ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না: নিশাত প্রিয়ম

নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না: নিশাত প্রিয়ম
×

নিশাত প্রিয়ম। ছবি: অভিনেত্রীর সৌজন্যে।

এমদাদুল হক মিল্টন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ১৩:২১ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ১৩:২৪

নিশাত প্রিয়ম। অভিনেত্রী ও মডেল। ওটিট প্ল্যাটফর্ম বঙ্গতে সম্প্রতি প্রকাশ হয়েছে তাঁর অভিনীত নাটক ‘ফুটবল হট্টগোল’। এ ছাড়াও দুটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন তিনি। সাম্প্রতিক কাজ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় এ অভিনেত্রীর সঙ্গে

বিশ্বকাপ উপলক্ষে নির্মিত ‘ফুটবল হট্টগোল’-এ কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

খুবই ব্যতিক্রমী একটি অভিজ্ঞতা। সাধারণত বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নির্মিত নাটকগুলোতে কমেডি বা আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মজার দ্বন্দ্ব বেশি দেখা যায়। কিন্তু ‘ফুটবল হট্টগোল’-এর গল্প একেবারেই ভিন্ন। এখানে ফুটবলকে ঘিরে জুয়া, অপরাধচক্র এবং রহস্যের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এই ভিন্নধর্মী গল্পের অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত। দর্শকরা নাটকটি দেখে নতুন ধরনের স্বাদ পাবেন বলে আমার বিশ্বাস।

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই অন্যরকম একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। আপনি এই উন্মাদনাকে কীভাবে উপভোগ করেন?

বিশ্বকাপ আমার কাছে শুধু একটি খেলা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক উৎসব। চার বছর পরপর এই আয়োজনকে ঘিরে মানুষের আবেগ, আনন্দ, তর্ক-বিতর্ক– সবকিছুই দারুণ উপভোগ করি। সমর্থকদের মধ্যে যে প্রাণবন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়, সেটি বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ। আমি ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সঙ্গে খেলা দেখার অভ্যাস গড়ে তুলেছি। তাই বিশ্বকাপ এলে শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও সময় বের করে প্রিয় ম্যাচগুলো দেখার চেষ্টা করি।

‘ফুটবল হট্টগোল’ নাটকে আপনার চরিত্র সম্পর্কে কিছু বলুন।

আমি একজন নবীন ক্রীড়া সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয় করেছি। কাজের সূত্রে ‘অক্টোপাস ভাই’ নামে একটি ফেসবুক পেজের সন্ধান পাই, যেখানে ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী অবিশ্বাস্যভাবে মিলে যায়। সেই সূত্র ধরে আয়ানের সঙ্গে পরিচয়, পরে বন্ধুত্ব। কিন্তু আয়ান রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব অনেকটাই আমার চরিত্রের ওপর এসে পড়ে। একজন সাংবাদিকের অনুসন্ধানী মনোভাব, সাহস এবং দায়িত্ববোধ– এসব বিষয় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই নাটকের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ কী বলে মনে করেন?

আমার কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর গল্প। দর্শক শুরুতে হয়তো ভাববেন এটি একটি সাধারণ ফুটবলনির্ভর নাটক। কিন্তু গল্প যত এগোবে, ততই রহস্য, সাসপেন্স ও সামাজিক বাস্তবতার বিষয়গুলো সামনে আসবে। এই ভিন্ন উপস্থাপনাই নাটকটির বিশেষত্ব।

একজন ক্রীড়া সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?

আমি কিছু স্পোর্টস রিপোর্টারের উপস্থাপনা ও কাজের ধরন দেখেছি। তারা কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করেন, প্রশ্ন করেন এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রিপোর্ট উপস্থাপন করেন, সেসব বিষয় বোঝার চেষ্টা করেছি। এতে চরিত্রটি আরও বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলতে সুবিধা হয়েছে।

নাটকে আপনার সহঅভিনেতা শ্যামল মাওলা। তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
শ্যামল ভাই খুবই সহযোগিতাপরায়ণ একজন সহশিল্পী। তিনি সবসময় দৃশ্য নিয়ে আলোচনা করেন এবং সহশিল্পীদের স্বাচ্ছন্দ্যবোধের বিষয়টি গুরুত্ব দেন। পুরো ইউনিটের পরিবেশও ছিল খুব আন্তরিক। আর নির্মাতা গল্প ও চরিত্র নিয়ে খুব পরিষ্কার ধারণা রাখেন। তিনি প্রতিটি দৃশ্যের আবেগ ও প্রয়োজনীয়তা সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দেন। ফলে অভিনয় করতে অনেক সুবিধা হয়েছে। 

একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে কী ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে চান?

আমি নিজেকে একটি নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। রোমান্টিক, রহস্য, থ্রিলার, সামাজিক বা নারীপ্রধান– সব ধরনের গল্পেই কাজ করতে চাই। একজন শিল্পীর জন্য বৈচিত্র্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।

দর্শকদের উদ্দেশে কিছু বলুন।

দর্শকদের ভালোবাসার কারণেই আমরা কাজ করার অনুপ্রেরণা পাই। ‘ফুটবল হট্টগোল’ একটি ভিন্নধর্মী আয়োজন। বিশ্বকাপের আবহে শুধু হাস্যরস নয়, এর বাইরেও একটি রোমাঞ্চকর গল্প এখানে রয়েছে। সবাইকে অনুরোধ করব নাটকটি দেখার এবং নিজেদের মতামত জানানোর। দর্শকদের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি।

আপনি কি বাস্তব জীবনেও ফুটবলের ভক্ত?

অবশ্যই। আমি নিয়মিত ফুটবল দেখি। বিশ্বকাপের সময় তো উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। প্রিয় দলকে সমর্থন করি, তবে সুন্দর ফুটবলই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি উপভোগ করি। ভালো খেলাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে আপনি আরও কোন কোন কাজ নিয়ে ব্যস্ত?

বর্তমানে ‘ঘরে বাইরে’ এবং ‘মিডল ক্লাস ফ্যামিলি’ নামে দুটি ধারাবাহিকে কাজ করছি। পাশাপাশি নতুন কিছু নাটক ও ওটিটির কাজ নিয়েও আলোচনা চলছে। চেষ্টা করছি, ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজ করতে, যাতে দর্শক প্রতিবার নতুনভাবে আমাকে দেখতে পারেন।

দর্শকদের কাছ থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে?

যখন দর্শক বলেন যে তারা আমার অভিনীত চরিত্রকে বাস্তব মনে করেছেন বা চরিত্রটির সঙ্গে নিজেদের সংযোগ খুঁজে পেয়েছেন, তখন সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। একজন শিল্পীর জন্য এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।

আরও পড়ুন

×