সিনেমা নির্মাণ করা শিল্পী সমিতির কাজ না: জায়েদ খান
চিত্রনায়ক জায়েদ খান ছবি: অবন রেহমান
অনিন্দ্য মামুন
প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৬:১৩ | আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৬:৪৩
জায়েদ খান। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তিনি। দ্বিতীয় বারের মতো সাধারণ সম্পদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দুই বছর পর ও দ্বিতীয় বারের নির্বাচিত হওয়ার আগে তারনামে বিভিন্ন অনিয়ম, অভিযোগের কথা উঠে এফডিসিতে। সেইসব অনিয়ম আর অভিযোগ বিষয়েই কথা হয় তার সঙ্গে। সমকালের সঙ্গে খোলামেলা আলাপে সেইসব বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।
যাদের কাজ নেই তারাই সমিতি নিয়ে ব্যস্ততা দেখাচ্ছেন। আদতে এফডিসিতে থাকা সমিতিগুলো সিনেমার বিষয়ে কিছুই করছেনা বলে অভিযোগ আছে?
সিনেমা তৈরিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা করছি না আমরা।আর সিনেমা তৈরি করার দ্বায়িত্ব কিন্তু সমিতির না। তবে সমিতি চর্চা না হলে এবং শিল্পীদের আড্ডা না থাকলে ইন্ডাস্ট্রি থাকত না । বাংলাদেশের কোন ছবি তৈরীতে আমরা বাধা দিয়েছি কিংবা আমাদের কারনে কোনো ঝামেলা হয়েছে এমন কথা তো কেউ বলতে পারবেনা। তা ছাড়া সমিতির জন্য কোনো ছবি মুক্তি পাইনি এই রকম ইতিহাস কিন্তু নাই। আমাদের শিল্পী সমিতির লক্ষ্যে হচ্ছে শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষা করা। এমন তো হচ্ছে না যে ছবি বানাতে প্রযোজক আসছে আর শিল্পী সমিতি তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে।
অনেকেই সমিতিতে অনিয়ম হচ্ছে বলে কথা তুলছেন। সে বিষয়ে আপনি কী বলবেন?
আমার জনামতে কোন অনিয়ম করিনি। শিল্পী সমিতির অভ্যন্তরীন অবয়বের পরিবর্তন দরকার সেটা করেছি। অনেক সিনিয়র শিল্পী এখন সমিতিতে আসেন। যৌথ প্রযোজিত ছবি নিয়ে অনিয়ম ও সাফটা চুক্তির বিষয়ে প্রতিবাদ করেছি। শিল্পী সমিতিতে অনেক মাছ বিক্রেতা সমিতির সদস্য ছিলেন তাদের বাদ করেছি । এটা যদি অনিয়ম হয় তাহলে আমার কিছু বলার নেই।
সিনেমার নায়ক হিসেবে আপনি সফল নন। তাই সংগঠন নিয়ে বেশি মাতামাতি করছেন। আপনার বিষয়ে এমন মন্তব্য অনেকের?
একটা কথা জোর গলায় বলবো আমি। সেটা হচ্ছে, ভালো নায়ক হলেই যে ভালো সংগঠক হওয়া যায় এমন কোনো নিয়ম নেই। আর ছবি চলা বা না চলা এটা দর্শকদের উপর নির্ভর করে। আমি সমিতির নেতা হওয়ার পর শিল্পী সমিতিকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে গিয়েছি এটার কারনে যদি কেউ ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাক নিয়ে কিছু বলে তার বিপরীতে আমার কিইবা বলার থাকে।
আপনি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এফডিসিতে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যাতায়াত অনেক বেশি দেখা যায়। পুলিশের বড় দায়িত্বশীলদের এনে পাওয়ার প্রাকটিস করছেন এমন অভিযোগও উঠেছে?
শুরুতেই বলি এটা কীভাবে পাওয়ার প্রাক্টিস হয়? পুলিশের সম্মানিত অনেকেই শিল্পী সমিতিতে এসেছেন। কিন্তু তার কারনে কেউ যে ভুক্তভুগি হয়েছেন এটা বলতে পারবে না। এমন একজনকেও খুঁজে পাবেন আমার দ্বারা হয়রানি হয়েছে বা কারও ক্ষতি করেছি । যদি কেউ বলতে পারে তাহলে যে শাস্তি দেওয়া হবে আমি মেনে নেবো। পুলিশের উর্ধ্বতন অনেক অফিসার শিল্পী সমিতিতে এসে চা খেয়েছেন, ঘুরে ঘুরে সব দেখেছেন। এটা নিশ্চই পাওয়ার প্রাকটিস না। এটা হলো সমিতির সাথে সব পেশার মানুষকে একাত্ব করা।
শিল্পী সমিতির নির্বাচনের আগে শিল্পীদের আবাসনের বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেটা কতদুর এগিয়েছে?
আমরা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছি তার এখনও একমাস হয়নি। আবাসনের বিষয়টা নিয়ে আমরা চেষ্টা করব, ফান্ডের একটা ব্যবস্থা করব। ইতিমধ্যেই আমরা দেখা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। গনপূর্ত এবং গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় লাগবে। তাছাড়া এটা সম্ভব না। তাদের বলিনি যে আমি তাদের জমি দিয়ে দিব।তবে আবাসনের জন্য চেষ্টা করছি আমরা। সেটাও কিন্তু সব শিল্পীর জন্য না। যে শিল্পীরা আর্থিকভাবে অসচ্ছল তাদের জন্য।
প্রায় সময় সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে সমিতির হয়ে মিটিং করতে দেখা যায় আপনাকে। সেই মিটিংয়ে কী সিনেমার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়?
সমিতির কাজই হলো বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা। মাননীয় তথ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছি সিনেমায় ই-টিকেটিং এর ব্যবস্থা করার জন্য। হল বাড়ানোর জন্য, হল থেকে ট্যাক্স কমানো যায় কিনা এই সব বিষয়ে আলোচনা করেছি। ৩-৪% সুদে হল মালিকদের ঋন দেওয়ার জন্য যেন তারা হল গুলোকে সংস্কার করতে পারেন। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য কী কী করতে হবে সেইসব। কিন্তু অনেকেই আবার মন্ত্রীদের গিযে বলেন, হল বাঁচাতে হবে বিদেশি ছবি আনতে হবে।
যারা বিদেশী ছবি আনতে চায় তারা কারা?
হল মালিকেরা। তারা শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখছেন। অন্যদিকে যে আমাদের সংস্কৃতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেদিকে তাদের খেয়াল নেই।
এক বছর পর নতুন ছবি করছেন বলে ঘোষণা দিলেন। এতোদিন তাহলে ছবি করা থেকে বিরত ছিলেন কেনো?
বলতে পারেন সমিতির কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম বলেই দূরে ছিলাম। তবে এ জন্য আমিই দায়ি। আমার কাছে যে সব প্রস্তাব এসেছিলো সেগুলো করতে পারিনি। কারণ তখন শিল্পী সমিতিকে দাড় করানোর একটা স্বপ্ন ছিলো। যৌথ প্রযোজিত ছবির ঝামেলা আন্দোলন করেছি । তাই এফ আই মানিকের মতো বড় পরিচালকের ছবি ‘এভাবেই ভালোবাসা হয়’ দিয়ে ফিরলাম। রবিউল ইসলাম রাজের আরও একটি ছবিতে ইতোমধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। নায়ক রুবেল ভাই একটা ছবি করছেন। সেটাও থাকছি আমি।
বলছেন এ বছর সিনেমার প্রতি মনোযোগি হবেন। কী ধরনের সিনেমার প্রতি?
অ্যাকশন ধারার ছবি করার প্রতিই বেশি আগ্রহ আমার। এ জন্য জিম করছি নিয়মিত।এক ছবিতে অনেক তারকা আর্টিস্ট থাকবে। এমন ছবিই এ বছর করবো।