শুধু তৌকীর আহমেদকে নিয়েই উদযাপন হবে একটা দিন
তৌকীর আহমেদ।
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:০৫ | আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:০৭
বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী তৌকীর আহমেদ। তাঁকে শুধু ‘অভিনেতা’ বললে কিছু থেকে যায়, শুধু ‘নির্মাতা’ বললেও অসম্পূর্ণ থেকে যায়, আবার ‘নাট্যকর্মী’ বললেও যেন সবটা বলা হয় না। তিনি এমন এক শিল্পী, যাঁর পরিচয় দিতে গেলে একাধারে বলতে হয়, অভিনেতা, নির্মাতা, নাট্যনির্দেশক, গল্পকার।
আগামী ১৯ এপ্রিল রোববার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে এই তৌকীর আহমেদকে নিয়ে একটা দিন চর্চা শুরু হবে। দিনটিতে নানাভাবে বিশ্লেষণ করা হবে এই নির্মাতা ও অভিনেতাকে। শিল্পকলা একাডেমির প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই শুরু হবে এই আয়োজন। দিনের শুরুতেই থাকবে ‘আমাদের সংস্কৃতি ও শিল্পীর দায়’ শিরোনামে একটি সেমিনার। এখানে তৌকীর আহমেদের কাজকে নানান দিক থেকে বিশ্লেষণ করবেন তাঁর সমসাময়িক ও উত্তরসূরি নির্মাতা, শিল্পী ও সংগঠকরা। বিকেলে প্রদর্শিত হবে তাঁর নির্মিত প্রশংসিত চলচ্চিত্র ‘অজ্ঞাতনামা’। আর সন্ধ্যায় থাকছে তাঁর নির্দেশিত ও অভিনীত নাটক ‘তীর্থযাত্রী’।
ঢাকার শোবিজে এই মেধাবী নির্মাতা ও অভিনেতার জন্ম ১৯৬৫ সালের ৫ মার্চ। শৈশব-কৈশোর কেটেছে শৃঙ্খলার বেষ্টনীতে। সেই সুশৃঙ্খলতার ভেতরেই লুকিয়ে ছিল স্বপ্নের এক বিস্তৃত আকাশ। ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের কঠিন শিক্ষায় তাঁর চরিত্র গড়ে ওঠে দৃঢ় ও মজবুত। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) স্থাপত্যবিদ্যা পড়ার সুবাদে তিনি অর্জন করেন এক যুক্তিনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গি। স্থাপত্য যেভাবে গড়ে দেয় কোনো ভবনের কাঠামো, ঠিক তেমনি এই শিক্ষা গড়ে দিয়েছিল তাঁর ভাবনার ভিত। এসবেরই অন্তরালে নীরবে বেড়ে উঠছিল আরেক তীব্র বাসনা।
গল্প বলার ইচ্ছা, ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করে ফেলার টান, মঞ্চের আলোয় নিজেকে মেলে ধরার এক অনির্বাণ আগ্রহ। ছাত্রাবস্থাতেই সেই টান তাঁকে নিয়ে যায় মঞ্চে। ক্যাডেট কলেজে হাতেখড়ি হয় মঞ্চে। পরে বুয়েটের মঞ্চে নিয়মিত অভিনয়। এরপর ধীরে ধীরে এই পথচলা পরিণত হয় এক গভীর অনুশীলনে। নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে তিনি পাড়ি জমান বিদেশে। লন্ডনের রয়্যাল কোর্ট থিয়েটার থেকে মঞ্চনাটক পরিচালনার প্রশিক্ষণ, আর নিউইয়র্ক ফিল্ম একাডেমিতে চলচ্চিত্র শিক্ষা।
১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি, বাংলাদেশ টেলিভিশনের ছোটপর্দায় তিনি হয়ে ওঠেন এক পরিচিত ও প্রিয় নাম। রোমান্টিক চরিত্রে তাঁর আবেদন দর্শকমহলে সৃষ্টি করেছিল আলাদা এক সাড়া। চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক ঘটে তানভীর মোকাম্মেলের কালজয়ী ছবি ‘নদীর নাম মধুমতী’-তে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই ছবিতে তাঁর অভিনয় দেখে দর্শক-সমালোচক উভয়েই বুঝতে পারেন, তিনি শুধু টেলিভিশনের অভিনেতা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবেন না। তিনি থেমে যাননি অভিনয়ের মধ্যে। গল্প বলার অদম্য দায়বোধ তাঁকে ঠেলে দেয় নির্মাণের জগতে। ২০০৪ সালে ‘জয়যাত্রা’ ছবির মধ্য দিয়ে নির্মাতা হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ। এরপর তিনি একে একে নির্মাণ করেন ‘রূপকথার গল্প’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘অজ্ঞাতনামা’, ‘ফাগুন হাওয়ায়’, ‘স্ফুলিঙ্গ’-এর মতো সিনেমা। তাঁর নির্মাণশৈলীতে যেমন আছে কাব্যদ্রষ্টার বিমূর্ত চেতনা, তেমনি আছে স্থপতির শৃঙ্খলাবোধ।
তৌকীর আহমেদের এই জীভনের নানা-মাত্রিক পথচলাকে স্মরণ ও পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগি নিয়েছেন ‘সুহৃদ’ নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। যে আয়োজনের নাম ‘ছয় দশক পেরিয়ে তৌকীর আহমেদ’। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এটি নিছক একটি অনুষ্ঠান নয়; বরং এক শিল্পীর জীবন, তাঁর সৃষ্টি ও সমাজসচেতন দায়বোধকে নতুন করে পাঠের এক উপলক্ষ।
- বিষয় :
- তৌকীর আহমেদ
- অভিনেতা
