দূরত্ব মেনে শুটিং করা মোটেও সম্ভব নয়: চঞ্চল চৌধুরী
চঞ্চল চৌধুরী
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২০ | ২২:৫৬
চঞ্চল চৌধুরী। তারকা অভিনেতা ও মডেল। চার মাস ঘরবন্দি থাকার পর শুটিংয়ে ফিরেছেন তিনি। অভিনয়ে ফেরা, এ সময়ের ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বললেন তিনি-
অভিনয়ে ফিরেছেন। কেমন লাগছে কাজের পরিবেশ?
কাজের পরিবেশ বদলে গেছে। নিরাপত্তা দেওয়ার সবরকম চেষ্টা আছে, তারপরও পরিবেশটা থমথমে। যে জন্য সারাক্ষণ মনের মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করছে। মনে হয়, কারও কাছ থেকে সংক্রমিত হতে যাচ্ছি। স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে কাজের যে আনন্দ ছিল সেটা নেই। বলা যেতে পারে কাজ করছি, কিন্তু ভালোলাগা নেই। সীমিতভাবে যতটুকু করা যায় ততটুকুই করছি। কিন্তু শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুব টেনশন নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করতে না পারলে শুটিংয়ের মান ভালো হয় না। এখন সবই কোনোমতে দৃশ্যধারণ হচ্ছে। নাটক নির্মাণের টেকনিক্যাল অনেক বিষয় আছে, যা দূরে থেকে করা যায় না। শুটিং ইউনিটে অনেক মানুষের উপস্থিতি। তাই সব দৃশ্যে কিন্তু নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে শুটিং মোটেও সম্ভব নয়।
সিনেমার কাজও কি একইভাবে হচ্ছে?
সব ছবির খবর বলতে পারব না। আমি শুধু 'পাপ পুণ্য' ছবির কাজ নিয়ে বলতে পারি। কারণ এতে অভিনয় করেছি। চার মাস পর শুটিংয়ে ফিরে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের এ ছবিতে কাজ করলাম। তার কাজ যেভাবে যত্ন নিয়ে করা হয়, এবারও সেটাই চোখে পড়েছে। কাজ অবশ্য শেষ হয়েছে অনেক আগেই। শুধু কয়েকটি দৃশ্যের শুটিং বাকি ছিল। তাই গত বুধবার সন্ধ্যা সময় বের হয়ে মানিকগঞ্জে শুটিং করেছি। শুধু আমার একক কিছু দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। তাই ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে।
শুটিংয়ে কি নিয়মিত হবেন?
বেঁচে থাকার জন্য কোনো না কোনো কাজ করতেই হবে। এ জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেটুকু কাজ না করলেই নয়, সেটুকুই করব। তবে আগের মতো কাজ করা এখন সম্ভব নয়। চার মাস বসে বসে সময় কাটিয়েছি। বাধ্য হয়েই ঘরে ছিলাম। এখন বাধ্য হয়েই বের হচ্ছি। জীবন-জীবিকার কারণে বের হতে হয়েছে। যত বড় শিল্পীই হোন না কেন, বসে থেকে জীবন চলবে না। কাজ করেই আমাদের চলতে হয়। ঈদের আর বেশি দিন বাকি নেই। কাজের মৌসুম চলছে। চ্যানেলগুলো থেকে অনেক ফোন এসেছে। প্রায় পঞ্চাশজন নির্মাতা ফোন করে শুটিংয়ের তারিখ চেয়েছেন। এর মধ্যে বেছে বেছে চার-পাঁচটি কাজ হাতে নিয়েছি।
কোন কোন নির্মাতার কাজ করছেন?
সাগর জাহান, মাসুদ সেজান, শামীম জামানসহ আরও দু'তিনজন নির্মাতার সঙ্গে কাজের বিষয়ে চূড়ান্ত কথা হয়েছে। আজ [গতকাল শনিবার] মাসুদ সেজানের ঈদের সাত পর্বের একটি ধারাবাহিকের কাজ শুরু করেছি। টানা চার দিন এর শুটিং হবে। ২০ জুলাই থেকে সাগর জাহানের পরিচালনায় 'নসু ভিলেন'-এর সিকুয়েলের দৃশ্যধারণে অংশ নেব।
এ সময় নাটক, টেলিছবি বা চলচ্চিত্রের দৃশ্যধারণে কোন কোন বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন?
শুটিংয়ে নির্মাতাদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। কেউ অসুস্থ হলেও তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। যেহেতু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিল্পীরা কাজ করছেন। শুটিং শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউনিটের প্রোডাকশন বয় থেকে শুরু করে প্রত্যেকের প্রাপ্য সম্মানী বুঝিয়ে দিতে হবে। প্রত্যেকের জন্য মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, পুরো ইউনিটকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য যা কিছু প্রয়োজন সেগুলোর ব্যবস্থা করতে হবে।
শুনলাম, কলকাতার নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির ওয়েব সিরিজে অভিনয় করতে যাচ্ছেন?
কথাবার্তা চলছে। সব ঠিকঠাক হলে হয়তো কাজ করব। লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের 'রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি' উপন্যাস অবলম্বনে এটি নির্মিত হবে। এটি 'হইচই'-এর কাজ। এতে পশ্চিমবঙ্গের অনেক শিল্পী কাজ করবেন শুনেছি। এ বছরের শেষের দিকে সিরিজটি কাজ শুরু হবে।
- বিষয় :
- চঞ্চল চৌধুরী
- বিনোদন