ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টিআইএফএফ ২০২৫

ডাউনটাউনের রাস্তায় বাজছে উৎসবের বিদায়ী সুর

ডাউনটাউনের রাস্তায় বাজছে উৎসবের বিদায়ী সুর
×

ছবি: উৎসব কর্তৃপক্ষের সৌজন্যে।

অনিন্দ্য মামুন, টরন্টো (কানাডা) থেকে

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:১৪ | আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:২৭

আজ পর্দা নামছে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ) ৫০তম আসরের। ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে টানা দশ দিন ধরে চলা এই উৎসব আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে। টরন্টোর অভিজাত শহর ডাউনটাউনের প্রাণকেন্দ্রে, কিং স্ট্রিটের বুকে অবস্থিত টিআইএফএফ লাইটবক্স ভবনজুড়ে ছিল মূল আয়োজন। পাশাপাশি থমাস থমসন থিয়েটারসহ শহরের বেশ কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে প্রতিদিন ভিড় জমিয়েছে হাজারো দর্শক। গ্ল্যামার, আলো আর সিনেমাপ্রেমী মানুষের পদচারণায় গত দশ দিন উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল শহর।

এবারের উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে ২৯১টি চলচ্চিত্র, যা এসেছে প্রায় ৫০টি দেশ থেকে। এর মধ্যে কেবল Short Cuts বিভাগেই দেখানো হয়েছে ২৮টি দেশের ৪৮টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি। আরও উল্লেখযোগ্য দিক হলো, কানাডার আদিবাসী নির্মাতাদের ৮টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রথমবারের মতো রেকর্ডসংখ্যকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। টিআইএফএফের ইতিহাসে এটি একটি নতুন অধ্যায়, যা স্থানীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এ বছর ছিল গৌরবের অংশগ্রহণ। প্রদর্শিত হয়েছে আদনান আল রাজীব পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আলী। ছবিটি এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাড়া ফেলেছে—এ বছরই কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘স্পেশাল মেনশন’ অর্জন করে আলী। টরন্টো ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের পর ছবিটি প্রবাসী বাঙালি দর্শক এবং আন্তর্জাতিক সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এ অর্জন বাংলাদেশের তরুণ নির্মাতাদের জন্য এক বিশেষ অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

অবশ্য শুধু সিনেমা নয়, লাল গালিচায়ও টিআইএফএফে ছিল বিশ্ব তারকাদের মিলনমেলা। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ছিলেন অন্যতম আকর্ষণ, যিনি এবারের আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন নিজের উপস্থিতি ও সৌন্দর্যের জন্য। তাঁর পাশাপাশি নিজের পরিচালিত Eleanor the Great চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারে হাজির হয়ে দর্শকদের চমকে দেন স্কারলেট জোহানসন। লাল গালিচায় আরও দেখা গেছে আনয়া টেইলর-জয়, টেসা থম্পসন, ডোয়াইন জনসন, কেরি ওয়াশিংটন, মিলা কুনিস, জাহ্নবী কাপুর ও সিডনি সুইনিসহ অসংখ্য তারকাকে। গ্ল্যামারাস পোশাকে হাজির হয়ে তাঁরা উৎসবের প্রতিটি দিনকে করেছেন আলোকোজ্জ্বল। পপস্টার চার্লি এক্সসিএক্সও এবারে নজর কাড়েন সাহসী ফ্যাশন আর ভক্তদের সঙ্গে মিশে গিয়ে।

কিং স্ট্রিটের রাস্তাজুড়ে প্রতিদিন ভিড় জমিয়েছেন হাজারো মানুষ। কেউ টিকিট কেটে নতুন সিনেমা দেখতে, কেউবা শুধুই প্রিয় তারকার ঝলক দেখার আশায়। ডাউনটাউনের রাস্তায় ভক্তদের উল্লাস, করতালি, সেলফির ভিড়ে সিনেমাপ্রেমের এক অনন্য আবহ তৈরি হয়েছে।

আজ পর্দা নামার মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে টিআইএফএফের স্বর্ণজয়ন্তীর এই আসর। অর্ধশতকের যাত্রা শেষে উৎসবটি যেমন গৌরবের জায়গা অর্জন করেছে, তেমনি রেখে গেছে নতুন কিছু প্রশ্ন—গ্ল্যামারের সঙ্গে শিল্পের ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ, নতুন নির্মাতাদের জায়গা করে দেওয়ার দায়িত্ব। তবে এসব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থেকে আজকের দিনটি টরন্টোর আকাশে ভাসছে সিনেমার বিদায়ী সুর।

প্রতিটি করতালি, প্রতিটি আলোর ঝলক আর লাল গালিচার প্রতিটি পদচিহ্ন মনে করিয়ে দিচ্ছে—সিনেমা কেবল পর্দার শিল্প নয়, এটি মানুষের আবেগের মিলনমেলা। আর সেই আবেগেরই আরেক নাম টিআইএফএফ।

আরও পড়ুন

×