ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সিনেমার মতই নাটকীয় থালাপতি বিজয়ের উত্থান

সিনেমার মতই নাটকীয় থালাপতি বিজয়ের উত্থান
×

থালাপতি বিজয়

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ | ১৭:৪১ | আপডেট: ০৪ মে ২০২৬ | ১৮:৫৭

তামিলনাড়ুর নির্বাচনে চমক দিয়েছে থালাপতি বিজয়ের দল তামিলগা ভেট্টি কাজগম (টিভিকে)। জীবনের প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাজ্যের প্রধান শক্তি হিসেবে উত্থান হয়েছে তার দলের। তবে এই উত্থান পেছনের গল্পটা যেন সিনেমার পর্দার মতই নাটকীয়।

জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর ওরফে থালাপতি বিজয়। ভারতের তামিলনাড়ুতে সিনেমার নায়ক থেকে রাজনীতিবিদ হওয়ার সবশেষ উদাহরণ। রাজ্যটিতে আগেও কয়েকজন রূপালি পর্দা ছেড়ে রাজনীতিতে এসেছেন। তবে বাকিদের তুলনায় থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রায় সিনেমার গল্পের মতো নাটকীয়তা।

বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রা মোটেও আকস্মিক ছিল না। ২০০৯ সালে তার বিশাল ফ্যান ক্লাব নেটওয়ার্ক ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামে একটি সমাজসেবামূলক সংস্থায় রূপান্তরিত হয়। অনেকে বিষয়টা প্রথমে ধরতে না পারলেও তার রাজনৈতিক যাত্রার ভিত তৈরি হয়েছিল তখনই। পরবর্তীকালে তার সিনেমাগুলোও সুকৌশলে রাজনৈতিক ভাবমূর্তি তৈরিতে সাহায্য করেছে।

আইএমডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে মুক্তি পায় তার সিনেমা ‘সরকার’, যেখানে এক ব্যবসায়ীর রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠার চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর নির্বাচনে জিতেও যান। ২০২৪ সালে শুরুতে রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজগাম (টিভিকে)’ গঠনের পর বিজয়ের রাজনীতির যাত্রাকে দেখা হচ্ছিল এই ‘সরকার’ সিনেমার গল্পের মতো করে। 

বাণিজ্যিক সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রের আবির্ভাব (দৃশ্যে) নিয়ে বেশ মাথা খাটাতে হয় পরিচালকদের। বিজয়ের বড় পরিসরে রাজনীতিতে পা রাখার মুহূর্তটাও অনেকটা সেভাবে সাজানো।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবর, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দল গঠনের খবর দিলেও এরপর অনেকটা নীরব ছিলেন বিজয়। মূলত তিনি ও তাঁর দলের সদস্যরা একটি মুহূর্ত খুঁজছিলেন, যেখানে সহজেই জনসাধারণের সাড়া পাওয়া যাবে।

এই মুহূর্তটি আসে সেপ্টেম্বরে। ৫ তারিখে মুক্তি পায় বিজয়ের ‘গ্রেটেস্ট অব অলটাইম’ সিনেমা। আর ২৫ সেপ্টেম্বর তামিলনাড়ুর কেন্দ্রস্থল ত্রিচিতে হয় সমাবেশ। মূলত, সিনেমা মুক্তির পরপরই ওই সমাবেশের সময় নির্ধারণ করা হয়, যাতে চলচ্চিত্র নিয়ে উন্মাদনার মধ্যেই বিজয়ের রাজনীতে উপস্থিতির বিষয়টি আলোচনায় থাকে।

থালাপতি বিজয় রাজনীতিবিদ হিসেবে ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের নজর কাড়েন গেল বছরের আগস্টে। তামিলনাড়ুর মাদুরাই শহরে এক মহাসমাবেশে তিনি ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনকে অ্যাখ্যা দেন ‘ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে, যে খবর বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে বেশ গুরুত্ব পায়। 

আগস্টের মহাসমাবেশে থালাপতি বিজয়ের ভাষণেও উঠে আসে এমন সংলাপ। বিজেপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘জঙ্গলে অনেক শিয়াল থাকে, কিন্তু সিংহ থাকে মাত্র একটি। সিংহ জানে কি করে টিকে থাকতে হয়।’

মূলত সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের ওই প্রচার চালাচ্ছিলেন বিজয়। এর মধ্যেই ঘটে অঘটন। তামিলনাড়ুর কারুরে সমাবেশে পদদলিত হয়ে মারা যান ৪১ জন। সবকিছু ঘটে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে। এমন ঘটনা ও মৃত্যুর খবর জানার পরও বিজয় ঘটনাস্থল থেকে চুপচাপ চলে যান।

এরপর নানা আইনি জটিলতায় সেসময় অনেকেই বলেছিলেন এবার হয়তো থেকে যাবেন বিজয়। কিন্তু তিনি যে থামার মানুষ নন তা হয় কাজ দ্বারায় প্রমাণ করলেন।

তামিলনাড়ুর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী হলে দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয় থালাপতি এমন এক ইতিহাস গড়বেন, যা গত ৪৯ বছরে আর কোনো চলচ্চিত্র তারকা করতে পারেননি। এম জি রামাচন্দ্রনের (এমজিআর) পর তিনিই হবেন অভিনেতা থেকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া প্রথম ব্যক্তি।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিজয় যখন নিজের রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণার সময় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, রাজনীতি তার কাছে কোনও ‘পার্ট টাইম’ শখ নয়। মানুষের সেবা করতে এসেছেন, আজন্ম তিনি তাই করবেন। তামিলনাড়ুর সঙ্গে নাড়ির টান, সেখানকার মানুষের ভাল করাই তার লক্ষ্য।

আরও পড়ুন

×