বিয়ে, বিচ্ছেদ ও নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিনেত্রীর উপলব্ধি
জিনাত আমান। ছবি: ইন্সটাগ্রাম
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:০৫ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ২০:০৪
ভালোবেসে অভিনেতা মাজহার খানকে বিয়ে করেছিলেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী জিনাত আমান। তাদের দাম্পত্য জীবন স্থায়ী হয়েছিল ১২ বছর। এই সময়ে দাম্পত্য জীবন, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্তের দিকে এখন অনেক বেশি সহানুভূতির সঙ্গে ফিরে তাকান তিনি। ব্যক্তিজীবনের নানা বিষয় নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বলেছেন আশি দশকের আবেদনময়ী এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি ‘বিটুইন আস বাই অনামিকা’ অনুষ্ঠানে ব্যক্তিজীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জিনাত বলেন, ‘অনেক সহানুভূতির সঙ্গে। আমি তখন তরুণী ছিলাম। সেই সময় আমি যা বিশ্বাস করতাম এবং যা চাইতাম, তার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’
অভিনেত্রীর মতে, জীবনের কিছু সিদ্ধান্ত তার জন্য ভালো ছিল, আবার কিছু সিদ্ধান্ত ভালো ছিল না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতীতের দিকে ফিরে তাকানোর সময় আত্মপক্ষ সমর্থন কিংবা নিজেকে দোষারোপ করার প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন তিনি।
বলিউডে পরকীয়ার ঘটনা বেশি ঘটে কি না—এমন প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন জিনাত। তার মতে, বিশ্বাসঘাতকতা শুধু চলচ্চিত্র জগতের সমস্যা নয়, বরং এটি মানুষের একটি দুর্বলতা।

জিনাত বলেন, ‘পরকীয়া শুধু বলিউডের ঘটনা নয়। এটি মানুষের একটি দুর্বলতা। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে যেটা বদলে যায়, তা হলো ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো প্রায়ই প্রকাশ্য বিনোদনে পরিণত হয়।’
অন্যের হৃদয়ভাঙাকে গসিপে পরিণত করে কারও লাভ হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, সময়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের ছবি ও ভিডিও সহজেই ধারণ করে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
নিজের জীবনে পুরুষদের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন জিনাত। তবে নিজের ব্যক্তিগত ইতিহাসকে আলোচনার বিষয় বানাতে চান না তিনি।
১৯৮৫ সালে অভিনেতা মাজহার খানকে বিয়ে করেন জিনাত আমান। এই দম্পতির দুই ছেলে—আজান ও জাহান। বিয়ে করার সিদ্ধান্তের পেছনে নিজের মা হওয়ার ইচ্ছা কাজ করেছিল বলে জানান জিনাত।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন মাজহারকে বিয়ে করি, তখন মা হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। আমি বিশ্বাস করতাম, পরিবার গড়ে তোলার পথ হলো বিয়ে। সেই বিশ্বাস থেকেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তবে পরবর্তী সময়ে সেই সম্পর্ক তাকে ভালোবাসা ও নিজেকে বিসর্জন দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়েছে বলেও জানান অভিনেত্রী।
জিনাত বলেন, ‘আমি থেকে গিয়েছিলাম, কারণ আমি একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমাদের সন্তান ছিল এবং আমি আশা করেছিলাম যে পরিস্থিতি বদলাবে।’
একসময় তিনি উপলব্ধি করেন, অন্য একজনের সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে নিজের জীবন ও মানসিক শান্তি নষ্ট করা সম্ভব নয়। তার কথায়, ‘শেষ পর্যন্ত বুঝেছি, নিজেকে ধ্বংস করে অন্য কাউকে বাঁচানো যায় না।’
মাজহার তার সন্তানদের বাবা হওয়ায় তার সম্পর্কে কোনো অসম্মানজনক মন্তব্য করতে চান না বলেও স্পষ্ট করেছেন জিনাত।

এর আগে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী এই সম্পর্কে নানা সমস্যার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে মাজহারের পরকীয়া এবং প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভরতার বিষয়ও উঠে এসেছিল।
১৯৫১ সালের ১৯ নভেম্বর মুম্বাইতে জন্ম; তার আগের নাম ছিল জিনাত খান। তাঁর বাবা আমানুল্লাহ খান ছিলেন একজন পাঠান মুসলিম, মা বর্ধিনী সিন্ধিয়া ছিলেন মহারাষ্ট্রের হিন্দু। আমানউল্লাহ খান ‘মুঘল-ই-আজম’ (১৯৬০) ও ‘পাকিজা’ (১৯৭২)-এর চিত্রনাট্যকার ছিলেন।
ভারতে ফিরে এসে জিনাত ‘ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ‘প্রথম প্রিন্সেস’ নির্বাচিত হন। সেই বছরের শেষ দিকে তিনি ‘মিস এশিয়া প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল’ টাইটেলও জিতে নেন। প্রথম ভারতীয় নারী হিসেবে তিনি এই খেতাব অর্জন করেন।
১৯৭০ সালে ‘দ্য ইভিল উইদিন’-এ দেব আনন্দের বিপরীতে অভিনয় শুরু করেন, যদিও সিনেমাটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়নি। পরে ১৯৭১ সালে ‘হুলচুল’ ও ‘হাঙ্গামা’তেও অভিনয় করেন, কিন্তু সেগুলোও বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। জিনাতের পরিচিতি আসে ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ’ (১৯৭১)-এর মাধ্যমে। সূত্র: এনডিটিভি
- বিষয় :
- জিনাত আমান
- বলিউড