ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার কনসার্টে শাফিনকে ট্রিবিউট দেবে মাইলস

অস্ট্রেলিয়ার কনসার্টে শাফিনকে ট্রিবিউট দেবে মাইলস
×

মাইলস

আনন্দ প্রতিদিন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৫ | ১৩:২৫ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৫ | ১৩:২৭

দেশের ব্যান্ডের উজ্জ্বলতম নাম মাইলস। চার দশকের বেশি সময় ধরে তারা গান-গিটারে মাতিয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। এখনও মঞ্চে উঠলেই তাদের পারফরম্যান্স তরুণদের প্রাণে জাগায় অন্যরকম উন্মাদনা। দেশে যেমন, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মাইলস সমান জনপ্রিয়। বিশেষ করে প্রবাসী বাঙালিদের কাছে মাইলস মানে শুধু গান নয়, এক টুকরো মাতৃভূমির গন্ধ, নস্টালজিয়া আর আবেগের আড্ডা। চলতি মাসে আবারও অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছে মাইলস। তবে এবারের সফর হবে এক ভিন্ন আবেগঘন।

এ সফরে শুধু গান নয়; বরং শাফিন আহমেদকে ঘিরে আবেগেরও এক দীর্ঘ যাত্রা হয়ে থাকবে ভক্তদের জন্য। বলা যায়, আয়োজনে সংগীতপ্রেমীরা পাবেন ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা। কারণ মঞ্চে থাকবে মাইলস আর এলইডি স্ক্রিনে ভেসে উঠবে প্রয়াত শাফিন আহমেদের মুখ। তাঁর কণ্ঠ বাজবে সাউন্ড সিস্টেমে আর সরাসরি বাজাবেন ব্যান্ডের সদস্যরা– সময়কে উল্টে দিয়ে যেন আবারও ভক্তদের সামনে হাজির হবেন শাফিন।

আগামী ২১ অক্টোবর মাইলস উড়াল দেবে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে। মেলবোর্ন, সিডনি, ব্রিসবেন, অ্যাডিলেডের পর পার্থে শেষ হবে তাদের ট্যুর। প্রতিটি শোতেই থাকবে শাফিনকে ট্রিবিউট করে একটি গান।

হামিন আহমেদ বললেন, শাফিন আহমেদ ছিলেন মাইলসের অন্যতম প্রাণ। তাঁর কণ্ঠ ও স্টেজ প্রেজেন্সই আলাদা মাত্রা দিত ব্যান্ডকে। এবারের সফরে তাই প্রতিটি কনসার্টে তাঁকে আলাদা করে স্মরণ করা হবে। একটি বিশেষ গানে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হবে এলইডি স্ক্রিনে। তখন দর্শকরা একসঙ্গে অনুভব করবেন অতীত ও বর্তমানকে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, ভক্তরা যেন মনে করেন শাফিন এখনও আমাদের সঙ্গেই আছেন। তাঁর উপস্থিতি ছাড়া মাইলসকে ভাবা কঠিন। তাই এই সফরে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে মনে করাই আমাদের উদ্দেশ্য।’ হামিনের এই কথার মাধ্যমে বোঝাই যায়, এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রবাসী বাঙালিদের কাছে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করবে। হয়তো অনেকেই গানে গলা মেলাতে গিয়ে চোখ মুছবেন।

বিদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বাঙালিদের জন্য মাইলস শুধু গান নয়; এক ধরনের স্মৃতি, এক ধরনের মাতৃভূমির গন্ধ। ‘ফিরিয়ে দাও’, ‘ধিকি ধিকি’, ‘চাঁদতারা’, জ্বালা জ্বালা’, ‘পিয়াসী মন’ ‘প্রথম প্রেমের মত’, ‘পাহাড়ি মেয়ে’, ‘জাদু’, ‘দরদিয়া’, ‘জাতীয় সংগীতের দ্বিতীয় লাইন’, ‘পলাশীর প্রান্তর’ ‘নীলা’, ‘সুপ্ত বাসনা’, ‘এ সময়’, ‘শান্তি নাই’, ‘শেষ ঠিকানা’, ‘শান্তি চাই’, ‘আচেনা জীবন’সহ অনেক গান বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ গানগুলো প্রবাসের ক্লান্ত সন্ধ্যায় যেন বাঙালিদের আপন আড্ডার অংশ হয়ে ওঠে।

অস্ট্রেলিয়া সফর প্রসঙ্গে হামিন আহমেদ বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া হচ্ছে মায়ার এক নাম। এখানে যতবার যাই ততবার ভালো লাগে। এই তো গত জুনে বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি নিউ সাউথ ওয়েলসের আয়োজনে সিডনিতে শো করেছি। আমরা সব সময়ই চেষ্টা করি গান দিয়ে মানুষের মনে একটুখানি আলো ছড়াতে। এবারের আয়োজনেও তা-ই করতে চাই।’

এখন দেশের প্রায় সব ব্যান্ডই গান নিয়ে নিয়মিত বিদেশ সফর করছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ব্যান্ড হিসেবে দেশের বাইরে প্রথম শো করে মাইলস। বিষয়টি নিয়ে হামিন আহমেদ বলেন, ‘১৯৮৯ সাল থেকে আমরা দেশের বাইরে নিয়মিত শো করছি। এখন পর্যন্ত ১৮০টির বেশি আন্তর্জাতিক কনসার্ট হয়েছে। দেশের বাইরে আমাদের বিশাল ভক্ত মহল তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে প্রবাসীদের মাঝে।’

এবারের আয়োজনে মাইলস শুধু মঞ্চ মাতাবে না; বরং একটি ভিন্ন আবেগও বয়ে নিয়ে যাবে ভক্তদের কাছে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের শুরুর দিন থেকে আজকের অস্ট্রেলিয়া সফর– যাত্রাটা দীর্ঘ, বৈচিত্র্যময় আর সংগ্রামের। মাঝে মধ্যে ভাঙাগড়া হয়েছে, পরিবর্তন এসেছে সদস্যদের মাঝে, কিন্তু মাইলস থেমে যায়নি। প্রবাহিত হয়েছে নতুন গান, নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে জেগেছে নতুন উত্তেজনা। আজও তাদের কনসার্ট মানেই শ্রোতাদের হইচই, নাচ, উল্লাস আর স্মৃতির বন্যা।

অস্ট্রেলিয়ার এ সফর তাই শুধু একটি মিউজিক ট্যুর নয়; এটি হয়ে উঠতে যাচ্ছে আবেগের সফর। একটি সময়, একটি মানুষ (শাফিন) আর একটি প্রজন্মকে ফিরে দেখার আয়োজন।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৯ সালে গানের ভুবনে আত্মপ্রকাশ করে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলস। গত ৪৫ বছরে মাইলসের অ্যালবামগুলো হলো– ‘মাইলস’ (১৯৮২), ‘আ স্টেপ ফার্দার’ (১৯৮৬), ‘প্রতিশ্রুতি’ (১৯৯১), ‘প্রত্যাশা’ (১৯৯৩), ‘প্রত্যয়’ (১৯৯৬), ‘প্রয়াস’ (১৯৯৭), ‘প্রবাহ’ (২০০০), ‘প্রতিধ্বনি’ (২০০৬), ‘প্রতিচ্ছবি’ (২০১৫), ‘প্রবর্তন’ (শুধু ভারতে প্রকাশ)।

বর্তমানে মাইলসের সদস্যরা হলেন– হামিন আহমেদ, মানাম আহমেদ, সৈয়দ জিয়াউর রহমান তূর্য ও ইকবাল আসিফ জুয়েল।

আরও পড়ুন

×