প্রথম প্রেমে ব্যর্থতার পর ভেঙেছে দুই বিয়ে, কোথায় আছেন সেই অভিনেত্রী
অভিনেত্রী চার্মিলা
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:৫৭ | আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:৫৪
সিনেমায় দীর্ঘ ক্যারিয়ার তার। তামিল পরিবারে জন্ম হলেও মালয়ালম সিনেমাতেই তিনি বেশি পরিচিতি পান। অভিনয়জীবনে সাফল্য এলেও ব্যক্তিগত জীবন বারবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। প্রথম প্রেমের বিচ্ছেদ থেকে শুরু করে দুটি বিয়ে ভেঙে যায়। বলছি, দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী চার্মিলার কথা।
সম্প্রতি জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।
শিশুশিল্পী হিসেবে ১৯৭৯ সালে শিবাজি গণেশন অভিনীত ‘নাল্লাথোরু কুদুম্বম’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন চার্মিলা। ১৯৯১ সালে ‘ওয়ইলাট্টাম’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় তার। একই বছর মালয়ালম সিনেমায় তার যাত্রা শুরু হয়। সিবি মালয়িলের ‘ধানম’ ও ভদ্রনের ‘আঙ্কেল বান’-এ মোহনলালের বিপরীতে অভিনয় ও ভরতনের ‘কেলি’ সিনেমায় জয়রামের বিপরীতেও দেখা যায় তাকে।
সিনেমার সাফল্য তাকে মালয়ালম সিনেমার পরিচিত মুখ করে তোলে। পরবর্তী সময়ে তামিল, তেলেগু ও মালয়ালম—তিন ভাষার সিনেমাতেই কাজ করেছেন চার্মিলা। তবে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। একসময় তিনি নিজেই বলেছিলেন, তার জীবনে প্রেমের প্রভাব ভালো ছিল না।

প্রথম প্রেম ও ব্যর্থতা
১৯৯৪ সালে ‘কাদাল’ সিনেমায় কাজ করার সময় অভিনেতা বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে চার্মিলার পরিচয় হয়। পরে ‘রাজাধানি’ ও ‘কম্বলম’সহ মোট ছয়টি সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেন তারা। চার্মিলার দাবি, একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ভালো লাগা তৈরি হয়।
এক সাক্ষাৎকারে চার্মিলা বলেন, বাবু অ্যান্টনি একসময় যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। তার দাবি, বাবুর ভাইয়ের ভূমিকা এতে ছিল। তবে বাবুকে খারাপ মানুষ মনে করেন না বলেও জানান তিনি।
চার্মিলার ভাষায়, বাবুই ছিলেন তার প্রথম প্রেম। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। সেই সম্পর্ক পরিণতি না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং নিজের কবজি কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান। তবে তার মা তাকে বাঁচান। বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সময়কার কয়েকটি ঘটনাও স্মরণ করেছেন চার্মিলা।
একবার শুটিংয়ের সময় তার কক্ষের গিজার নষ্ট হয়ে গেলে বাবু নিজের ঘর থেকে গরম পানি এনে দেন। বিষয়টি দেখে চার্মিলার বাবা ক্ষুব্ধ হন। আরেকবার বৃষ্টির আশঙ্কায় বাবু তাঁকে গাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তাঁর বাবা তা মেনে নেননি।

চার বছরের মাথায় ভেঙে যায় প্রথম বিয়ে
বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সহকারী পরিচালক কিশোর সত্যর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন চার্মিলা। তখন তিনি মানসিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানান। পরে তাদের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর কিশোর তাকে সিনেমায় কাজ ছেড়ে দিতে বলেছিলেন বলে দাবি করেন চার্মিলা। স্বামীর আপত্তি হবে ভেবে বিক্রমের বিপরীতে ‘সেতু’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
কিশোর পরে শারজায় চলে যান। চার বছর তারা আলাদা থাকার পর দুজনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক সম্মতিতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। চার্মিলার দাবি, কিশোর মূলত তাঁর জনপ্রিয়তার কারণে বিয়ে করেছিলেন।
এরপর বোনের বন্ধু রাজেশ নামে এক সফটওয়্যার প্রকৌশলীকে বিয়ে করেন চার্মিলা। রাজেশ তাঁর চেয়ে আট বছরের ছোট ছিলেন। তবে সেই সংসারও টেকেনি। তাঁদের একটি ছেলে রয়েছে। ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে মতবিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হলেও সন্তানের কারণে রাজেশের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।
নিজের অতীতের দিকে ফিরে চার্মিলা স্বীকার করেছেন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন এবং আগের অভিজ্ঞতা থেকে যথেষ্ট শিক্ষা নিতে পারেননি।

মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রিতে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ
২০২৪ সালে বিচারপতি হেমা কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর মালয়ালম চলচ্চিত্রশিল্পে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান চার্মিলা। তাঁর দাবি, ক্যারিয়ারে ২৮ জনের কাছ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হয়েছেন তিনি। এক প্রযোজকের বিরুদ্ধে তাকে ও তার বন্ধুদের সঙ্গে যৌন হয়রানির চেষ্টা করার অভিযোগও করেন অভিনেত্রী।
পরিচালক হরিহরণের বিরুদ্ধেও ‘সহযোগিতা’ করার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। এসব অভিযোগ অবশ্য সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ছাড়া এখানে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের মতো বর্তমানে নিয়মিত সিনেমায় দেখা যায় না চার্মিলাকে। তবে মাঝেমধ্যে অভিনয়ে ফিরছেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। সূত্র: এনডিটিভি
- বিষয় :
- অভিনেত্রী