ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

সন্তানধারণে শারীরিক জটিলতাসহ কঠিন সময়ের কথা জানালেন অভিনেত্রী

সন্তানধারণে শারীরিক জটিলতাসহ কঠিন সময়ের কথা জানালেন অভিনেত্রী
×
×

শ্বেতা ত্রিপাঠী। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:২০ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৩০

মাতৃত্ব নিয়ে নারীদের ওপর সামাজিক চাপ নতুন কিছু নয়। বিয়ের পর কখন সন্তান নেবেন, কবে মা হবেন—এমন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় অনেককে। তবে মা হওয়ার সিদ্ধান্ত একজন নারীর একান্ত ব্যক্তিগত। সেই সিদ্ধান্ত নিজের হাতে রাখতে চেয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী শ্বেতা ত্রিপাঠীও। কিন্তু চিকিৎসকের কাছ থেকে নিজের সন্তানধারণের ক্ষমতা কম থাকার কথা জানার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।

সম্প্রতি সোহা আলী খানের পডকাস্টে মাতৃত্ব, সন্তানধারণের শারীরিক জটিলতা এবং পরিবার থেকে পাওয়া সমর্থন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

শ্বেতা জানান, একটা সময় পর্যন্ত সন্তান নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে মাতৃত্ব নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর একজন মায়ের ওপর যে বিপুল দায়িত্ব, ত্যাগ এবং শারীরিক-মানসিক পরিশ্রমের ভার পড়ে, তা কাছ থেকে দেখার পর বিষয়টি নতুনভাবে উপলব্ধি করেছেন তিনি।

শ্বেতা ত্রিপাঠী। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

মাতৃত্বের কঠিন দিকগুলো তুলে ধরে শ্বেতা বলেন, ‘আমার মনে হয়, মা হওয়ার পর প্রত্যেক নারী যেন অতিমানবী হয়ে ওঠেন। আমার বন্ধুদের, এমনকি নিজের ননদকেও খুব কাছ থেকে দেখেছি। মা হওয়া মোটেই সহজ নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগের প্রজন্মের নারীরা কীভাবে সব সামলাতেন, জানি না। এখন কাছ থেকে দেখছি, আর মনে হচ্ছে, এই দিকগুলো নিয়ে তো কেউ আমাদের আগে কিছু বলেননি। মাতৃত্বের সঙ্গে আরও অনেক দায়িত্ব জড়িয়ে থাকে। সব মায়েদের কুর্নিশ জানাই। এর জন্য প্রচুর সাহস, শক্তি এবং ত্যাগের প্রয়োজন।’

এরপর নিজের সন্তানধারণের শারীরিক জটিলতার কথা জানান অভিনেত্রী। চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রজননক্ষমতা কম থাকার বিষয়টি জানার পর ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলেন তিনি।

শ্বেতার কথায়, ‘আমার খুব খারাপ লেগেছিল। কারণ, আমি চেয়েছিলাম সিদ্ধান্তটা আমার হাতে থাকুক। অন্য কেউ এসে আমাকে বলুক, তুমি মা হতে পারবে না, সেটা চাইনি। এমনকি সেই সময়ে আমি নিজেও জানতাম না, আদৌ সন্তান চাই কি না।’

শ্বেতা ত্রিপাঠী। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

বিয়ে কিংবা সন্তান নেওয়া নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ ছিল কি না, পডকাস্টে জানতে চান সোহা। উত্তরে শ্বেতা জানান, দুই পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা তাকে যথেষ্ট সমর্থন করেছেন। তাদের নাতি-নাতনির মুখ দেখার ইচ্ছা থাকলেও কখনো সন্তান নেওয়ার জন্য চাপ দেননি তারা।

৩৩ বছর বয়সে বিয়ে করেন শ্বেতা। তবে বিয়ের আগে থেকে পরিচিতজনদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হতো তাকে। অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘তখন সবাই জিজ্ঞাসা করতেন, কবে বিয়ে করছি। বাবা-মা নয়, আশপাশের মানুষের এই প্রশ্নগুলোই আমাকে বিরক্ত করত।’

সন্তান নেওয়া নিয়েও যে নারীদের অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়, সেই অভিজ্ঞতাও জানিয়েছেন শ্বেতা। তার ননদের সন্তান হওয়ার পর বাড়ির পরিচারিকারাও তাকে প্রশ্ন করতে শুরু করেন, ‘এবার আপনার পালা, সুখবর কবে দিচ্ছেন?’

এমন প্রশ্ন শুনে ননদের দিকে তাকাতেন শ্বেতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসতেন তার শাশুড়ি। সন্তান নেওয়ার বিষয়ে পরিবারের কাছ থেকে এমন সমর্থন পাওয়াকে নিজের সৌভাগ্য বলেই মনে করেন অভিনেত্রী। তাঁর এই অভিজ্ঞতা আবারও সামনে এনেছে নারীর মাতৃত্বের সিদ্ধান্তকে ঘিরে সামাজিক প্রত্যাশা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্ন।

আরও পড়ুন

×