ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

‘সাতলুজ’ নিয়ে কেন এতো আলোচনা

‘সাতলুজ’ নিয়ে কেন এতো আলোচনা
×

অভিনেতা-গায়ক দিলজিৎ

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ | ১৮:২৭

অভিনেতা-গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত সিনেমা ‘সাতলুজ’ মুক্তির মাত্র দুই দিনের মাথায় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও দর্শকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মূল ও সম্পাদনাবিহীন সংস্করণে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি গল্প, আবেগ এবং অভিনয়ের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকেই এটিকে দিলজিতের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ বলে মন্তব্য করেছেন।

৩ জুলাই মুক্তির পর থেকেই ‘সাতলুজ’ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দর্শকদের অনেকেই সিনেমাটির আবেগঘন উপস্থাপনা ও বাস্তবধর্মী গল্প বলার প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে দিলজিত ও অর্জুন রামপালের অভিনয় আলাদাভাবে নজর কেড়েছে।

একজন দর্শক এক্সে লিখেছেন, “ছোটবেলা থেকে এসব অজানা গল্প শুনে এসেছি। কিন্তু পর্দায় সেই ঘটনাগুলো দেখে বুক ভেঙে গেছে। ‘সাতলুজ’ শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি পাঞ্জাবের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার দলিল। অসাধারণ চিত্রনাট্য, দুর্দান্ত উপস্থাপনা আর আবেগে ভরপুর।”

আরেকজন লিখেছেন, “‘সাতলুজ’ দেখার পর একটি বিষয় পরিষ্কার-দিলজিৎ তার চরিত্রে অসাধারণ সততা দেখিয়েছেন। সিনেমাটির আবেগ দর্শকের সঙ্গে গভীরভাবে সংযোগ তৈরি করে।” অন্য এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “কোনো প্রচারণা ছাড়াই ‘সাতলুজ’ মুক্তি পেয়েছে, আর সেটাই এর সবচেয়ে বড় চমক। এই লুকানো রত্নটি মিস করবেন না।”

হানি ত্রেহান পরিচালিত ‘সাতলুজ’ সিনেমার নাম শুরুতে ছিল ‘পাঞ্জাব ’৯৫’। এটি মানবাধিকারকর্মী জসবন্ত সিং খালরার জীবনের ওপর নির্মিত। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে পাঞ্জাবে হাজারো অজ্ঞাত পরিচয়ের মরদেহ গোপনে দাহ করার অভিযোগের তদন্ত করেছিলেন তিনি। সেই বাস্তব ঘটনাই উঠে এসেছে সিনেমাতে।

২০২২ সালে সিনেমাটি সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি)-এর কাছে জমা দেওয়া হলেও ছাড়পত্র পায়নি। নির্মাতাদের দাবি, সেন্সর বোর্ড সিনেমাতে ১২৭টি কাটের নির্দেশ দিয়েছিল। ২০২৩ সালে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের কথাও থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কোনো প্রচারণা ছাড়াই ৩ জুলাই জি-ফাইভে মুক্তি পায় ‘সাতলুজ’। মাত্র দুই দিন পর, ৫ জুলাই, পূর্বঘোষণা ছাড়াই প্ল্যাটফর্মটি থেকে সিনেমাটি সরিয়ে নেওয়া হয়। সরিয়ে নেওয়ার পর সিনেমাটি নিয়ে আরও বেশি আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই জি-ফাইফ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

পরে এক বিবৃতিতে জি-ফাইফ জানায়, তারা সিনেমা ও এর সৃজনশীল ভাবনার পাশে রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতে সিনেমাটি প্রদর্শন করা হবে না।

দিলজিত ও অর্জুন রামপাল ছাড়াও সিনেমাতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন কানওয়ালজিৎ সিং, সুভিন্দর ভিকি এবং গীতিকা বিদ্যা ওহলিয়ান। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

আরও পড়ুন

×