নোয়াখালীতে মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে গুলি
মিজানুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:৩৬ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:৪০
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (৩৪) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। গুলিবিদ্ধ মিজান স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বলে জানিয়েছেন উপজেলা জামায়াতের আমির। তবে পুলিশের দাবি, তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই।
শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জিনু মার্কেটের মিজান স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ মিজানকে প্রথমে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
মিজান বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জয়নারায়ণপুর গ্রামের আহাম্মদ উল্যার নতুন বাড়ির আহাম্মদ উল্যাহর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে নিজের মুদি দোকানে বেচাকেনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মিজান। এ সময় মুখোশ পরা ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দোকানে ঢোকে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার পেটের বাঁ পাশে, বাঁ হাতে ও বাঁ পায়ের উরুতে গুলি লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবু জায়েদ বলেন, মিজান আমাদের পরিচিত এবং জামায়াতের সমর্থক। ২০২০ সালেও এই ব্যবসায়ীর ওপর নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছিলেন। তখন তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এবার মুখোশ পরে তাঁর দোকানে ঢুকে গুলি করা হয়েছে। মুখোশ পরা থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। হামলার সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন জড়িত থাকতে পারেন।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শনিবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ছররা গুলিতে আহত এক যুবককে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাঁর বাঁ হাত ও পেটে গুলির আঘাত ছিল।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, ছররা গুলিতে ওই ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুলিবিদ্ধ ওই যুবকের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তাকে কখনো রাজনৈতিক মিছিল বা সমাবেশেও দেখা যায়নি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।