ঢাকা রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাক্ষাৎকার

বিশ্বখ্যাত রূপক উপন্যাসের ফাতিমা চরিত্র রূপদান ছিল আনন্দের

বিশ্বখ্যাত রূপক উপন্যাসের ফাতিমা চরিত্র রূপদান ছিল আনন্দের
×

সায়রা আক্তার জাহান। ছবি: শাদাব শাহরোখ হাই

এমদাদুল হক মিল্টন

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:৩৮ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:০০

সায়রা আক্তার জাহান। মডেলিং, ছোটপর্দা ও সিনেমায় কাজের পর এবার মঞ্চে অভিষেক হয়েছে তাঁর। অ্যাক্টোমেনিয়ার নতুন প্রযোজনা ‘অ্যালকেমিস্ট’-এ মরুকন্যা ফাতিমা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সম্প্রতি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে এর মঞ্চায়ন হয়েছে। মঞ্চে অভিষেক, সিনেমা ও সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে কথা বলেছেন এ অভিনেত্রী।  

প্রথমবার মঞ্চে উঠেছেন। কেমন লাগছে
এটি আমার জন্য একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা । বিশ্বখ্যাত রূপক উপন্যাসের ফাতিমা চরিত্রটি মঞ্চে রূপদান করা ছিল আনন্দের। প্রথমবার মঞ্চে ওঠার আগে নার্ভাস ছিলাম। কারণ মঞ্চে কোনো কাট বা রিটেকের সুযোগ থাকে না। দর্শকের সামনে সরাসরি অভিনয় করতে হয়। মঞ্চে ওঠার পর অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করেছে। মনে হয়েছে, এতদিন অভিনয়ের যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তার বাইরে নতুন কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছি। নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি, অ্যালকেমিস্টের মতো প্রযোজনা দিয়ে মঞ্চে অভিষেক হয়েছে। এ কারণে নিদের্শক ও  দলের ফাউন্ডার তালহা জুবায়েরের প্রতি কৃতজ্ঞ।  

এখানে আপনি মরুকন্যা ‘ফাতিমা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সায়রা থেকে ফাতিমা হওয়ার জার্নি কেমন ছিল?
পাওলো কোয়েলহোর বিশ্বখ্যাত উপন্যাস দি অ্যালকেমিস্টের দর্শন, রূপক ও রহস্যময়তার কথা সাহিত্যপ্রেমীদের অজানা নয়। স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলা এবং হৃদয়ের ভাষাকে অনুধাবন করার এই চিরন্তন গল্পকে জীবন্ত নাট্যরূপে মঞ্চে আসা কঠিন ছিল। আর ফাতিমা চরিত্রটিও চ্যালেঞ্জিং। ফাতিমা শুধু একজন প্রেমিকা নয়, তার নিজের একটা দর্শন আছে। সে সাহসী নারী। সান্টিয়াগোকে সে ভালোবাসে। সান্টিয়াগোর পুরো জার্নিতে ফাতিমার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সান্টিয়াগোর স্বপ্নকে সে আটকে রাখে না, বরং নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেয়। চরিত্রটির ভেতরের নীরবতা, অপেক্ষা ও শক্তিটা বোঝার চেষ্টা করেছি। কয়েক মাসের রিহার্সাল ও চরিত্র বিশ্লেষণ আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। নিজেও চরিত্রটির সঙ্গে আমি একাত্ম হতে পেরেছি।

মঞ্চে কি নিয়মিত হবেন?
ভালো গল্প ও চরিত্র আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। মঞ্চ আমাকে অভিনয়ের অন্য একটি দিকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে ভালো কোনো প্রযোজনা পেলে কাজ করতে চাই।

ছোটপর্দা, মডেলিং ও সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত। মঞ্চে অভিনয়ের কথা কেন ভাবলেন?
শোবিজে নানা মাধ্যমে কাজ করলেও মঞ্চে অভিনয় করার সাহস পাইনি। এখানে অভিনয় করতে গেলে তৈরি হতে হয়। যখন ভাবলাম মঞ্চে অভিনয় করব তখন ঐতিহাসিক গল্প খুঁজছিলাম। পেয়ে গেলাম মনের মতো গল্প। মঞ্চের অভিনয় অনেক বেশি জীবন্ত এবং চ্যালেঞ্জিং। তাই নতুন অভিজ্ঞতার জন্য ‘অ্যালকেমিস্ট’-এ কাজের প্রস্তাব গ্রহণ করেছি।

মঞ্চে অভিনয়ের জন্য কেমন সাড়া পেলেন?
বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। সব কয়টি শোতে দাঁড়ানোর মতো জায়গা ছিল না। এ রকম একটি কাজে যুক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত। বিশেষ করে যারা নাটকটি দেখেছেন, তারা ফাতিমা চরিত্রটি নিয়ে কথা বলেছেন। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, দর্শক আমাকে শুধু সায়রা হিসেবে নয়, ফাতিমা হিসেবেও গ্রহণ করেছেন।

বিজ্ঞাপনে কাজের কী খবর?
বিজ্ঞাপনে নিয়মিত কাজ করছি। ভালো কোনো ব্র্যান্ড ও কনসেপ্ট পেলে কাজ করতে ভালো লাগে। সামনে আরও কিছু কাজের কথা চলছে। সময় ও ব্যাটে-বলে মিললে সেগুলো করা হবে।

বাণিজ্যিক বা এফডিসি ধারার সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছা জাগে না?
অবশ্যই ইচ্ছা আছে। সিনেমা আমার কাছে অনেক বড় একটি জায়গা। তবে শুধু বাণিজ্যিক বা নির্দিষ্ট কোনো ধারার মধ্যে নিজেকে আটকে রাখতে চাই না। গল্প ও চরিত্র ভালো হলে যে ধরনের সিনেমা হোক, কাজ করতে আগ্রহী।

ওপেন স্পেস থিয়েটারের সঙ্গে ছিলেন। অ্যাক্টোমেনিয়ার সঙ্গে কাজ কীভাবে হলো?
অ্যাক্টোমেনিয়ার সঙ্গে কাজের সুযোগ তালহা জুবায়েরের মাধ্যমে। তাঁর সঙ্গে কথা বলার পর ‘অ্যালকেমিস্ট’ ও ফাতিমা চরিত্রটি সম্পর্কে জানতে পারি। চরিত্রটি আমার কাছে খুব আকর্ষণীয় মনে হয়েছিল। এরপর ওয়ার্কশপ ও রিহার্সালের মধ্য দিয়ে কাজটি এগিয়েছে।

‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমায় আইনজীবীর স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
সত্য ঘটনা নিয়ে নির্মিত এ সিনেমার চরিত্রটি আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ, গল্পের বাস্তবতা ও চরিত্রের আবেগ—দুটোকেই সমানভাবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলে ধরতে হয়েছে। সে জন্য চরিত্রটি বোঝার পাশাপাশি এর মানসিক দিকগুলো নিয়েও প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। পুরো কাজটি আমার জন্য বেশ ভিন্নধর্মী একটি অভিজ্ঞতা ছিল। সিনেমাটি নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী, আশা করছি দর্শকদেরও ভালো লাগবে। 

কাজের সমালোচনাকে কীভাবে দেখেন?
একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য সমালোচনা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালো কাজ করতে হলে নিজের ভুলগুলো জানতে হবে। গঠনমূলক সমালোচনা আমাকে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা দেয়। নেতিবাচক মন্তব্যে ভেঙে পড়ি না। 
 
 

আরও পড়ুন

×