ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমার শরীর ও মনে এমন ক্ষত আছে, যা কখনো সারবে না: অনুপমা

আমার শরীর ও মনে এমন ক্ষত আছে, যা কখনো সারবে না: অনুপমা
×

অনুপমা পরমেশ্বরন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:১৪

ভারতীয় অভিনেত্রী অনুপমা পরমেশ্বরন তার সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের সময়কার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওই সম্পর্কের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ ও উদ্বেগে ভুগেছেন। এমনকি আতঙ্কের সময় শরীর কাঁপা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খাওয়ার পর বমি, ওজন কমে যাওয়া এবং চোখের গুরুতর সমস্যায় ভুগতে হয়েছে তাকে। একপর্যায়ে চোখে অস্ত্রোপচারও করাতে হয়।

সম্প্রতি ‘আই অ্যাম উইথ ধন্যা ভার্মা’ অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অনুপমা এসব কথা বলেন। তার ভাষ্য, প্রায় দুই বছর ধরে চলা ওই সম্পর্কে মানসিক চাপ ধীরে ধীরে তার শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

অনুপমা বলেন, আগে কখনো এমন সমস্যার মুখোমুখি হননি তিনি। তার ভাষ্য, ‘আমি সুখী শিশু ছিলাম। স্বাভাবিক জীবনযাপন করতাম। এর আগে এমন কিছুই ঘটেনি।’

আতঙ্কে কাঁপত শরীর
অনুপমার দাবি, ওই সময়ে নিয়মিত প্যানিক অ্যাটাক ও তীব্র উদ্বেগে আক্রান্ত হতেন তিনি। তখন নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণও থাকত না।

তিনি বলেন, ‘হঠাৎ আমাদের পা কাঁপতে শুরু করত, হাত কাঁপত, এমনকি আমরা সেটা নিয়ন্ত্রণও করতে পারতাম না।’ এ সময় কয়েকবার জ্ঞান হারানোর মতো ঘটনাও ঘটেছিল বলে জানান তিনি।

মানসিক চাপের প্রভাব পড়েছিল তার খাওয়ার অভ্যাসেও। সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় অনেক কিছু তাকে উদ্বিগ্ন করে তুলত। অনুপমা বলেন, কিছু খাওয়ার পর ওই ব্যক্তির সঙ্গে কোনো কথা বা ঘটনা তাকে উদ্বিগ্ন করে তুললে তিনি বমি করে ফেলতেন।

ওজন কমে যাচ্ছিল, শুটিংয়েও সমস্যা
অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণে তার ওজনও দ্রুত কমে যাচ্ছিল। আশপাশের মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারলেও তখন নিজের ভেতরের পরিস্থিতি কাউকে বোঝাতে পারছিলেন না বলে জানান অনুপমা।

শুটিংয়ের সময়ও এর প্রভাব পড়েছিল। তার ডান চোখ অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁপত। এতে কখনো কখনো শুটিং বন্ধ করে দিতে হতো।

অনুপমা বলেন, ‘আমার ডান চোখে সমস্যা শুরু হতো। চোখ এমনভাবে কাঁপত যে শুটিং বন্ধ করতে হতো। এটা থামানোর কোনো উপায় ছিল না।’

দীর্ঘক্ষণ কান্না, শেষে অস্ত্রোপচার
অনুপমার ভাষ্য, ওই সময় তিনি প্রায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদতেন। এর প্রভাব পড়ে তার চোখের অশ্রুগ্রন্থিতে। একপর্যায়ে অশ্রুগ্রন্থিটি স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ফুলে যায়।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিদিন রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদতাম। এরপর সকালে উঠে শুটিংয়ে যেতে হতো। হঠাৎ আমার অশ্রুগ্রন্থি নিচের দিকে নেমে আসে। সেটি ফুলে গিয়েছিল। আমাকে অস্ত্রোপচার করাতে হয়।’

‘পর্দা’ সিনেমার প্রচারের সময় তার চোখের এক পাশ ফুলে থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন অনুপমা। তিনি জানান, অশ্রুগ্রন্থিটি পুরোপুরি নিচে নেমে গিয়েছিল। পরে অস্ত্রোপচার করে সেটিকে আবার সেলাই করে ঠিক জায়গায় বসাতে হয়।

অনুপমা আরও বলেন, ওই সম্পর্কের প্রভাব শুধু চোখের সমস্যাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তার শরীর ও মনে এমন কিছু ক্ষত তৈরি হয়েছে, যেগুলো হয়তো কখনো পুরোপুরি সেরে উঠবে না।

‘নার্সিসিস্টিক নির্যাতন’ বলছেন অনুপমা
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টেও সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ককে ‘নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজ’ বা নার্সিসিস্টিক নির্যাতন হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন অনুপমা।

তার দাবি, সম্পর্কের শুরুতে অতিরিক্ত ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে তাকে এমনভাবে আবেগগতভাবে জড়িয়ে ফেলা হতো যে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ মনে হতো। পরে আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন আসত এবং সম্পর্কটি হয়ে উঠত অত্যন্ত কঠিন।

অনুপমার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে আবার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া, কান্নাকাটি ও আর এমন হবে না-এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। এরপর আবার আগের মতোই ভালোবাসা ও নির্যাতনের চক্র চলত।

সাবেক সঙ্গী কে, জানাননি
অনুপমা তার বক্তব্যে সাবেক সঙ্গীর নাম প্রকাশ করেননি। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে তার সঙ্গে অভিনেতা ধ্রুব বিক্রমের সম্পর্ক নিয়ে আগে গুঞ্জন ছিল। ২০২৫ সালে মারি সেলভারাজের বাইসন কালামাদান ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার পর তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা বাড়ে।

তবে অনুপমা তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে ধ্রুব বিক্রমের নাম উল্লেখ করেননি। ধ্রুবও এমন কোনো সম্পর্ক বা অনুপমার অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে নিশ্চিত বা মন্তব্য করেননি। সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন

×