ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

জাতীয় ক্রিকেট দল ছেড়ে মাইলসের হাল ধরেছিলাম: হামিন আহমেদ

জাতীয় ক্রিকেট দল ছেড়ে মাইলসের হাল ধরেছিলাম: হামিন আহমেদ
×

হামিন আহমেদ

অনিন্দ্য মামুন

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৮:২১ | আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:১৮

ব্যান্ডশিল্পী হামিন আহমেদ। মাইলস ব্যান্ডের হাত ধরেই রক মিউজিকে যাত্রা তার। গিটারিস্ট এবং ভোকালিস্টের পাশাপাশি গীতিকার ও সুরকার হিসেবেও পরিচিত হামিন। গানের পাশাপাশি খেলার মাঠেও ছিল তার পদচারণা। একটা সময় বিভিন্ন ক্লাব থেকে শুরু করে জাতীয় দলের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন এ শিল্পী। তবে সঙ্গীতের নেশা পেয়ে বসেছে পরিবারের থেকেই। হামিন আহমেদের মা সঙ্গীত শিল্পী ফিরোজা বেগম এবং বাবা সুরকার কমল দাশগুপ্ত। তার ভাই শাফিন আহমেদ; যিনি মাইলস ব্যান্ডের দীর্ঘদিনের সদস্য। মা ফিরোজা বেগমের হাত ধরে গানের সঙ্গে পথচলা।

এ প্রসঙ্গে হামিন আহমেদ বলেন, ‘আমার গানে হাতেখড়ি বাবা-মার কাছে। ১৪ বছর বয়সে মা আমাকে গিটার কিনে দিয়েছিলেন। তখন মা ছিলেন আমার গানের সবসময়ের শ্রোতা এবং সমালোচক।’ মা-বাবার অনুপ্রেরণা এবং নিজের চেষ্টায় আজ প্রতিষ্ঠিত হামিন আহমেদ। মাইলস ব্যান্ডের ৪০ বছরের বেশি সময়ের যাত্রায় তার হয়েছে নানা অভিজ্ঞতা। তা নিয়ে আজও ব্যান্ডের সঙ্গেই পথ চলছেন তিনি।

মায়ের সঙ্গে কাটানো সময়ে কোন স্মৃতির কথা মনে পড়ে- জানতে চাইলে হামিন বলেন, ''মায়ের কাছে প্রথম গান শেখা, গানটি ছিল ‘গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ’। তবে এর আগে মায়ের ‘প্রজাপতি প্রজাপতি’ গানটি আংশিক শিখেছিলাম। আট কিংবা নয় বছর বয়সে সেই গান রেকর্ড হয়েছিল। প্রথম গান শেখার কথা এখনও মনে পড়ে।  মাইলসের ৪০ বছরপূর্তি উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড ট্যুর করে ফিরেছে ব্যান্ডটি। এবার দেশে উদযাপন হবে। বিষয়গুলো নিয়েই কথা হয় হামিন আহমেদের সঙ্গে। 

মাইলসের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড ট্যুরের পরিকল্পণা কীভাবে এলো?

মাইলসের ৪০ বছরপূর্তি বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় থাকা মাইলসভক্তদের সঙ্গে উদযাপন করার একটা পরিকল্পনা আমাদের আগে থেকেই ছিল। সেই পরিকল্পণার অংশ হিসেবেই আমাদের এই ওয়ার্ল্ড ট্যুর।

মাইলস কি এবারই প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্যুর করলো?

না, মাইলসই বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ড যে যুক্তরাষ্ট্রে ফুলপেজের ব্যান্ড হিসেবে ট্যুর করে। সেটা ৯৬ সালে। তখন আমরা মাইলসে চারজন সদস্য ছিলাম। তখন  ‘প্রত্যয় অ্যালবাম বের হলো। ‘জ্বালা জ্বালা’ গানটি সবার মুখে মুখে। ডিসকো রেকর্ডিংয়ের স্পন্সরশিপে আমরা ওই সময় ওয়ার্ল্ড ট্যুর দেই। ওই সময় আমেরিকায় ৬টি শো করি। সেই থেকে শুরু। প্রতি দুই বছর অন্তর মাইলস ওয়ার্ল্ড ট্যুর দিয়ে থাকে। এছাড়া ২০১২ সালেও  আমেরিকার ৯টা সিটি ট্যুর করি। পরে ইউরোপের পাঁচটি সিটিতে ট্যুর করি। সে ট্যুরের ধারাবাহিকতা বলা যায় আমাদের এবারের ওয়ার্ল্ড ট্যুর।

এটা কি পুরোপুরি মাইলসের উদ্যোগেই? 

মাইলস পুরোপুরি নিজের উদ্যোগে এই ট্যুরের প্ল্যান করে। তবে ওখানে যাওয়ার পর অনেক ওয়ার্কিং পার্টনার পাই আমরা। 

বিদেশ ট্যুরের ক্ষেত্রে আয়োজক প্রতিষ্ঠান থাকে না?

বিদেশের মাটিতে আমাদের প্রোগ্রাম ধীরে ধীরে বাড়লেও ভালো আয়োজন করে শো করার মানসিকতা ও উদ্যোক্তা এখনও তেমন নেই। তবে ভাগ্যক্রমে আমরা ভালো কিছু প্রোমোটার পেয়েছিলাম। তারা বেশ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের একজন আমেরিকার তানভীর শাহিন, কানাডার কমল এবং অস্ট্রেলিয়ার এনাম। তাদের জন্যই ওই দেশগুলোতে মাইলসের আসল ফ্লেবার ছড়িয়ে দিতে পেরেছি। 

এবারের ওয়ার্ল্ড ট্যুরে শ্রোতাদের রেসপন্স কেমন?

এক কথায় আমরা মু্গ্ধ। আমরা প্রথম শো করি আমেরিকার নিউজার্সিতে। সেখানে আমাদের শোতে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ হয়েছিল। এতো মানুষর গ্যাদারিং দেখে সেখানকার আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী ভরকে গিয়েছিল। তবে এই শো’ আমাদের প্ল্যানের বাইরেই ছিল। তবুও করার কারণ হচ্ছে, ওখান কাউন্সিলির হচ্ছেন একজন বাংলাদেশি। সেখানে ‘বাংলাদেশ ব্লু বার্ড’ নামে একটি রাস্তা উদ্বোধন হবে মাইলসের কনসার্ট দিয়ে। বিশাল আয়োজন ছিল। আমেরিকায় বাংলাদেশ ব্লু বার্ড উদ্বোধন হবে মাইলসের মাধ্যমে- একটা আবেগ কাজ করেছে। এখান থেকেই শুরু হয় আমাদরে প্রায় সাড়ে চার মাসের যাত্রা।  প্রতিটি শোতেই ভরপুর মানুষ। 

শোতে কি ধরনের শ্রোতাদের পেয়েছেন?

বাংলাদেশ এবং ভারতের মানুষ ছিল। এর বাইরে সেখানকার মানুষও ছিল। তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তরুণরা যারা বাবা মার কাছে মাইলের গল্প শুনেছেন এবং গান শুনেছেন, কিন্তু মাইলসকে দেখেনি, তারা শোতে এসেছিলেন। গান শুনে তাদের উৎফুল্ল হওয়ার দৃশ্য আমাদেরও আনন্দিত করেছে। সাড়ে চার মাসের ট্যুরে আমাদের খাওয়া ঘুম কিছুই ঠিক মতো হয়নি, এতো ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। 

বিদেশের পর এবার দেশে কী থাকছে আয়োজনে?

৪০ বছরপূতি উদযাপন বেশ বড় করেই আয়োজন করছি আমরা। আগামী ২৫ ডিসেম্বর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেশন হলে দিনব্যাপী হবে এ অনুষ্ঠান। এতে ফিডব্যাক, সোলস, ওয়ারফেজ, ভাইকিং ও দলছুট গাইবে মাইলসকে ট্রিবিউট করে। এছাড়াও  মাইলসে ফ্যানদের কনটেস্ট চলছে তারা মাইলসের ‘নীলা’ গানটি গেয়ে পাঠাচ্ছে। তাদের মধ্য থেকে তিনজনকে বেছে নেবো আমরা। তারা মাইলসের সঙ্গে বাজানোর সুযোগ পাবে। 

৪০ বছরপূর্তি উপলক্ষে মাইলস কী নতুন গান প্রকাশ করবে?

না আপাতত নতুন গান প্রকাশ করছি না। তবে মাইলস বেশ কিছু গান তৈরি করেছে। গান প্রকাশের যে ধারা চলছে এ প্রক্রিয়াটা আমাদের পছন্দ নয়। তাই নতুন প্রক্রিয়ায় মাইলস গান প্রকাশ করবে। প্রক্রিয়াটা একেবাইরে আমাদের দেশে নতুন কিছু হবে। হয়তো অন্যরাও পরে এটা ফলো করবেন।

মাইলসের নতুন গান নেই, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পুরনো গান দিয়ে মাইলস কতটা সম্পৃক্ত হতে পারছে?

নতুন প্রজন্মের সঙ্গে আমাদের এখনও ভালো সম্পর্ক। যখন স্টেজ পারফর্ম করি তখন বুঝতে পারি। তারা মাইলসের গানে মুগ্ধ হন। আর মাইলসের গানও তো কম নয়। ১১টা অ্যালবাম প্রকাশ করেছে মাইলস। তার সবগুলো গানই প্রায় জনপ্রিয়। যখন স্টেজ শোতে গান শুরু করি তখন এই প্রজন্মের শ্রোতারা সেই গানগুলো নিজেরাই গেয়ে উঠেন। 

জাতীয় ক্রিকেট দলে ছিলেন। খেলার মাঠ ছেড়ে মাইলস নিয়ে এগিয়েছেন। সিদ্ধান্তটা কী ঠিক ছিল? 

আমি মাইলসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে হাল ধরি। তখন আমি মাইলসের হাল না ধরলে হয়তো মাইলস সেখানেই শেষ হয়ে যেতো। ওই সময়ে ক্রিকেট ছেড়ে মাইলসের হাল ধরাটা সবচেয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত ছিল আমার। সেদিন মাইসের হাল ধরেছিলাম বলেই আজ মাইলস ৪০ বছরপূর্তি উদযাপন করতে পারছে। কামাল  ও ফরিদ ভাই চলে যাওয়ার পর আর কেউ ছিল না। একটা কথা উল্লখ করতেই হয়, কামাল এবং ফরিদ আমাদের আইডল ছিলেন। অনিচ্ছা সত্বেও দেশের বাইরে চলে যেতে হয় তাদের। সেটা পারিবারিক চাপে। তারাই আমার ওপর ছেড়ে যান। পরে আমি মানামকে মাইলসে নিয়ে আসি। পরে যুক্ত করি শাফিনকে। এরপরের কথা তো সবারই জানা।

আরও পড়ুন

×