ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

‘মূলধারার সিনেমায় নিজেকে প্রমাণের সামর্থ্যও আমার আছে’

‘মূলধারার সিনেমায় নিজেকে প্রমাণের সামর্থ্যও আমার আছে’
×

ইমতিয়াজ বর্ষণ। ছবি: ফেসবুক

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৬:৫২ | আপডেট: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৬:৫৬

ইমতিয়াজ বর্ষণ। অভিনেতা। তিনি এখন বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সম্প্রতি আইস্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত ওয়েব ফিল্ম ‘অমীমাংসিত’। এ মাসেই প্রেক্ষাগৃহে আসছে তাঁর আরেকটি সিনেমা, পাশাপাশি শুরু করছেন নতুন ছবির কাজ। আসন্ন সিনেমা ও আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে কথা হলো বর্ষণের সঙ্গে–

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ‘অমীমাংসিত’ অবশেষে মুক্তি পেল। এই মুক্তির অনুভূতিটা কেমন?
সত্যি বলতে কী, অনেক দিন ধরেই একটি অস্বস্তি কাজ করছিল। একটি সিনেমার সঙ্গে শুধু একজন শিল্পী নন, অনেক মানুষের শ্রম, সময় আর স্বপ্ন জড়িয়ে থাকে। সিনেমাটা যখন নানা জটিলতায় আটকে ছিল, তখন বারবার মনে হতো–এই পরিশ্রমটা কি তাহলে মানুষের কাছে পৌঁছাবে না? মুক্তির পর সেই চাপটা কেটে গেছে। এখন স্বস্তির পাশাপাশি ভালো লাগাটাও কাজ করছে।

এই সিনেমায় আপনি অর্ণব নামের একজন টেলিভিশন সাংবাদিকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। চরিত্রটার জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল?
চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় টেলিভিশন সাংবাদিককে ফলো করেছি। তাদের কাজের ধরন, প্রশ্ন করার ভঙ্গি, সংকটময় মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি–এই বিষয়গুলো খুব মন দিয়ে দেখেছি। যেহেতু সিনেমার বেশির ভাগ দৃশ্য ওয়ানটেক শটে ধারণ করা, তাই মহড়াটাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্যামেরা ছাড়াই অন সেটে বারবার মহড়া করেছি।

ওয়ানটেক শটে অভিনয় করা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
ব্যাপক চ্যালেঞ্জিং। এখানে ভুল করার কোনো সুযোগ নেই। একটি সংলাপ বা সামান্য মুভমেন্ট ভুল হলে পুরো শট আবার শুরু করতে হয়। তাই শুটিংয়ের চেয়ে প্রস্তুতির সময়টাই বেশি গেছে। তবে এই অভিজ্ঞতা একজন অভিনেতা হিসেবে আমাকে আরও মনোযোগী ও সংযত করেছে।

মুক্তির পর অনেকেই সিনেমাটি নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন…
হ্যাঁ, বেশ কিছু ভালো প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। একজন সমালোচক বলেছেন, গল্প অনুযায়ী দৃশ্যায়ন খুব সঠিকভাবে এগিয়েছে। এ ধরনের মন্তব্য একজন অভিনেতাকে প্রচণ্ডভাবে উৎসাহিত করে, সামনে এগিয়ে যেতে সাহস দেয়।

২৬ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে আপনার অভিনীত ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’। সিনেমাটি নিয়ে বলুন।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, রাজনৈতিক সচেতনতা ছাড়া সমাজকে বোঝা সম্ভব নয়। আমরা প্রায়ই দেখি, রেস্টুরেন্ট বা বিভিন্ন জায়গায় লেখা থাকে, ‘রাজনৈতিক আলাপ নিষেধ’। বাস্তবে রাজনৈতিক আলাপটাই সবচেয়ে জরুরি। এই সিনেমায় বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

বর্তমানে আপনি সিনেমাতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন–কারণ কী?
এখন গল্পটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। টেলিভিশন নাটকে কাজ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছি। ওটিটি ও সিনেমায় নিয়মিত কাজ করছি, কারণ এখানে চরিত্র নিয়ে গভীরভাবে কাজ করার সুযোগ থাকে। সম্প্রতি ‘রবি ইন ঢাকা’ ছবির শুটিং শেষ করেছি। সামনে শুরু হচ্ছে ‘রেকর্ডিংস’-এর কাজ।

প্রায় আট বছর পর আবার শার্লিন ফারজানার সঙ্গে জুটি বাঁধছেন। এই পুনর্মিলন কেমন লাগছে?
খুব ভালো লাগছে। ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’-এর সময় থেকেই আমাদের মধ্যে একটা গভীর বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল। তখন আমাদের জুটি দর্শকদেরও পছন্দ হয়েছিল। পরে অনেক গল্পের প্রস্তাব এসেছিল। পছন্দ না হওয়ায় করিনি। অবশেষে ‘রেকর্ডিংস’-এর গল্পটা দুজনেরই মনে ধরেছে।

‘রেকর্ডিংস’-এ আপনি একজন লেখকের চরিত্রে অভিনয় করছেন। চরিত্রটা কেমন?
এটি একজন লেখকের মানসিক দ্বন্দ্বের গল্প। সময়, সম্পর্ক, নিজের অবস্থান–সবকিছুর সঙ্গে তাঁর একটা লড়াই আছে। চরিত্রটা খুবই মনস্তাত্ত্বিক। এই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে আমি সত্যিই আগ্রহী।

মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমা নিয়ে আপনার আগ্রহ কতটা?
আগ্রহ অবশ্যই আছে। নাচ, গান, ফাইটনির্ভর সিনেমাও আমার পছন্দ। অনেকেই ভাবেন, আমি শুধু আর্টহাউস ঘরানার সিনেমায় মানাই। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, মূলধারার সিনেমাতেও নিজেকে প্রমাণ করার সামর্থ্য আমার আছে।

অভিনয়ের বাইরে সংগীতচর্চা নিয়েও তো ব্যস্ত আপনি…
গান আমার প্যাশন। থিয়েটার করতে গিয়ে গানের চর্চা শুরু। আহমেদ রাজীব ভাইয়ের সঙ্গে ‘হ্যালির ধূমকেতু’ ব্যান্ডটা করেছি। মৌলিক গান প্রকাশ করেছি, স্টেজ শোতেও পারফর্ম করেছি। গান আমার কাছে এক ধরনের মুক্তি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
ভালো গল্পে কাজ করতে চাই। চরিত্র বাছাইয়ে আরও সচেতন থাকতে চাই। অভিনয়, সিনেমা আর গান–এই তিনের মধ্যেই নিজেকে খুঁজে পাই। সামনে যে সময়টা আসছে, সেটিকে আমি আমার ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছি।

আরও পড়ুন

×