ইসরায়েলপন্থি লবিগুলো কি ব্রিটিশ রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে
ফাইল ছবি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ০০:১৩
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে ইসরায়েলপন্থি লবি গ্রুপগুলোর বড় অঙ্কের অর্থায়ন এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আলজাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই গ্রুপগুলো লেবার ও কনজারভেটিভ পার্টির শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনী প্রচারণা ও ইসরায়েল সফরে বিপুল অর্থ ঢেলেছে। শুধু অর্থায়নই নয়, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করলে ব্রিটিশ রাজনীতিকদের ইহুদিবিদ্বেষী তকমা দিয়ে কোণঠাসা করা, দল থেকে বহিষ্কার বা তহবিল বন্ধের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে এদের বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব খতিয়ে দেখতে কোনো তদন্তের প্রয়োজন আছে কিনা, তা নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অ্যান্ডি কালিল নামে এক ব্রিটিশ নাগরিকের শুরু করা একটি পিটিশনে ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করায় সংসদে এই বিতর্কের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্রিটিশ সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পিটিশনে এক লাখের বেশি স্বাক্ষর পড়লে তা পার্লামেন্টে আলোচনার জন্য বিবেচিত হয়।
পিটিশনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ এবং পশ্চিম তীরে দমন-পীড়নের পরও যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে লবিং গ্রুপগুলো সরকারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
তবে বর্তমান লেবার সরকারের দাবি, লবিংয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য দেশে প্রয়োজনীয় আইন রয়েছে।
লবি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ট্র্যাক ইসরায়েল লবি ইউকে এবং ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডিক্লাসিফাইড ইউকের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রাজনীতিতে বেশ কিছু ইসরায়েলপন্থি লবি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এদের মধ্যে কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েল এবং লেবার ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েল যথাক্রমে কনজারভেটিভ ও লেবার পার্টির সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক জোরদারের জন্য কাজ করে।
ডিক্লাসিফাইড ইউকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলপন্থি লবি গ্রুপগুলো লেবার পার্টির বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের ৩ লাখ পাউন্ডের বেশি অর্থায়ন করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নির্বাচনী প্রচারণায়ও লবিস্টরা বড় অনুদান দিয়েছে এবং তাঁর মন্ত্রিসভার ৭ জন সদস্য লবিস্টদের টাকায় ইসরায়েল সফর করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরাও ইসরায়েলি লবি গ্রুপ থেকে তহবিল পেয়েছিলেন। এমনকি বিগত বছরগুলোতে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করায় অনেক রাজনীতিককে ইহুদিবিদ্বেষী তকমা দিয়ে দল থেকে বহিষ্কারের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, এই লবিংয়ের কারণে ব্রিটিশ গণমাধ্যমও নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে। বিবিসির শতাধিক কর্মী অভিযোগ করেছেন, গাজা যুদ্ধের খবর প্রচারে ইসরায়েলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে সংবাদমাধ্যমটি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পার্লামেন্ট বিতর্ক সরকারের জন্য বড় জটিলতা তৈরি করতে পারে। লবিং নিয়ে যদি আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত হয়, তবে তা দেশের ভেতরে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এবং ইসরায়েল একে ইহুদিবিদ্বেষী পদক্ষেপ হিসেবে ফ্রেমিং করতে পারে। ফলে সব মিলিয়ে, ব্রিটিশ সরকার এ ধরনের তদন্ত এড়ানোরই চেষ্টা করবে।
- বিষয় :
- ইসরায়েল
- ব্রিটিশ পার্লামেন্ট
