মিয়ানমার উপকূলে দুই নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক রোহিঙ্গার প্রাণহানির শঙ্কা জাতিসংঘের
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১৭:১৭ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১৭:২১
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বহনকারী দুটি নৌকা বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগর এলাকায় ডুবে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এ ঘটনায় ৫ শতাধিক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স
বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষ দিকে রাখাইন রাজ্য থেকে দুটি নৌযান যাত্রা শুরু করে। এতে থাকা অধিকাংশ যাত্রী ছিলেন রোহিঙ্গা। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকেও কিছু রোহিঙ্গা ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম নৌকাটিতে প্রায় ২৫০ জন আরোহী ছিলেন। যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌকাটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দ্বিতীয় নৌযানটিতে প্রায় ২৮০ জন ছিলেন। এটি গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলের কাছে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে দুটি ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এবং হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তা সত্ত্বেও সম্ভাব্য প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউএনএইচসিআর ও আইওএম।
সংস্থাগুলো বলেছে, নিয়মিত নৌযাত্রার মৌসুমের বাইরে ছিল এই নৌযান দুটির যাত্রা। এ সময়ে সমুদ্র সাধারণত বেশি উত্তাল ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকে, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেশি থাকে।
দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে সহিংসতা এবং বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে কঠিন জীবনযাপনের কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে অন্তত ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী ও অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হন। ফলে এই সমুদ্রপথ বর্তমানে বিশ্বে শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী নৌপথগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাখাইন রাজ্যে ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভিযানের পর অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দাবি করে দেশটি।
এরপর ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। সেই সংঘাত রাখাইন রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সংঘর্ষের মধ্যে রোহিঙ্গারা আরও অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মুখে পড়েন।
ইউএনএইচসিআর ও আইওএম জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৩০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিক নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে গত নভেম্বরে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সীমান্তসংলগ্ন লাংকাউই উপকূলে রোহিঙ্গাবোঝাই একটি নৌকা ডুবে যায়। ওই ঘটনায় অল্প কয়েকজন জীবিত উদ্ধার হন।