ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সাক্ষাৎকার

 

প্লেব্যাকের স্বপ্ন শুরু থেকে ছিল: মৌটুসী খান
×
×

মৌটুসী খান। ছবি: ফেসবুক

রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:৫৪ | আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:৫৮

মৌটুসী খান। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে স্বল্প সময়ে তিনি মনোযোগ কেড়ে নিয়েছেন অসংখ্য শ্রোতার। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁর অনিন্দ্য কণ্ঠ ও অনবদ্য গায়কি সবার কাছে তুলে ধরেছেন হাবিব ওয়াহিদ, সাজিদ সরকার, অটামনাল মুনের মতো নন্দিত সংগীত পরিচালকরা। গানের ভুবনে পথচলা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে তরুণ এই শিল্পীর সঙ্গে কথা বলেছেন রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

ছোট একটা বিরতির পর নতুন গান প্রকাশ করলেন। শুরু থেকে কী পরিকল্পনা ছিল– ‘হয়নি বলা ভালোবাসি’ গানটি মেলোডি সুরে গাওয়ার?
আমি এখন পর্যন্ত যত গান গেয়েছি, সেগুলোর সুর কেমন হবে তা সংগীত পরিচালকরা ঠিক করে দিয়েছেন। আমার কণ্ঠ ও গায়কি যা মানানসই হবে, সেভাবেই সুরগুলো করা হয়েছে। ‘হয়নি বলা ভালোবাসি’ গানটিও আড্ডার ছলে অটামনাল মুন তৈরি করে ফেলেছেন। কিছুদিন আগে তাঁর স্টুডিওতে আড্ডা হচ্ছিল। তখন গিটারে সুর তুলতে তুলতে মুন ভাইয়া সেই সুরের সঙ্গে গাইতে বললেন। সুরের সঙ্গে একটি-দুটি করে শব্দ যোগ করতে করতে লেখা হয়ে গেল পুরো গান। আমি সেই কথা-সুরের সঙ্গে গাইতে থাকলাম। এভাবে গানের ড্রাফট তৈরি করে ফেললেন তিনি। এরপর হলো ফাইনাল রেকর্ডিং।  

‘অন্তর্যামী’ গানের পর আবার অটামনাল মুনের সুরে গাইলেন। ‘হয়নি বলা ভালোবাসি’ কি আগের গানগুলো থেকে আলাদা হয়ে উঠেছে? 
‘হয়নি বলা ভালোবাসি’ মেলোডি সুরের একটি মিষ্টি প্রেমের গান। এর পরও এর সুরে হালকা বিষাদের ছোঁয়া আছে। এটা ছিল সুরকার মুন ভাইয়ের এক ধরনের এক্সপেরিমেন্ট, যাতে করে আগের গানগুলো থেকে এই গানটি আলাদা হয়ে ওঠে। এখন ‘অন্তর্যামী’ থেকে ‘হয়নি বলা ভালোবাসি’ গানের সুর কতটা ভিন্ন হয়ে উঠেছে– তার বিচার করবেন শ্রোতা। এ কথা সত্যি যে, প্রত্যেক শিল্পীর কণ্ঠ ও গায়কি ভিন্ন হলেও গানে তাদের নিজস্ব একটা ছাপ থেকে যায়। তেমনি সংগীত পরিচালকদের সৃষ্টিগুলো একেকটি একেক রকম হলেও সেখানে তাদের কাছে ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে; এর মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে যার যার পরিচিতি। তাই আমরা যত রকম আয়োজনই করি না কেন, সেখানে নিজস্বতা আড়াল করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। 

মৌটুসী খান। ছবি: ফেসবুক

প্রায় এক যুগ আগে গানের ভুবনে পা রেখেছেন। তবু সমসাময়িক শিল্পীদের তুলনায় আপনার গানের সংখ্যা খুবই কম। এর কারণ কী?
আমি সব সময় চেয়েছি এমন কিছু গান গাইতে, যা আমার শিল্পীসত্তাকে খুশি করার পাশাপাশি শ্রোতার কাছে সময়োপযোগী মনে হবে। তাই কাঙ্ক্ষিত কাজের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। এরপর যতগুলো গান গাওয়ার সুযোগ হয়েছে, সেগুলো খুব একটা প্রচার করা হয়ে ওঠেনি। অন্যদিকে সংগীতাঙ্গনের মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল সীমিত। এ ছাড়া পড়াশোনার জন্য বড় একটা বিরতি নিতে হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে খুব বেশি গান গাওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে এ নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই। কারণ আমি কখনোই তারকাখ্যাতির মোহে গান করিনি। 

সঙ্গীতাঙ্গনের মানুষদের সঙ্গে খুব একটা যোগাযোগ ছিল না বলেছেন। তাহলে হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে গান গাওয়ার সুযোগ পেলেন কীভাবে?
অনেকটা নাটকীয়ভাবে হাবিবের সহশিল্পী হয়ে ওঠা। হাবিব ভাইয়ের ভক্ত হলেও তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। খুব ইচ্ছা ছিল তাঁর গান কাভার করার। সে কারণে প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। তখন আমার কাছের একজন বলেছিলেন, অনুমতি ছাড়া হাবিব ওয়াহিদের গান কাভার করলে ঝামেলায় পড়তে হবে। কারণ তিনি এসব বিষয়ে নিয়মনীতি মেনে চলেন। তাই গান কাভার করার অনুমতি চেয়ে ফেসবুকে হাবিব ভাইকে নক করেছিলাম। একদিন হঠাৎ দেখি, তিনি সাড়া দিয়েছেন। বলেছেন কণ্ঠ রেকর্ড করে পাঠাতে। আমিও দেরি না করে কণ্ঠ রেকর্ড করে পাঠিয়ে দিই। এরপর তিনি জানান আমার কণ্ঠ ভালো লেগেছে, আমি তাঁর গান কাভার করতে পারি। এরপর আবার একদিন ডাকেন তিনি স্টুডিওতে আমার কণ্ঠের টোন কেমন আসে, তা পরীক্ষা করার জন্য। কণ্ঠ রেকর্ড করার পর তা শুনে হাবিব ভাইয়ের ভালো লেগে যায়। তখন তিনি প্রস্তাব দেন তাঁর সঙ্গে দ্বৈত গান গাওয়ার। প্রথম গানটি ঠিক সেভাবে গেয়েছি, যেভাবে তিনি পরিকল্পনা করেছিলেন। যার সুবাদে তাঁর সুর-সংগীতে আরও দুটি দ্বৈত গান ও একটি বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল গাওয়ার সুযোগ আসে। এভাবে পরপর প্রকাশ পায় আমাদের গাওয়া ‘তোমারই ছোঁয়াতে’, ‘কোথা আছো প্রিয়’, ‘তুই ছাড়া একা’ গানগুলো, যা অনেকে পছন্দ করেছেন।

সাজিদ সরকার, হাবিব ওয়াহিদ, অটামনাল মুনের মতো নন্দিত সুরকারদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা থাকার পরও কি মনে হয় না, গানের ভুবনে আপনার ব্যস্ততা আরও বাড়ানো উচিত?
আমি ভাগ্যবান যে, সাজিদ সরকার, হাবিব ওয়াহিদ, অটামনাল মুনের মতো নন্দিত সংগীতায়োজকদের সুরে এবং বাপ্পা মজুমদার, তাহসান, মাহতিম সাকিব, তানযীবের মতো তারকা শিল্পীদের সঙ্গে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে। তারপর কেন জানি না, গানের ভুবনে তুমুল ব্যস্ত হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা জাগেনি। তাই এ নিয়ে খুব একটা ভাবনাও ছিল না। তা ছাড়া আমার ইউটিউব চ্যানেল, ইনস্টাগ্রাম– কোনো কিছুই ছিল না যেখানে নিজের কাজগুলো সম্পর্কে সবাইকে জানান দেওয়া যায়। এই সময়ে এসে মনে হয়েছে, শ্রোতার প্রত্যাশা পূরণে আরও কিছু করা উচিত। সেজন্য নিজের ইউটিউব চ্যানেল খুলেছি। যেখানে ভালো ও ব্যতিক্রম কিছু গান প্রকাশ করার ইচ্ছা আছে। 

মৌটুসী খান। ছবি: ফেসবুক

বেশ কিছু নাটকে প্লেব্যাক করেছেন। সিনেমাতে গাওয়ার ইচ্ছে আছে?
একসময় নাটকের জন্য ভালো ভালো গান তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখনকার নাটকের গান ততটা ভালো হচ্ছে না। এ নিয়ে অনেকের সঙ্গে দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু আমার কাছে এটাই মনে হয়। এ জন্য নাটকে আর প্লেব্যাক করার ইচ্ছে নেই। তবে সিনেমায় প্লেব্যাকের স্বপ্ন শুরু থেকে ছিল। তাই যখন সিনেমার ভালো কোনো গান গাওয়ার সুযোগ আসবে, তখন কোনোভাবেই পিছপা হবো না।

আরও পড়ুন

×