বর্তমান সময়ের অনেক নারী দোলনের সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পাবেন: সারিকা
সারিকা সাবরিন। ছবি: সংগৃহীত
মীর সামি
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ১২:৩৯ | আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ | ১৪:২০
সারিকা সাবরিন। অভিনেত্রী ও মডেল। গত বৃহস্পতিবার ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইতে মুক্তি পেয়েছে এই অভিনেত্রীর নতুন ওয়েব সিরিজ ‘হেডলাইন’। সাংবাদিকতা, সত্য অনুসন্ধানে লড়াইয়ের গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিরিজে দোলন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। নতুন এই কাজ ও অন্যান্য বিষয়ে কথা হলো তাঁর সঙ্গে–
আপনার নতুন সিরিজ ‘হেডলাইন’ নিয়ে বলুন।
হেডলাইন সিরিজে দেখানো হয়েছে সত্য খুঁজে বের করার পথে একজন সাংবাদিককে কত ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তবে এটি শুধু সাংবাদিকতা বা অনুসন্ধানের গল্প নয়। এর আড়ালে রয়েছে সুন্দর পারিবারিক গল্পও। পরিবারের সম্পর্ক, ব্যক্তিগত টানাপোড়েন, আবেগ, দ্বন্দ্বের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। আমার বিশ্বাস, দর্শক শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পটির সঙ্গে যুক্ত থাকবেন এবং প্রতিটি পর্ব শেষ হওয়ার পর পরের পর্ব দেখার আগ্রহ অনুভব করবেন।
সিরিজটি নিয়ে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
আমি তো অনেক বছর ধরেই সামাজিক মাধ্যমে নেই। তাই ফেসবুক বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া সরাসরি দেখার সুযোগ হয় না। তবে হেডলাইন মুক্তির পর সহকর্মী, বন্ধু এবং পরিচিত অনেকেই ফোন করে তাদের ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন। তারা গল্প, নির্মাণ এবং চরিত্র নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। একজন শিল্পী হিসেবে দর্শকদের এই ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

‘হেডলাইন’ সিরিজে যুক্ত হলেন কীভাবে?
প্রথম যখন হেডলাইন-এর গল্প শুনি, তখনই মনে হয়েছিল এটি একেবারেই সময়োপযোগী একটি গল্প। গল্পটি শুনেই মনে হয়েছিল, এটি এমন একটি কাজ, যা দর্শকদের শুধু বিনোদনই নয়, ভাবারও সুযোগ করে দেবে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে এমন গল্পের অংশ হতে পারা আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। তাই ধন্যবাদ জানাই নির্মাতা, হইচই কর্তৃপক্ষ আর আমার দর্শকদের।
দোলন চরিত্রটি সম্পর্কে বলুন।
দোলন আত্মবিশ্বাসী এবং দায়িত্বশীল একজন নারী। হেডলাইন সিরিজে সে একজন সাংবাদিকের স্ত্রী। ঘটনাচক্রে এমন একটি বড় রহস্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, যা তার জীবনকে পুরোপুরি বদলে দেয়। এরপর একের পর এক ঘটনার মধ্য দিয়ে তাকে কঠিন সব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। দোলনের সবচেয়ে ভালো দিক হলো, সে সহজে ভেঙে পড়ে না। নিজের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করে। আমি মনে করি, বর্তমান সময়ের অনেক নারী দোলনের সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাবেন। কারণ, জীবনের নানা সংকটের মধ্যেও কীভাবে শক্ত থেকে সামনে এগিয়ে যেতে হয়, দোলন সেই গল্পই বলে।
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইতে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
খুবই ভালো। প্রথমবারের মতো এই প্ল্যাটফর্মে কাজ করলাম। হইচইয়ের মতো একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজের সুযোগ অবশ্যই আনন্দের। কারণ এখানকার কনটেন্ট শুধু বাংলাদেশের নয়, দেশের বাইরেও অনেক দর্শক দেখেন। একজন অভিনেত্রী হিসেবে চাই আমার কাজ বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাক। সেই দিক থেকে এটি আমার জন্য খুবই ইতিবাচক একটি অভিজ্ঞতা।

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ‘অ্যানি’ সিরিজটি নিয়ে বলুন। কাজটি নিয়ে প্রত্যাশা কী?
আমি খুব আশাবাদী। ‘অ্যানি’ আমার জন্য বিশেষ একটি কাজ। পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ যেভাবে গল্প ও চরিত্র নির্মাণ করেন এবং বাস্তবতাকে পর্দায় তুলে ধরেন, সেটি সব সময়ই আমাকে মুগ্ধ করে। তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও দারুণ। সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, সিরিজটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার জার্মানির কোলনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি আমাদের দেশের জন্যও গর্বের। আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে দেশের ওয়েব সিরিজ প্রদর্শিত হওয়া মানে আমাদের কাজ আরও বড় পরিসরে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হওয়া। আমি বিশ্বাস করি, ‘অ্যানি’ দর্শকদের জন্য ভিন্নধর্মী একটি অভিজ্ঞতা হবে। এখানে গল্প, নির্মাণশৈলী, চরিত্র– সবকিছুই খুব যত্ন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমি সব সময় এমন কাজের অংশ হতে চাই, যেগুলো শুধু বিনোদন দেয় না, দর্শকের মনে দীর্ঘ সময় থেকে যায়।
অনেক দিন ধরেই সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে আছেন। সিদ্ধান্তটি নিয়ে এখন কী মনে হয়?
সত্যি বলতে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই বরং বেশ স্বস্তিতে আছি। সামাজিক মাধ্যমে না থাকায় নিজের জন্য অনেক বেশি সময় পাই; পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারি এবং নিরিবিলি একটা জীবন উপভোগ করতে পারছি। অবশ্যই সামাজিক মাধ্যমের কিছু ইতিবাচক দিক আছে। ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, নিজের কাজের আপডেট দেওয়া কিংবা তাদের প্রতিক্রিয়া জানা। এসব মাঝে মাঝে মিস করি। সবকিছু মিলিয়ে আমি মনে করি, মানসিক শান্তিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই মুহূর্তে আমি আমার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে কী হবে জানি না, তবে এখন যেমন আছি, তাতে ভালো আছি।
সবশেষে জানতে চাই, সামনে নতুন কী কী কাজ করছেন?
কয়েকটি নতুন প্রকল্প নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। এখনই খুব বেশি কিছু বলতে চাই না। কারণ কোনো কাজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হওয়ার আগে সেটি নিয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না। সবকিছু চূড়ান্ত হলে অবশ্যই দর্শকদের জানাব। আমি সব সময় চেষ্টা করি সংখ্যার চেয়ে ভালো গল্প এবং চরিত্রকে গুরুত্ব দিতে। তাই একটু সময় লাগলেও এমন কাজই করতে চাই, যেটি নিয়ে পরে গর্ব করতে পারব।
- বিষয় :
- সাক্ষাৎকার
- মডেল
- সারিকা সাবরিন
