পরিচালক হিসেবে প্রতিমুহূর্তে নতুন কিছু শিখেছি। এত চাপ কিন্তু পরিচালনা আমি এনজয় করেছি। 

কী আছে এই সিনেমায়...

‘শরতের জবা’ এক একা নারীর জীবনের গল্প। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। আজ থেকে প্রায় সাত বছর আগে একটি দৈনিক পত্রিকার জন্য গল্পটি লিখেছিলাম। পরের বছর আমার লেখা প্রথম গল্পের বই ‘অজাগতিক ছায়া’য় অন্যান্য গল্পের সঙ্গে শরতের জবা গল্পটি যুক্ত করি। পত্রিকা এবং বইতে আমার গল্পটি পড়ার পর অনেকেই গল্পটি নিয়ে কাজের কথা বলেন। শুরুতে ভেবেছিলাম নাটক বা টেলিছবি করব। পরে ভাবলাম, যেহেতু আমি নিজেই প্রযোজনা আর পরিচালনা করব, তাহলে একটু বড় ক্যানভাসে করি।

একসঙ্গে অভিনয় আর পরিচালনা, সমস্যা হয়নি?

না, ঠিক সেভাবে হয়নি। যদিও সিনেমার প্রস্তুতির সময়, চিন্তা করেছিলাম প্রধান দুই নারী চরিত্রে দু’জন অভিনয়শিল্পী নিব। বেলীর জন্য অভিনয়শিল্পী খুঁজতেই অনেক সময় লেগে যায়। এর মধ্যে শুটিং শিডিউল ঘনিয়ে আসে। অগত্যা মনে হলো, যেহেতু গল্পটা আমারই লেখা, আমি চরিত্রটিকে ভালোভাবে জানি, নিজেও তো অভিনয় করতে পারি। তাই জবা চরিত্রে অভিনয় করি। 

অনেকেই বলছেন দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটে সিনেমা মুক্তি মানে ঝুঁকি। বিষয়টি কী মনে করছেন?

আমি মনে করি, থেমে থাকলে চলবে না। দেখুন, সব চলছে। থেমে থেমে হোক বা স্বল্প পরিসরে, সব কাজ হচ্ছে। তাহলে বসে থাকব কেন? আর সবাই যদি থেমে থাকে, তাহলে তো দেশই থেমে যাবে।

অন্যদের পরিচালানায় অভিনয়... 

অনেক ওটিটি প্রজেক্টের প্রস্তাব পেয়েছি। গল্প পড়ছি সব কিছু মিলিয়ে যদি মনঃপূত হয়, তাহলে অভিনয় করব।

আগামীর পরিকল্পনা কী?

আপাতত আমার সব পরিকল্পনা সিনেমাটি ঘিরে। এরই মধ্যে সিনেমার টিজার প্রকাশ পেয়েছে। আগামীকাল প্রকাশ হবে সিনেমার নতুন গান ‘মায়া’। এরপর আসছে ২৮ সেপ্টেম্বর ট্রেলার। 

আরও পড়ুন

×