সাক্ষাৎকার
‘মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প ও চরিত্র আমাকে গভীরভাবে টানে'
প্রান্তর দস্তিদার
এমদাদুল হক মিলটন
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৫১ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৪:৩৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রান্তর দস্তিদার। অভিনেতা ও মডেল। সম্প্রতি অনলাইনে প্রকাশ হয়েছে তাঁর অভিনীত নাটক ‘বৃষ্টির ঘ্রাণ’। ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে এ অভিনেতার সিনেমা ‘প্রেসার কুকার’। মডেলিংয়েও সরব তিনি। নাটক, সিনেমা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন
‘প্রেসার কুকার’ নারীকেন্দ্রিক সিনেমা। এ সিনেমায় নিজেকে তুলে ধরার কতটুকু সুযোগ পেয়েছেন?
এটি নারীকেন্দ্রিক সিনেমা হলেও আমার অভিনয়ের যথেষ্ট সুযোগ ছিল। নির্মাতা রায়হান রাফী আমাকে সেভাবেই উপস্থাপন করেছেন। আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছি।
সিনেমাটি নিয়ে আশাবাদী কেমন?
সিনেমার গল্প খুব শক্তিশালী। রায়হান রাফী নির্মাণে মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। কাস্টিং অসাধারণ। সবকিছু মিলিয়ে দর্শক একটি ভালো সিনেমা উপহার পাবেন বলে আশা করছি।
হাতে থাকা অন্য সিনেমার কী অবস্থা?
আমার অভিনীত ‘মস্ত বড়লোক’ ছবির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আর ‘সখী রঙ্গমালা’র শুটিংও প্রায় শেষের পথে–সম্ভবত আগামী মাসের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ হবে। গত এক বছর ধরে এই ছবিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। বিভিন্ন মৌসুমে, ভিন্ন ভিন্ন লোকেশনে শুটিং করেছি। অন্যদিকে ‘জীবন আমার বোন’ ছবিটিও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এতে আমার অভিনীত চরিত্র ছোট হলেও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আরও কয়েকটি চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত হলে নিশ্চয়ই জানাব।
‘জীবন আমার বোন’ সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতার কথা শুনতে চাই?
ছবিতে আমি ‘মুরাদ’ নামে একজন মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করেছি। ছবির প্রেক্ষাপট ১৯৭১ সাল–বিশেষ করে ২৫ মার্চের আগে ও পরের সময়কে ঘিরে গল্প এগিয়েছে। ছোটবেলা থেকেই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প ও চরিত্র আমাকে গভীরভাবে টানে। ৩০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা ছিল। এই ছবির মাধ্যমে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। জানি না কতটা সফলভাবে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি, তবে আমার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ছিল। ছবিটি নির্মিত হচ্ছে ‘জীবন আমার বোন’ উপন্যাস অবলম্বনে, যার রচয়িতা মাহমুদুল হক।
উপন্যাসটি পড়ার সময়ই অনুভব করেছি, ‘মুরাদ’ চরিত্রটি আলাদা গভীরতা বহন করে। তাই চরিত্রটির জন্য আলাদা করে রিহার্সাল করেছি এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। নির্মাতা এনায়েত করিম পরিকল্পিতভাবে কাজটি এগিয়েছেন।
‘বৃষ্টির ঘ্রাণ’ কাজটি নিয়ে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
‘বৃষ্টির ঘ্রাণ’ নাটকটি প্রচারের পর থেকে বেশ ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। তারেক রহমানের পরিচালনায় নির্মিত এই কাজটি যারা দেখেছেন, তারা গল্প ও উপস্থাপন–দুটোকেই প্রশংসা করছেন। আমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন বন্নি হাসান। এখানে অভিনয় করেছি চাকুরীজীবী ছেলের চরিত্রে। ছেলেটির সরলতা ও আন্তরিকতাই চরিত্রটির শক্তি।
ভালোবাসা দিবসে নাটক হিসেবে রাতেই এটি মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারিত হয়, পরে ইউটিউবেও মুক্তি পায়। বন্নির সঙ্গে এটি আমার প্রথম কাজ, তাই ব্যক্তিগতভাবেও কাজটি বিশেষ। গল্পটি শুরুতে রোমান্টিক আবহে এগোলেও শেষদিকে একটি ট্র্যাজেডি দর্শককে নাড়া দেয়। অনেকেই বলেছেন, আমাদের জুটিকে আবার দেখতে চান। সামাজিক মাধ্যমেও নাটকটি নিয়ে দর্শকের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি। সব মিলিয়ে বলতে পারি, কাজটি দর্শকের হৃদয়ে পৌঁছাতে পেরেছে।
ওয়েব সিনেমা ‘টিফিন বক্স’ নিয়ে দর্শক প্রতিক্রিয়া কী জানার সুযোগ হয়েছে?
এ কাজটিতে বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। অনেকেই বলছেন, গল্পটি খুব সহজ কিন্তু অনুভূতির জায়গাটা গভীর। বিশেষ করে ‘খেয়েছ?’ এই ছোট প্রশ্নটিকে ঘিরে যে আবেগ তৈরি হয়েছে, সেটি দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করছে। এতে আমার চরিত্রটি একজন রন্ধনপ্রেমীর। সে বিশ্বাস করে, কাউকে খাওয়ানো মানে তাকে যত্ন করা। এই দর্শনটাই আমাকে টেনেছে। শহরের ব্যস্ত জীবনে এমন চরিত্র খুব কম দেখা যায়, যে ভালোবাসাকে প্রকাশ করে খাবারের মাধ্যমে।
ঈদের কাজের কী খবর ?
ঈদকে ঘিরে দর্শকের প্রত্যাশা সবসময়ই একটু বেশি থাকে। সে জায়গা থেকে বলতে পারি, এবারের ঈদেও আমার একাধিক কাজ মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি নাটকের শুটিং শেষ করেছি। নির্মাতাদের তালিকায় রয়েছেন ভিকি জাহেদ, রাফাত মজুমদার রিংকু এবং মাবরুর রশীদ বান্নাহ’র মতো গুণী নির্মাতারা। তাঁদের সঙ্গে কাজ করা সবসময়ই শেখার সুযোগ তৈরি করে। আরও কয়েকটি বড় প্রজেক্টের কাজ শেষ করেছি, যেগুলোর ঘোষণা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকেই আসবে। বর্তমানে শুটিং চলমান রয়েছে। তাই আশা করছি, ঈদের আগেই কিংবা ঈদ উপলক্ষে কয়েকটি ভিন্নধর্মী কাজ দর্শকের সামনে আনতে পারব।
- বিষয় :
- সাক্ষাৎকার
- অভিনেতা
- মডেল
