উড়াল দেওয়ার ৮ বছর, গানে গানে ফিরতে চেয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু
আইয়ুব বাচ্চু
আনন্দ প্রতিদিন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:০৬ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:১৭
ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে যখন অক্টোবরের ১৮ তারিখটি আসে, তখনই কেমন যেন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে অগণিত মানুষের মন। এই বিশেষ দিনটি এলেই সংগীতপ্রেমী ও অনুরাগীদের হৃদয়ে জমে ওঠে দীর্ঘশ্বাসের পাহাড়। কারণ, ২০১৮ সালের এই দিনে না ফেরার দেশে চলে গেছেন বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের অবিসংবাদিত সম্রাট, কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু।
দেখতে দেখতে তাঁর প্রয়াণের আটটি বছর পার হতে চলেছে, অথচ তাঁর শূন্যতা এতটুকু ম্লান হয়নি। দিন যত গড়াচ্ছে, তাঁর না থাকার কষ্টটা যেন আরও বেশি করে অনুভূত হচ্ছে।
‘শিল্পীর মৃত্যু নেই’–এটি আমরা মুখে বললেও প্রিয় মানুষটির কণ্ঠ আর মঞ্চে গিটারের জাদুকরী সেই সুরের অনুপস্থিতি কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। আইয়ুব বাচ্চু শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না; তিনি ছিলেন তারুণ্যের দ্রোহ, প্রেম, অভিমান আর অনুভূতির অনন্য এক বাদ্যযন্ত্র।
নিজের একটি গানে তিনি ভবিষ্যতের এক অনুরাগীর আকুলতা আগে থেকেই বেঁধে রেখেছিলেন সুরের জাদুতে–‘আমি গানে গানে আসব ফিরে, কানে কানে/ দোলাব হৃদয় তোমার, সময় অসময়/ ক্ষণে ক্ষণে প্রতিক্ষণে...।’
কথাগুলো আজ যেন নির্মম এক বাস্তবে রূপ নিয়েছে। তিনি সশরীরে নেই, কিন্তু বাংলার প্রতিটি কনসার্টে কিংবা রুপালি গিটারের টুংটাং শব্দে তিনি ঠিকই ফিরে আসেন বারবার।
তাঁর অসামান্য অবদান ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আজ এক বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন, শিল্পী বন্ধু মহল এবং চট্টগ্রাম মিউজিশিয়ানস ক্লাব, ঢাকার যৌথ উদ্যোগেও থাকছে আয়োজন। দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রক আইকনের স্মরণে নানা আয়োজনের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করছেন তাঁর ভক্তরা।
এদিকে কিংবদন্তির সৃষ্টিগুলো বাঁচিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শ সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন বেশ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি সুসজ্জিত স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ, আইয়ুব বাচ্চুর স্মরণে বিশেষ কনসার্ট এবং গুণী এই শিল্পীর অপ্রকাশিত দুই শতাধিক গান খুঁজে বের করে তা অবমুক্ত করার পরিকল্পনা।
ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ জানান, ভক্তদের ভালোবাসা আর আইয়ুব বাচ্চুর রেখে যাওয়া সুরের ঋণ শোধ করার মাঝেই তাদের কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য নিহিত। একই স্বপ্নের কথা প্রকাশ করেছেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং আইয়ুব বাচ্চুর সহধর্মিণী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা ও তাদের দুই সন্তান ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব ও আহনাফ তাওয়ার আইয়ুব।
শ্রোতার হৃদয়ের মণিকোঠায় আজও তীব্রভাবে প্রতিধ্বনিত হয় ‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে’ কিংবা ‘চলো বদলে যাই’-এর সুর। এ ছাড়া ‘রুপালি গিটার’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘মাধবী’, ‘বাংলাদেশ’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’, কিংবা ‘জন্মহীন নক্ষত্র’-এর মতো গানগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিচ্ছে এক অনন্য ভালো লাগা।
শুধু ব্যান্ডের গানই নয়, একক ও মিশ্র অ্যালবাম কিংবা চলচ্চিত্রের প্লে-ব্যাকে গাওয়া ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘উড়াল দেব আকাশে’, ‘এক আকাশ তারা’, ‘মেয়ে’, ‘আকাশ কাঁদে বাতাস কাঁদে’, ‘তারা ভরা’র মতো কালজয়ী গানগুলো তাঁর মাথায় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরিয়েছে। আইয়ুব বাচ্চু আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর রুপালি গিটার আর সুরের মূর্ছনা রয়ে গেছে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে।
- বিষয় :
- আইয়ুব বাচ্চু