ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক

আলোচনায় অগ্রগতি, তেল বিক্রিতে ছাড় পেল ইরান

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে যোগাযোগ রক্ষা করবে দুই দেশ

আলোচনায় অগ্রগতি, তেল বিক্রিতে ছাড় পেল ইরান
×

সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার স্থান বুয়ের্জেনস্টেক রিসোর্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, স্পিকার বাঘের গালিবাফসহ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা -দ্য গার্ডিয়ান

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি আলোচনার প্রথম দফা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে বসেছিল দুই দেশের প্রতিনিধি দল। পুরো সপ্তাহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলবে দুই পক্ষের মধ্যে। তবে প্রথম দফার পরপরই ইরানের দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফসহ মূল আলোচক দল তেহরানের পথে রওনা হয়। 

আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক ও গঠনমূলক ছিল বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী পক্ষ কাতার ও পাকিস্তান। তারা আরও জানায়, আলোচনায় ‘উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’ দেখা গেছে। তবে হরমুজ প্রণালি ও লেবানন ঘিরে উদ্বেগ এখনও কাটেনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, দুই পক্ষ স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে। লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর একটি প্রক্রিয়ার বিষয়েও একমত হয়েছে দুই পক্ষ। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতে নিরাপদে নৌযান পার হতে পারে, সে লক্ষ্যে এখন থেকে যোগাযোগ রক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। 
গত সপ্তাহে ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তারই ধারাবাহিকতায় গত রোববার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা রোববার শুরু হলেও গতকাল সোমবার প্রথমভাগ পর্যন্ত গড়ায়। এদিকে আলোচনার আগ দিয়ে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আবারও ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর হুমকি দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানান, ট্রাম্প ইরানের জনসাধারণের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় গড়তে আগ্রহী। আলোচনার পর ভ্যান্স আরও জানান, লেবাননে সংঘাত থামানোর বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। 

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, তেহরান তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রিতে ছাড় পেয়েছে, জব্দ থাকা কিছু তহবিলও ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের জন্য পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। 
ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই তেলের দাম কমতে শুরু করেছিল। রোববারের বৈঠকের পর তা আরও কমেছে বলে জানায় রয়টার্স। গত রোববার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পাঁচটি নৌযান পার হয়েছে। আলজাজিরার খবর বলছে, প্রণালি দিয়ে যান চলাচল আপাতত ধীরগতিতে হচ্ছে।

আলোচনার মাঝে গন্ডগোল
আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ করে হুমকি দেন। তিনি বলেন, (ইরানের কর্মকর্তারা) আবার হরমুজ বন্ধের চেষ্টা করলে তাদের দেশ থাকবে না। পাশাপাশি ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে এবং টোল আদায় করবে।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, ট্রাম্পের হুমকি প্রকাশ্যে আসার পর ইরানের প্রতিনিধি দল আলোচনা কক্ষে ফেরত যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। যদিও আলোচনা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হচ্ছিল।

লেবানন পরিস্থিতি 
সর্বশেষ গত শনিবার লেবাননে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই দিনের পর সেখানে নতুন করে আর কোনো হামলা হয়নি। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের নির্দেশে হামলা চালানো থেকে বিরত রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে তাদের লেবাননে দখল করে রাখা এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।  
গতকাল সোমবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননের আট এলাকার বাসিন্দাদের ওপর থেকে সুরক্ষা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, হোয়াইট হাউস মুখপাত্র জ্যারেড কুশনার ও কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানির সঙ্গে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের ফোনালাপ হয়েছে। তারা যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলা বন্ধের বিষয়ে আলোচনা করেন।

 

আরও পড়ুন

×