ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘বুকের পাঁজর ভেঙে স্বপ্ন দিলাম, ১২ মাস জুড়ে থাক’

‘বুকের পাঁজর ভেঙে স্বপ্ন দিলাম, ১২ মাস জুড়ে থাক’
×

বাপ্পা মজুমদার

রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:৩৮ | আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ২০:১২

‘এই তো আর মাত্র কয়েক মাস; তারপর হিসাবটা বদলে যাবে। লিখতে হবে গানের ভুবনে পথচলার তিন যুগ পূর্ণ হলো। তিন যুগ!! ভাবা যায়, এত সময় কী করে চলে যায়? আমি যখন পেছন ফিরে দেখি, সময়টা চলচ্চিত্রের মতোই মনের পর্দায় ভেসে ওঠে। শৈশব-কৈশোরের দুরন্তপনা আর অধ্যবসায়ের দৃশ্যগুলো বাদ দিলে কী দেখি? দেখি কেবলই একই রকম দৃশ্যের অবতারণা। গাইছি, সুর বাঁধার চেষ্টা করে যাচ্ছি নয়তো বাদ্যযন্ত্র হাতে নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছি কোনো নিরীক্ষা। গানের মানুষ বলেই হয়তো অতীত দৃশ্যের খুব একটা বদল হয় না। তবু অবাক লাগে, সুরের অতলে ডুব দিয়ে এতটা পথ কীভাবে পাড়ি দিয়েছি ভেবে। সময় হয়তো এমনি করেই জলের মতো আঙুলের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়। তা যাক, এখন কথা হলো সংগীতের এই দীর্ঘ সফরে আমি বেশি কিছু করতে পেরেছি কি? হয়তো পারিনি। আর পারিনি বলেই এখনও সৃষ্টির নেশা এতটুকু কমেনি। শিল্পীমনের তৃষ্ণা একই রকম রয়ে গেছে।’

বাপ্পা মজুমদারের মুখে এমন কথা শুনে একটু অবাক না হয়ে পারিনি। কেন তাঁর মনে সংশয়, তিন যুগের পথচলায় বেশি কিছু করে দেখাতে পারেননি! দেশীয় সংগীতে তাঁর অবদান কতখানি, তা শ্রোতারা ভালো করেই জানেন। আর তৃষ্ণার কথা যেটি বলেছেন, সে তো সব শিল্পীর থাকে আমৃত্যু– একথাও সংগীতপ্রেমীদের অজানা নয়।

আসল কথা হলো, বাপ্পা মজুমদার গানের ভুবনে নিজস্বতা ধরে রেখে যে সৃষ্টি তুলে ধরেছেন, তা সিংহভাগ শ্রোতার হৃদয় আন্দোলিত করেছে। এখনও তাঁর অসংখ্য গান অনুরণন তুলে যাচ্ছে অনেকের মনে। তাই তো যখন আমরা দেখি, নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা স্বীকার করেন, বাপ্পা মজুমদারের অনবদ্য সৃষ্টি আর অনিন্দ্য পরিবেশনা তাদের শিল্পী হয়ে ওঠার প্রেরণা জুগিয়েছে– তা শুনে মোটেও অবাক হই না। শুধু তাই নয়, আমরা এটি দেখেও অবাক হয়নি, যখন এ প্রজন্মের তারকা শিল্পীরা বাপ্পাকে শ্রোতার আসনে বসিয়ে শোনান তাঁরই কালজয়ী গানগুলো। কয়েকদিন আগে এমনই এক আয়োজনের সাক্ষী হতে হয়েছে বাপ্পাকে।

‘সেলিব্রেটিং বাপ্পা মজুমদার’ শিরোনামে ভিন্ন রকম সংগীতসন্ধ্যায় শিল্পী এলিটা করিম, ডি’রকস্টার শুভ, ফারহিন খান জয়িতা, জয় শাহরিয়ার, খৈয়াম সানু সন্ধি, ইউসুফ আহমেদ খান, কারিশমা সানু সভ্যতা ও ইমতিয়াজ সৌরভের কণ্ঠে ছিল কেবল বাপ্পার গান। বাদযন্ত্রী বিপু, রিয়াদ, নিপু, রিমনও প্রাণ উজার করে বাজিয়েছেন বাপ্পার গানগুলোয়। বাপ্পা মজুমদারকে গানে গানে শ্রদ্ধা জানাতে শিল্পীরা নিজেদের উদ্যোগে এই আয়োজন করেছিলেন। 
অনুষ্ঠানে শিল্পীদের ভাষ্য ছিল– যাঁর গান যুগ যুগ ধরে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে, বাসনা জুগিয়েছে শিল্পী হয়ে ওঠার– সেই মজুমদারের এ সম্মান প্রাপ্য ছিল। কারণ তাদের অজানা নয়, গানের ভুবনে এই শিল্পী ও সংগীত পরিচালক কত কী উপহার দিয়ে গেছেন। তাই জীবদ্দশাতে নন্দিত এই শিল্পীকে শ্রদ্ধা একরকম কর্তব্য বলে মনে হয়েছে। কারণ প্রতিনিয়ত দেখা যায়, সেই শিল্পীদের শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে, যারা আজ আমাদের মাঝে নেই। কেন একজন শিল্পী তাঁর জীবদ্দশাতে শ্রদ্ধা ও সম্মান পাবেন না? এই প্রশ্ন বারবার সামনে উঠে এসেছে।

সেই ভাবনা থেকে তারা কয়েকজন শিল্পী মিলে এই আয়োজনের পরিকল্পনা করেছেন এবং বাপ্পাকে শ্রোতা আসনে বসিয়ে পুরো আয়োজন সফলভাবে শেষ করেছেন। অন্যদিকে দলছুট ব্যান্ডের প্রাণপুরুষ অনুজদের কাছ থেকে পাওয়া এই সম্মানে দারুণভাবে আপ্লুত। বাপ্পা বলেন, “শ্রোতা হিসেবে প্রিয় অনুজ শিল্পীদের কণ্ঠে নিজের গান শুনতে পাওয়া ভীষণ ভালো লাগার। যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে ‘সেলিব্রেটিং বাপ্পা মজুমদার’ সংগীত সন্ধ্যার আয়োজন, তা আমৃত্যু স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ শিল্পীজীবনের এ অন্যরকম এক পাওয়া। এ অনুভূতির কথা বলে বোঝানো যাবে না। সত্যি আমি সৌভাগ্যবান এমন কিছুর সাক্ষী হতে পেরে।”

এ কথাতেই শেষ নয়, অনুষ্ঠান শেষে বাপ্পা প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন, যাদের ভালোবাসা তাঁর পথচলাকে মসৃণ করে রেখেছে, তাদের সারাজীবন নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তার প্রমাণ মিলেছে দুদিন পরেই যখন বাপ্পা তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করেছেন আনকোরা একটি গান। শিরোনাম ‘বুড়ো নাবিকের গল্প’। এর কথা লেখার পাশাপাশি সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন নিজেই। শ্রোতার প্রত্যাশা মেটাতে এমন অভিনব আয়োজন ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পেতে থাকবে, তারও আভাস দিয়েছেন শিল্পী। বলেছেন ঠিক নিজের গানের মতো করে এভাবেই– ‘বুকের পাঁজর ভেঙে স্বপ্ন দিলাম, বারো মাস জুড়ে থাক...।’ 

আরও পড়ুন

×