ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকার

এখনও মনে হচ্ছে আমি স্বপ্নের ভেতরে আছি: পুতুল

এখনও মনে হচ্ছে আমি স্বপ্নের ভেতরে আছি: পুতুল
×

আইনুন নাহার পুতুল। ছবি: অভিনেত্রীর সৌজন্যে

মীর সামী

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৮:১২ | আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৮:১৬

আইনুন নাহার পুতুল। সাতাও সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পাচ্ছেন তিনি।  গত বৃহস্পতিবার রাতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছে তাঁর নাম। এই প্রাপ্তি নিয়েই কথা হয় তাঁর সঙ্গে

সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার খবর শোনার মুহূর্তটা কেমন ছিল?

খবরটা শোনার পর মনে হচ্ছিল, কেউ যেন হঠাৎ করে আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বলছে। এটা সত্যি। এখনও মনে হচ্ছে, আমি কোনো এক স্বপ্নের ভেতরে আছি। এত বড় একটি সম্মান আমার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে আসতে পারে, সেটা কখনও কল্পনাও করিনি। সময় যত যাচ্ছে, ধীরে ধীরে অনুভূতিটা ভেতরে বসছে। কিন্তু সত্যি বলতে কী, এখনও পুরোটা উপলব্ধি করতে পারিনি। 

আনন্দের মুহূর্তে কার কথা আপনার বেশি মনে পড়ছে…

বাবার কথাই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে। বাবাকে খুব মিস করছি। উনি যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তাহলে এই খবরটা শুনে কতটা খুশি হতেন, সেটা ভাবলেই চোখ ভিজে আসে। জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেই বাবার অনুপস্থিতি অনুভব করেছি, কিন্তু আজ সেটা আরও তীব্রভাবে টের পাচ্ছি। আমার ভাই দেশের বাইরে থাকায় সে পাশে নেই, এই মুহূর্তটা একসঙ্গে ভাগ করে নিতে পারছি না। তবে মা খবরটা শোনার পর খুব খুশি হয়েছেন। মায়ের আনন্দ, তাঁর কণ্ঠে প্রশান্তি। এই সবকিছুই আমার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। 

‘সাঁতাও’ সিনেমাটি নিয়ে জানতে চাই…

‘সাঁতাও’ আমার জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায়। এই ছবিটি করতে গিয়ে আমি শুধু একজন চরিত্র নয়; বরং একটি ভিন্ন জীবনধারা ও মানসিকতার ভেতর দিয়ে গেছি। ছবিটির প্রতিটি দৃশ্যের পেছনে অসংখ্য মানুষের পরিশ্রম, চিন্তা ও দায়বদ্ধতা জড়িয়ে আছে। তাই এই সিনেমার জন্য পাওয়া স্বীকৃতিকে আমি ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখি না। এটা পুরো টিমের সম্মিলিত সাফল্য। নির্মাতা খন্দকার সুমন ভাইয়ের নির্দেশনা ও সহযোগিতা আমাকে চরিত্রটিকে গভীরভাবে বোঝার সুযোগ করে দিয়েছে। আমি চেষ্টা করেছি, সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে। 

শুটিংয়ের সময় কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতা কি আপনাকে আলাদা করে নাড়া দিয়েছে?

শুটিংয়ের প্রতিটি দিনই আমার জন্য শিক্ষণীয় ছিল। কিছু দৃশ্য ছিল মানসিকভাবে ভীষণ চ্যালেঞ্জিং, আবার কিছু মুহূর্ত ছিল ভীষণ আবেগঘন। পুরো টিমের সহযোগিতার কারণেই আমি সেই দৃশ্যগুলো ঠিকভাবে করতে পেরেছি। সেটা একটা পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ ছিল, যেটা একজন অভিনেতার জন্য খুব জরুরি। 

পুরস্কারটি কাদের উৎসর্গ করতে চান? 

আমি মন থেকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই ‘সাঁতাও’ সিনেমার পুরো টিমকে। সহশিল্পী, কলাকুশলী, টেকনিক্যাল টিম, সবাইকে। ওনারা না থাকলে এই চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগই পেতাম না। তাই এই পুরস্কার আমি তাদের সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। 

একজন অভিনেত্রী হিসেবে এই সম্মান, আপনার দায়িত্ববোধকে কীভাবে প্রভাবিত করবে?

এই স্বীকৃতি আমাকে শুধু আনন্দ দেয়নি; বরং আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে। সামনে কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হবে, নিজের সর্বোচ্চটা দিতে হবে। এই বোধটা আরও গভীর হয়েছে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমি চাই, আমার কাজের মাধ্যমে দর্শকের বিশ্বাস ধরে রাখতে এবং দেশের শিল্পচর্চায় নিজের জায়গা থেকে সৎ অবদান রাখতে।

আরও পড়ুন

×